ব্যান্ড ফিডব্যাকের বর্তমান সদস্যরা ছবি: সৌজন্যে
-->সময়ের সঙ্গে বদলেছে গানের ভাষা, বদলেছে প্রজন্ম। ব্যান্ডসংগীতের মঞ্চে এসেছে নতুন মুখ, নতুন ধারা। কেউ দল ছেড়েছেন, আবার কেউ যোগ দিয়েছেন নতুন স্বপ্ন নিয়ে। এভাবেই পাঁচ দশকের সংগীতযাত্রা পেরিয়েছে জনপ্রিয় ব্যান্ডদল ‘ফিডব্যাক’।
বাংলাদেশের ব্যান্ডসংগীতের ইতিহাসে দলটির নাম জড়িয়ে আছে একাধিক প্রজন্মের স্মৃতি, জনপ্রিয় গান আর মঞ্চের গল্পের সঙ্গে। সত্তরের দশকে ফিডব্যাকের যাত্রা শুরু। ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ব্যান্ডের শুরুতে নাম ছিল ‘ফিডব্যাক টুয়েন্টিথ সেঞ্চুরি’। প্রথম দিকের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন এরশাদ মঈনুদ্দিন পলি, মুরাদ রহমান, সেলিম হায়দার, কিংসলে রিক্টার, স্যান্ড্রা হফ, জাকিউর রহমান ও ফোয়াদ নাসের বাবু। হাফিজুর রহমান খোকা ছিলেন ব্যবস্থাপনায়।
শুরুর দিকে ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে ইংরেজি পপসংগীত পরিবেশন করত ফিডব্যাক। ১৯৭৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর শিল্পকলা একাডেমিতে প্রথম পাবলিক কনসার্টে অংশ নেয়। আশির দশকে বাংলা গানে মনোযোগ বাড়ে। ১৯৮১ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনের একটি অনুষ্ঠানের জন্য ‘এই দিন চিরদিন’ গানটি রেকর্ড করে তারা।
১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয় প্রথম অ্যালবাম ‘ফিডব্যাক’। এরপর আসে ‘উল্লাস’, ‘মেলা’ ও ‘জোয়ার’। ‘মেলা’ অ্যালবামের ‘মেলায় যাই রে’ গানটি বাংলা নববর্ষের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। পরে প্রকাশিত হয় ‘বঙ্গাব্দ ১৪০০’, ‘দেহঘড়ি’, ‘বাউলিয়ানা’, ‘আনন্দ’, ‘এই শতাব্দী ফিডব্যাক’ ও ‘শূন্য-২’। ২০১৫ সালে আসে ‘এখন’ অ্যালবাম।
ফিডব্যাকের ইতিহাসে মাকসুদুল হক গুরুত্বপূর্ণ নাম। লিড ভোকাল হিসেবে পরিচিতি গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখেন তিনি। ১৯৯৬ সালে ব্যান্ড ছাড়েন মাকসুদ। পরে গড়ে তোলেন ‘মাকসুদ ও ঢাকা’। বিভিন্ন সময়ে ফিডব্যাকে যুক্ত হয়েছেন পিয়ারু খান, এ জেড খান রোমেল, ওমর খালেদ রুমি, মুসা রহমান ও অন্য সংগীতশিল্পীরা।
বর্তমানে ব্যান্ডটির সদস্য ফোয়াদ নাসের বাবু (কি-বোর্ড), লাবু রহমান (গিটার), ইনাম এলাহী টন্টি (ড্রামস ও পারকাশন), রায়হান আল হাসান (ভোকালিস্ট) ও মোহাম্মদ দানেশ (বেস), রিয়াল (ভোকালিস্ট)।
প্রাপ্তির তালিকায় অগণিত শ্রোতার ভালোবাসা ছাড়াও দলটির রয়েছে দুটি উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতি। ১৯৯৫ সালে ‘যায় যায় দিন’ বেস্ট ব্যান্ড পুরস্কার পায় ফিডব্যাক। ২০১৭ সালে অর্জন করে আরটিভি বেস্ট ব্যান্ড অ্যাওয়ার্ড ২০১৬।
