রাখি সাওয়ান্ত আর বিতর্ক যেন একে-অপরের সমার্থক! বেফাঁস কথা বলে বিতর্কের শিরোনামে নাম লেখাতে জুড়ি মেলা ভার তাঁর। সেকারণেই আইনি জটিলতায় জড়িয়েছেন রাখি। জনৈক যুবককে ‘নপুংসক’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন। সেই চরম অপমান সইতে না পেরে আত্মঘাতী হন ওই যুবক। যার জেরে যোগীরাজ্যে রাখি সাওয়ান্তের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের হয়। শুক্রবার আদালতে সেই মামলার শুনানি হল। তবে কি এবার গ্রেপ্তারির মুখে বিতর্কিত অভিনেত্রী?
একাধিকবার হাজির এড়ানোয় গত ১৬ অক্টোবর রাখি সাওয়ান্তের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য পরোয়ানা জারি করেছিল আদালত। এরপরই তাঁর আইনজীবী এলাহাবাদ হাই কোর্টের আদেশনামা দেখিয়ে সেটা বাতিলের আবেদন জানান। এবার রাখি সাওয়ান্তের বিরুদ্ধে জারি হওয়া জামিন অযোগ্য পরোয়ানা বাতিল করল আদালত। তবে এবারের শুনানিতে সাময়িক স্বস্তি পেলেও, রাখি সাওয়ান্তের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা খারিজ হয়নি।
ঘটনা ২০১০ সালের। সেসময়ে টেলিভিশনের পর্দায় ‘রাখি কা ইনসাফ’ নামে এক শো সম্প্রচারিত হত। দাম্পত্য কলহের সমাধানের জন্য লক্ষ্মণ আহিরওয়ার নামে এক যুবক স্ত্রীকে নিয়ে ওই শোয়ে যোগ দিয়েছিলেন। সেখানেই সঞ্চালক রাখি তাঁকে ‘নপুংসক’ বলে কটাক্ষ করেন। লক্ষ্মণের পরিবারের অভিযোগ, শোয়ের ওই পর্বের অংশ সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পরই অবসাদে ডুবে যান তিনি। এবং পরবর্তীতে অতিরিক্ত মদ্যপান করা শুরু করেন। লক্ষ্মণ আত্মঘাতী হওয়ার পরই রাখি সাওয়ান্তের বিরুদ্ধে ঝাঁসি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন তার মা সাবিত্রী প্রেম। তাঁর অভিযোগ, ২০১০ সালের অক্টোবরে সম্প্রচারিত ‘রাখি কা ইনসাফ’-এর একটি পর্বে রাখি সাওয়ান্ত তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে অপমানজনক ও আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করেছিলেন। তার ভিত্তিতেই ঝাঁসির আদালতে রাখি সাওয়ান্তের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলাটি দায়ের হয়।
পিটিআই সূত্রে খবর, রাখি সাওয়ান্ত বারবার আদালতে হাজিরা দিতে ব্যর্থ হওয়াতেই সম্প্রতি জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের করেছিল জেলা আদালত। যদিও আইনি জটিলতায় পড়ে এখনও পর্যন্ত মুখ খোলেননি রাখি সাওয়ান্ত। বলিউডের পিচে কেরিয়ার পোক্ত নাহলেও বিতর্কে পালে হাওয়া তুলেই চর্চার শিরোনামে থাকেন রাখি। বিতর্কিত মন্তব্য আর অদ্ভূত কাণ্ডকারখানার জেরে একাধিকবার সমালোচনার শিকার হয়েছেন। এবারও এক অতীত মন্তব্যের জেরে আইনি জটিলতায় ভুগতে হচ্ছে তাঁকে।
