কুড়িগ্রামের উলিপুরে ১৮ শতাংশ জমি দখল, প্রাণনাশের হুমকি ও মানসিকভাবে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে তবকপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. রেজাউল করিম মন্ডল (রাজা) ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মো. আবু সাঈদ (জনী) নামের এক ব্যক্তি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জমিটি কেনার জন্য ২০০৯ সালে বায়নাপত্র করার দাবি করেছেন রেজাউল করিম মন্ডল। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন পর জমিটির মালিকানা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আবু সাঈদ জনী উল্লেখ করেন, উলিপুর উপজেলার বজরা ইউনিয়নের বাবুরহাট বাজার এলাকায় তাঁর মালিকানাধীন ১৮ শতাংশ জমি রেজাউল করিম মন্ডল, বজরা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য মো. ফয়েজ আহমেদ (ফয়েজার)সহ কয়েকজন জোরপূর্বক দখল করে রেখেছেন। অভিযোগপত্রে জমিটির খতিয়ান নম্বর ২০২৬-১০০০৩৮ ও দাগ নম্বর ৯৪৭ উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী আবু সাঈদের ভাষ্য, জমিটি উদ্ধারে উচ্ছেদ মামলা করার পর থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছেন। তাঁদের বাড়ির আশপাশে গিয়ে গালিগালাজ করা, প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখানোর অভিযোগও করেছেন তিনি। এসব ঘটনায় তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবু সাঈদ অভিযোগে আরও বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কর্মকাÐে বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হচ্ছে। এ অবস্থায় অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি। অভিযোগের অনুলিপি বিএনপির রংপুর বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপি এবং উলিপুর উপজেলা বিএনপির আহŸায়ক ও সদস্যসচিবের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে তবকপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. রেজাউল করিম মন্ডল রাজা বলেন, ২০০৯ সালে খামার বজরা এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে শফিউল আজমের কাছ থেকে ১৮ শতাংশ জমি কেনার জন্য তিনি, ফয়েজ আহম্মেদ, নাজিম উদ্দিন, নুর আলমসহ মোট ১২ জন বায়নাপত্র করেন। পরে তাঁরা জমির দখল বুঝে নিয়ে নিজেদের অর্থায়নে মাটি ভরাট করে সেখানে ১২টি দোকান নির্মাণ করেন। বর্তমানে ওই দোকানগুলোতে তাঁরা ব্যবসা করছেন। তাঁর দাবি, এসব দোকানকে কেন্দ্র করেই পরবর্তী সময়ে সেখানে বাবুরহাট বাজার গড়ে ওঠে।
রেজাউল করিম মন্ডল আরও বলেন, দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও শফিউল আজম তাঁদের নামে জমিটি দলিল করে দেননি। এরই মধ্যে ২০২৬ সালের ৪ আগস্ট শফিউল আজম ওই জমি আবু সাঈদ জনীর কাছে বিক্রি করেন বলে তিনি দাবি করেন।
উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব হায়দার আলী মিঞা বলেন, জমিসংক্রান্ত বিরোধ আইনি জটিলতার বিষয়। এ ধরনের বিরোধ ব্যক্তিগতভাবে সমাধান করা সম্ভব নয়। আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যে সিদ্ধান্ত আসবে, উভয় পক্ষের তা মেনে নেওয়া উচিত।
এ বিষয়ে বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেক বলেন, বিষয়টি আইনি জটিলতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। যেহেতু উভয় পক্ষই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন, তাই এ বিরোধ ব্যক্তিগতভাবে সমাধানের চেষ্টা না করে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নিষ্পত্তি করা উচিত।
