সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় আকরাম হোসেন (১৮) নামে এক যুবককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পার্শ্ববর্তী কোনাগাঁতী গ্রামের মারুফ বিন হাবিব তালুকদার নামে এক যুবক তাকে ডেকে এনে হত্যা করেছে বলে নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ।
পুলিশ রাতেই মারুফকে গ্রেপ্তার করেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় (২৩ অক্টোবর) উপজেলার কোনাগাঁতী গ্রামে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত আকরাম পার্শ্ববর্তী খোসালপুর গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে এবং পেশায় কৃষক।
সন্ধ্যায় প্রতিবেশীরা মারুফের বাড়ির আঙিনায় আকরামের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত মারুফকে গ্রেপ্তার করে। মারুফ ওই ইউনিয়নের কোনাগাঁতী গ্রামের নুর মোহাম্মদ তালুকদারের ছেলে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী।
সংশ্লিষ্ট পূর্ণিমাগাঁতী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. আছাব আলী ও স্থানীয়রা জানান, তাদের ধারণা, আকরামকে কোনোভাবে কোনাগাঁতী গ্রামে অভিযুক্ত মারুফের বাড়িতে ডেকে এনে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তারা আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের পর আকরামের মরদেহ খুনির বাড়িতে ফেলে রাখা হয়। এ ঘটনার পরও অভিযুক্ত মারুফ তার বাড়িতেই ছিলেন। পরে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ রাতে ঘটনাস্থল থেকে আকরামের লাশ উদ্ধার করে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত মারুফকে গ্রেপ্তার করে থানায় আনা হয়। বর্তমানে মারুফের পরিবারের লোকজন সবাই পালিয়ে গেছে।
নিহত আকরামের শোকার্ত বাবা আব্দুর রহিম বলেন, তার ছেলেকে কেন হত্যা করা হয়েছে, তা তিনি এই মুহূর্তে বুঝতে পারছেন না। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।
উল্লাপাড়া মডেল থানার ওসি মেহেদী হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অভিযুক্ত মারুফকে ইতোমধ্যেই গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে হত্যাকাণ্ডের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে যাতে আর কোনো সহিংস ঘটনা না ঘটে, সে জন্য ওই গ্রামে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
