দিনশেষে সূর্য যখন পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়ে, তখন উত্তর জনপদে সীমান্তঘেঁষা জেলা দিনাজপুরে সন্ধ্যার পরই বদলাতে শুরু করে প্রকৃতি। দুপুরের খরতাপ ও তীব্র রোদ মিলিয়ে যাওয়ার পর চারপাশে নেমে আসে এক অদ্ভুত নীরবতা ও শীতলতা। রাত যত গভীর হয়, উত্তরের হিমেল বাতাস যেন কানে কানে জানিয়ে দেয় শীত আসছে।
কার্তিকের এই সময়ে দিনাজপুরে আগাম শীতের হাওয়া ছুঁয়ে গেছে পথঘাট, মাঠ-প্রান্তর ও জনপদে। দিনের বেলায় ভ্যাপসা গরম অনুভূত হলেও ভোরের সূর্য ওঠার আগেই ধোঁয়াটে কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাচ্ছে চারপাশ।
গাছের পাতা, মাকড়সার জালে ও ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশিরবিন্দু সকালের রোদে মুক্তোর মতো ঝিকমিক করে উঠছে। প্রকৃতির এমন রূপবদলে জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা।
প্রকৃতির এই পরিবর্তনের প্রভাব পড়েছে স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায়ও। দিনের গরম কমে রাতের তাপমাত্রা নেমে আসায় অনেকেই অনুভব করছেন শীতের আমেজ। শীতের আগমনে বিকেলে বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে পিঠাপুলির দোকান বসতে দেখা গেছে।
এ বিষয়ে বীরগঞ্জ উপজেলার স্থানীয় বাসিন্দা জাহিদুল বলেন, কয়েক দিন আগেও এমন গরম ছিল যে দিন-রাত ফ্যান না চললে ঘুমানোই যেত না। আর এখন রাত গভীর হলেই বেশ ঠান্ডা অনুভূত হয়। তাই রাতে ফ্যান বন্ধ করে ঘুমাতে হচ্ছে।
অন্যদিকে, ভোরের কুয়াশা উপেক্ষা করে মাঠে কাজে নামছেন কৃষি শ্রমিকেরা। জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন ভোরে কাজে বের হতে হয় তাদের।
এ ব্যাপারে কৃষিশ্রমিক রফিকুল ইসলাম বলেন, পেটের তাগিদে খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে কাজে যেতে হয়। কিন্তু এখন ভোরের দিকে ঘন কুয়াশা ও ঠান্ডার কারণে কাজ করতে বেশ অসুবিধা হচ্ছে।
দিনাজপুরের প্রকৃতিতে শিশিরভেজা ভোর, হালকা কুয়াশা আর হিমেল বাতাসের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে ঋতু পরিবর্তনের। দিনের গরম আর ভোরের শীতলতার এই উত্তরের জনপদে ধীরে ধীরে অনুভূত হচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা।
