- আপলোড সময় : ১৪-১০-২০২৬ ০৬:৫৮:৫৬ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৪-১০-২০২৬ ০৬:৫৮:৫৬ পূর্বাহ্ন
সুনামকণ্ঠ ডেস্ক :: ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ কল্যাণের কাছে পাঁচ করবর্ষের বিপরীতে বকেয়া ৬৬৬ কোটি টাকার বেশি কর আদায়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। করদাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে প্রতিষ্ঠানটির করা পৃথক দুটি রিট খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায়ে এমন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে পৃথক রায় দুটি প্রকাশিত হয়। গত ১০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রিট দুটি খারিজ করেন। রায়ের ৩২ পৃষ্ঠার একটিতে আইন অনুযায়ী যত দ্রুত সম্ভব বকেয়া কর আদায়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ঢাকার সংশ্লিষ্ট কর কমিশনারসহ বিবাদীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপর ১৫ পৃষ্ঠার রায়ে বকেয়া করের বিষয়ে নোটিশ জারির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ করবর্ষ পর্যন্ত পাঁচ বছরের কর নির্ধারণ নিয়ে রিট দুটি করা হয়েছিল। গ্রামীণ টেলিকমের সঙ্গে চুক্তির আওতায় গ্রামীণফোনে বিনিয়োগ থেকে পাওয়া অর্থের ৪২ দশমিক ৬৫ শতাংশ অংশকে লভ্যাংশ আয় হিসেবে দাবি করে গ্রামীণ কল্যাণ। অন্যদিকে, কর কর্তৃপক্ষের মতে, ওই অর্থ ‘অন্যান্য উৎস থেকে আয়’ হিসেবে গণ্য করে কর আরোপ করতে হবে। রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, আয়কর অধ্যাদেশের ১২০(১) ধারায় কর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ছিল এবং যথাযথ নোটিশ ও শুনানির পরই সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। এ ছাড়া স্বীকৃত করদায় পরিশোধ না করায় গ্রামীণ কল্যাণের পুনর্বিবেচনার আবেদনও খারিজ হয়েছিল। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে হাইকোর্ট কর কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপকে বেআইনি মনে করেননি। তবে গ্রামীণ কল্যাণের দাবি, সংশ্লিষ্ট আয় থেকে প্রাপ্য কর আগেই পরিশোধ করা হয়েছিল। গ্রামীণফোন লভ্যাংশ দেওয়ার সময় উৎসে কর কেটেছিল। ফলে একই আয়ের ওপর পুনরায় কর আরোপ হলে দ্বৈত করের প্রশ্ন উঠবে। এ যুক্তিতেই প্রতিষ্ঠানটি রিট করেছিল। গ্রামীণ কল্যাণের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে। রায়ের প্রত্যায়িত অনুলিপি পাওয়ার পর লিভ টু আপিল দায়ের করা হবে। এর আগে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট রিট দুটি খারিজ করে রায় দিয়েছিলেন হাইকোর্টের অপর একটি বেঞ্চ। পরে একই বছরের ২৯ আগস্ট রায় প্রত্যাহার করা হয়। বেঞ্চের একজন বিচারক আগে এসব মামলায় সরকারপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় রায়ের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরে প্রধান বিচারপতির নির্দেশে মামলাগুলো নতুন বেঞ্চে পাঠানো হয়।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

সুনামকন্ঠ ডেস্ক