মো.বেল্লাল হাওলাদার:
বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড (বিএবি)-এর উদ্যোগে ‘বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস-২০২৬’ উদযাপন উপলক্ষে মঙ্গলবার (৯ জুন) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এক বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ বছরের প্রতিপাদ্য ছিল ‘Innovation, Trust and Sustainability: The Power of Accreditation’ (উদ্ভাবন, আস্থা ও টেকসই উন্নয়ন: অ্যাক্রেডিটেশনের শক্তি)।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ডের (বিএবি) চেয়ারম্যান ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ডের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। দিবসটির প্রতিপাদ্যের ওপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি)-এর সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. তোহিদ উর রহমান।
আলোচনা সভায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান, মান ও অ্যাক্রেডিটেশন খাতের বিশেষজ্ঞ, বাণিজ্য সংগঠনের প্রতিনিধি এবং শিল্প ও ব্যবসায়ী খাতের অংশীজনরা অংশগ্রহণ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বিএবি চেয়ারম্যান মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে চায়। এ ক্ষেত্রে অ্যাক্রেডিটেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিনি বলেন, কোনো পণ্য বা সেবার গুণগত মান নিশ্চিত না হলে বাজারে আস্থা তৈরি করা সম্ভব নয়। আর সেই আস্থা প্রতিষ্ঠার অন্যতম কার্যকর মাধ্যম হলো অ্যাক্রেডিটেশন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে দেশের মান অবকাঠামোকে শক্তিশালী করতে কাজ করে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন স্বীকৃতি ও সদস্যপদ অর্জনের ফলে দেশের অ্যাক্রেডিটেড পরীক্ষাগার, পরিদর্শন ও সার্টিফিকেশন প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা ও গ্রহণযোগ্যতা বিশ্বব্যাপী বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মাধ্যমে দেশীয় পণ্য ও সেবার আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ সহজতর হচ্ছে এবং রপ্তানি বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হচ্ছে।
স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ডের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেন, এবারের প্রতিপাদ্য ‘Innovation, Trust and Sustainability: The Power of Accreditation’ বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনীতির বাস্তবতায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে প্রযুক্তিগত রূপান্তর, জটিল বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পণ্য ও সেবার প্রতি আস্থা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাক্রেডিটেশন সেই আস্থা তৈরির একটি শক্তিশালী অনুঘটক হিসেবে কাজ করে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন আইন, ২০০৬’-এর আওতায় প্রতিষ্ঠিত বিএবি জাতীয় মান অবকাঠামো উন্নয়ন ও শক্তিশালীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী অ্যাক্রেডিটেশন সেবা প্রদানের মাধ্যমে দেশের পণ্য ও সেবার মানোন্নয়ন নিশ্চিত হচ্ছে, যা ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে।
তিনি আরও বলেন, বিএবি ইতোমধ্যে এশিয়া প্যাসিফিক অ্যাক্রেডিটেশন কো-অপারেশন (APAC), ইন্টারন্যাশনাল ল্যাবরেটরি অ্যাক্রেডিটেশন কো-অপারেশন (ILAC) এবং ইন্টারন্যাশনাল অ্যাক্রেডিটেশন ফোরামের (IAF) সদস্যপদ অর্জনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এর ফলে বিএবি কর্তৃক অ্যাক্রেডিটেড প্রতিষ্ঠানগুলোর সনদ আন্তর্জাতিক বাজারে অধিক গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে, যা বৈদেশিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং ব্যবসা সহজীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বক্তারা বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, শিল্পপণ্য ও সেবার গুণগত মান নিশ্চিতকরণ, পরিবেশ সংরক্ষণ, কৃষি ও মৎস্য খাতের উন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তা, ভোক্তা সুরক্ষা এবং টেকসই শিল্পায়নের ক্ষেত্রে অ্যাক্রেডিটেশনের গুরুত্ব ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। একটি নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন অর্থনীতি গড়ে তুলতে অ্যাক্রেডিটেশনকে জাতীয় অগ্রাধিকারের বিষয় হিসেবে গুরুত্ব দেওয়ার ওপর বক্তারা জোর দেন।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা দেশের অ্যাক্রেডিটেশন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, গতিশীল ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস-২০২৬-এর সকল কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।
