ভারতে ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া বা এসআইআর বাতিলের দাবিতে রাজধানী দিল্লিতে পথে নেমে আটক হলেন শতাধিক বিক্ষোভকারী।
ইন্ডিয়া টুডের খবর অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুরে দিল্লিতে এসআইআর বাতিলের দাবিতে তরুণদের আয়োজিত একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা নির্বাচন কমিশন ভবনের দিকে পদযাত্রা নিয়ে যেতে চাইলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়।
এ বিক্ষোভকে ঘিরে আগে থেকেই নির্বাচন কমিশন এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছিল। ভারতীয় আইন অনুযায়ী, যে স্থানে এই ধারা জারি করা হয়, সেখানে জনসমাগমকে সীমাবদ্ধ থাকে।
খবরে বলা হয়, মিছিলটি আটকে দেওয়ার পর, বিক্ষোভকারীরা একত্রিত হয়ে একটি ‘জনসংসদ’ গঠন করেন। এই বিক্ষোভটি ছিল একটি বৃহত্তর কর্মসূচির অংশ, যার আওতায় ১ নভেম্বর পর্যন্ত ১৮টি রাজ্যের ৮৮টি শহরে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ধারাবাহিক এ বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে এরইমধ্যে মধ্য দিল্লি জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং যান চলাচলের পথে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়, শুক্রবার দুপুরে দিল্লির গোল ডাকখানার কাছে কালীবাড়ি মার্গ এবং ভাই বীর সিংহ মার্গের সংযোগস্থলে জমায়েত শুরু হয়। জাতীয় পতাকা হাতে ভিড় জমান প্রায় ১০০-১৫০ আন্দোলনকারী। তাদের হাতে ছিল এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে প্ল্যাকার্ড। জমায়েতকারীরা মিছিল করে নির্বাচন সদনের দিকে এগোতে শুরু করতেই পুলিশ আটক করে তাদের।
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে দিল্লিতে ধারাবাহিকভাবে প্রতিবাদ কর্মসূচি চলে আসছে। তরুণদের সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) পাশাপাশি বিরোধী জোট ‘ইনডিয়া’ও সমান্তরাল চাপ তৈরি করছে কেন্দ্রের উপরে। এরই মধ্যে এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরোধিতায় শুক্রবার নির্বাচন সদন অভিযানের ডাক দেয় ‘পিপল এগেনস্ট এসআইআর’ নামে এক নাগরিক জোট।
ছাত্র, কৃষক এবং সামাজিক অধিকার কর্মীদের এই যৌথ মঞ্চে শামিল হয় আইসা, এসএফআইয়ের মতো বাম ছাত্র সংগঠনগুলো। কর্মসূচিতে সমর্থন জানায় সংযুক্ত কিষান মোর্চাও।
বিক্ষোভকারীদের ঠেকাতে আগে থেকেই সতর্ক ছিল পুলিশ। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্য দিল্লি জুড়ে জোরদার করা হয়েছিল নিরাপত্তা ব্যবস্থা। শুক্রবার দুপুর ১টায় বাংলা সাহিব গুরুদ্বার, গোল ডাকখানা এবং গোল মার্কেট হয়ে নির্বাচন সদনের দিকে মিছিল করার কথা ছিল বিক্ষোভকারীদের। তার আগে থেকেই ওই চত্বরে প্রচুর পরিমাণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
পিটিআই এর খবর অনুযায়ী, আন্দোলনকারীদের মিছিল এগোতে শুরু করলে বাংলা সাহিব গুরুদ্বারের কাছে ব্যারিকেড করে তাদের আটকে দেয় পুলিশ। বাধা পেয়ে সেখানেই সিইসি জ্ঞানেশের ইস্তফার দাবিতে স্লোগান তুলতে থাকেন বিক্ষোভকারীরা। ‘ভোট চুরির’ অভিযোগ তুলেও ওঠে স্লোগান। সিপিএম নেত্রী বৃন্দা কারাতও যোগ দেন মিছিলে।
তিনি বলেন, “এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। আমাদের মূল দাবি, এসআইআর বন্ধ করা এবং ভোট চুরি আটকান। ভোট দিতে পারাটি হল একটি সাংবিধানিক অধিকার। আপনারা (কেন্দ্র) সেই অধিকারের উপর আঘাত হানছেন। প্রতিদিন নতুন নতুন প্রমাণ সামনে আসছে, তবুও আপনারা একই কাজ করে চলেছেন।”
আনন্দবাজারের তথ্যৗ বরছে, নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ কার্যপদ্ধতি নিয়ে বিতর্কের মধ্যে শুক্রবার আরও এক তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। তথ্যের অধিকার আইন (আরটিআই)-এ করা এক প্রশ্নের জবাবে জানা গিয়েছে, কমিশনের সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার মণীশ গর্গের কাজকর্মের ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলে ক্যাবিনেট সচিবালয়কে চিঠি দিয়েছিলেন দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং এবং বিবেক জোশী।
এ অবস্থায় শুক্রবার দিল্লির রাস্তায় নির্বাচন কমিশন অভিমুখে মিছিল এবং ধরপাকড় কেন্দ্র এবং কমিশনের অস্বস্তি বৃদ্ধি করল বলে মনে করছেন অনেকে।
