আপনি যদি রহস্যের নেশায় বুঁদ হতে ভালোবাসেন, তা হলে এই ৬ বই আপনারই জন্য। চলুন একে একে দেখে নিই।

৬ বইছবি: AI
কিছু গল্প আছে, যা পড়তে বসলে আর ওঠা যায় না। রাত গভীর হয়, জ্বলতে থাকে আলো। আর আপনি পাতা উল্টে যান। কখনো গা ছমছম করে। কখনও বুক ধুকপুক করে। আবার কখনও মনে হয়, এ তো সত্য ঘটনা। আপনি যদি রহস্যের নেশায় বুঁদ হতে ভালোবাসেন, তা হলে এই ৬ বই আপনারই জন্য। চলুন একে একে দেখে নিই।
রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেননিছবি : সংগৃহীত।
একটা ছোট মফস্বল। নাম সুন্দরপুর। ছবির মতোই সুন্দর। কিন্তু প্রকৃতির শোভা ছাড়া তেমন কিছুই নেই সেখানে। তবু সবাই জানে, রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেননি। কেন আসেননি? আরও বড় প্রশ্ন, তা হলে অনেকেই কেন ছুটে আসে এই শহরে? হঠাৎ একদিন এক আগন্তুক এসে হাজির হয়। তার চালচলন অস্পষ্ট। তার উদ্দেশ্য রহস্যময়। সে যা জানতে চায়, তা জানে খুব কম মানুষ। আর যখন সত্যিটা সামনে আসে, তখন বেরিয়ে পড়ে এক রোমহর্ষক কাহিনি। মজার কথা কী জানেন? সেই কাহিনি বলার সুযোগই পাওয়া যায় খুব কম।
আট কুঠুরি নয় দরজাছবি : সংগৃহীত।
ভারতের কাছেই এক পাহাড়ি রাজ্য। সেখানে চলছে একনায়কের শাসন। শাসক নিষ্ঠুর, স্বৈরাচারী। তার বিরুদ্ধে গোপনে জ্বলছে বিপ্লবের আগুন। সেই বিপ্লবের নেতা আকাশলাল। কিন্তু প্রশাসন বিদ্রোহ দমন করল। আকাশলাল গা ঢাকা দিল। পুলিশের জাল কাটতে গিয়ে একে একে মারা গেল তার সঙ্গীরা। শেষে ধরা পড়ল আকাশলালও। তার পরে পুলিশের হেফাজতেই তার মৃত্যু হলো। জনরোষের ভয়ে চুপিচুপি তাকে কবর দেওয়া হলো। ব্যস, শেষ? না! আশ্চর্য ঘটনা ঘটল। অমর বিপ্লবী আকাশলাল আবার ফিরে এল। কী ভাবে? আট কুঠুরি আর নয় দরজার সেই অদ্ভুত রহস্যটা কী? মৃত্যুকেও কী ভাবে হারিয়ে দিল সে? শুরু থেকে শেষ, দম বন্ধ করা উত্তেজনা। এ কাহিনি যে কোনও বিদেশি থ্রিলারকেও টেক্কা দেবে।
ডট কম রহস্যছবি : সংগৃহীত।
একসঙ্গে অনেক স্বাদ চান? তা হলে এই বই আপনার জন্য। ক্রাইম, সাসপেন্স, থ্রিলার আর ভৌতিক, চার ধরনের গল্প আছে এখানে। ২০০৩ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে অনীশ দেবের চারটি বই বেরিয়েছিল। শেষ বইটি যখন প্রকাশ পায়, তখন তাঁর বয়স ৪৩। সেই ৪৩ বছরের লেখা থেকে বাছাই করা ৫৯টি লেখা ছিল ওই চার বইয়ে। এ বার চারটি বই মিলে হলো একটি নতুন বই। নাম ‘ডট কম রহস্য’। এতে আছে তিনটি উপন্যাস, পাঁচটি নভেলেট আর একান্নটি গল্প। যেন এক চারমিশেলি ডালি, পুরোটাই আপনার জন্য।
ঈশ্বর যখন বন্দিছবি : সংগৃহীত।
রুদ্রাণী আর প্রিয়ম। সদ্য বিয়ে হয়েছে দু’জনের। অফিস আর সংসার, জীবন বইছিল শান্ত নদীর মতো। হঠাৎ একদিন ঢেউ উঠল। কাজের সূত্রে রুদ্র গেল এক জমিদারবাড়িতে। সেখানে সে দেখল এক অদ্ভুত ছবি। ধ্যানে বসা এক সন্ন্যাসী। পাশে কুণ্ডলী পাকানো এক বিচিত্র প্রাণী। ড্রাগন নাকি? এ দিকে রুদ্রর বাবা, প্রখ্যাত আর্কিওলজিস্ট ডঃ সুরঞ্জন সিংহরায়, নিখোঁজ প্রায় আট বছর ধরে। এই বাড়ির সঙ্গে কি তাঁর অন্তর্ধানের কোনও যোগ আছে? শুরু হলো অদৃষ্টের সঙ্গে লুকোচুরি। কলকাতা, শহরতলি, এমনকী সুদূর ভুটান, একের পর এক রোমহর্ষক ঘটনা ঘটতে লাগল। বাবাকে খুঁজতে গিয়ে একের পর এক অবিশ্বাস্য সত্য সামনে এল। বজ্রযান বৌদ্ধধর্মের কিছু অজানা রহস্যের আভাস মিলল। আর তার ওপারে লুকিয়ে আছে এমন এক সত্য, যা অশুভ হাতে পড়লে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে গোটা মানবজাতি। সত্যিই কি ঈশ্বরকে বন্দি করা যায়? রুদ্র কি পারবে বাবাকে খুঁজে আনতে? ইতিহাস, বিজ্ঞান আর পুরাণের মেলবন্ধনে এক রুদ্ধশ্বাস অতিপ্রাকৃত থ্রিলার।
খোঁড়া ভৈরবীর মাঠছবি : সংগৃহীত।
দুই প্রাণের বন্ধু। ঘুরতে গিয়েছিল পুরুলিয়ায়। চারদিকে সবুজ বন, মনোরম পরিবেশ। কিন্তু হঠাৎ কোন ভয়ঙ্কর অভিশাপ ছোবল মারল তাদের? কলেজ স্ট্রিটের সেই রিকশাওয়ালাই বা কে? যার গা থেকে উড়ে আসে ছাইয়ের কণা! দেড়শো বছর আগে সাঁওতাল বিদ্রোহের সময় এখানে কী ঘটেছিল? ওদিকে আছে এক ভৈরবী মন্দির। গ্রাম বাংলার আর পাঁচটা মন্দিরের মতোই। শুধু একটাই তফাত। দেবীর পায়ের একটা আঙুল ভাঙা। তবু সেই মূর্তিই বসানো হয়েছিল গ্রামের মঙ্গলের জন্য। হঠাৎ একদিন সেই বিশ্বাসের আশ্রয়ে নেমে এল অশনি সংকেত। দেবীর গায়ে কার রক্ত? কেন একে একে মারা যাচ্ছে গ্রামের মানুষ? রাতে ফেরার পথে মন্দিরের মাঠে কী অপেক্ষা করে পথিকদের জন্য? কে সেই অস্ত্রধারিণী, যার আঁচলে বিষ? সে-ই কি পা টেনে টেনে ঘুরছে শিকারের খোঁজে? ইতিহাস, রোমাঞ্চ আর অলৌকিকের দুরন্ত মিশেল। প্রতি পদে গায়ে কাঁটা দেবে।
আর্কিও-মিস্ট্রিছবি : সংগৃহীত।
আর্কিওলজি আর রহস্য, এ দুয়ের সম্পর্ক ইতিহাসের মতোই পুরোনো। পৃথিবীজুড়ে ছড়িয়ে আছে হাজারও প্রত্নতাত্ত্বিক রহস্য। আজও যার সমাধান হয়নি। সেই সব রহস্যের খোঁজে এই বই আপনাকে নিয়ে যাবে নানা জায়গায়। কখনও ধু-ধু মরুভূমি, কখনও দুর্গম পাহাড়। কখনও প্রাচীনতম প্রত্নস্থল। কখনও মিশর থেকে অ্যান্টার্কটিকা, আবার কখনও মেক্সিকো থেকে ইজ়রায়েল। সবই সত্য ঘটনা। আর প্রতিটি ঘটনার পিছনে লুকিয়ে আছে এক অমীমাংসিত ধাঁধা। রহস্য কখনও পুরোনো হয় না। হোক সে জমিদারবাড়ির অন্ধকার ঘর, পাহাড়ি রাজ্যের গোপন সুড়ঙ্গ, কিংবা মরুভূমির বালির নিচে চাপা পড়া ইতিহাস। এই ৬টি বইয়ের যে কোনও একটি হাতে নিন। তার পর দেখুন, রাত কী ভাবে কেটে যায়!
