আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে অস্থির পরিস্থিতিতে ক্ষতির মুখে পড়েছে পাহাড়ের পর্যটন অর্থনীতি। শারদীয় দুর্গাপূজার টানা ছুটিতে সাজেকের রিসোর্ট–কটেজে পর্যটকদের বুকিং থাকলেও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় অনিশ্চয়তায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। নিরাপত্তার কারণে সাজেক পর্যটন কেন্দ্র সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করায় বিপাকে পড়েছেন পর্যটকেরাও। বাতিল হচ্ছে হোটেল–রিসোর্টের বুকিং, বন্ধ হয়ে পড়েছে পর্যটকবাহী পরিবহন। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন পর্যটনসংশ্লিষ্টরা।
আসন্ন দুর্গাপূজার দীর্ঘ ছুটিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাজেক ও খাগড়াছড়িতে পর্যটকদের আসার কথা ছিল। কিন্তু পর্যটন মৌসুম শুরুর আগেই আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফ ও জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সাজেক থেকে জনসংহতি সমিতির সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে গত রোববার সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করে ইউপিডিএফ–সমর্থিত দুই সংগঠন সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি। অবরোধের কারণে দুর্ভোগে পড়েন সাজেকে বেড়াতে যাওয়া পর্যটকেরা। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনুরোধে শর্তসাপেক্ষে দুই দিনের জন্য অবরোধ প্রত্যাহার করা হলেও নিরাপত্তা শঙ্কায় সাজেক পর্যটন কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় গতকাল মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার মধ্যে পর্যটকদের সাজেক ত্যাগ করতে বলা হয়। তবে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে না জেনে সাজেকে বেড়াতে এসে বিপাকে পড়েন অনেক পর্যটক। ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়েছে পর্যটক পরিবহন খাতেও। পর্যটক না থাকায় আয় বন্ধ হয়ে গেছে সিএনজিচালিত টেঙিচালকসহ পরিবহনসংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের।
পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের হিসাবে, আগামী ১৪ থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত সাজেক ও খাগড়াছড়িতে অন্তত ৫০ থেকে ৬০ হাজার পর্যটকের আসার কথা রয়েছে। কিন্তু ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে পর্যটকেরা আসতে পারবেন না। এতে অন্তত ১৫ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
এদিকে খাগড়াছড়িতে এক মতবিনিময় সভায় সেনাবাহিনীর খাগড়াছড়ি রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম ওবায়দুল হক বলেন, জনগণের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সাজেক পর্যটন কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এ সময় তিনি অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার কথাও জানান।
এর আগে গত রোববার এক গণবিজ্ঞপ্তিতে সাজেক পর্যটন কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন।
