- আপলোড সময় : ২৪-১০-২০২৬ ১০:০২:০০ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৪-১০-২০২৬ ১০:০২:০০ অপরাহ্ন
যদি বলা হয় দেশ কিভাবে চলছে- তাহলে বলতে হবে দেশ চলছে ‘অদ্ভুত এক উটের পিঠে’। অনেক দিন আগে এক কবি এভাবে বলেছিলেন। সন্ত্রাসীরা দিব্যি করে চলছে সন্ত্রাসী কার্যক্রম, ছিনতাইকারী প্রকাশ্য দিবালোকে করে চলছে ছিনতাই, রাতের আঁধারে ডাকাতি করে চলেছে জনাব ডাকাতেরা। এসব ঠেকাবে কে? মাগুড়ায় এক মহিলার নামে বিদ্যুৎ বিল এসেছে ৫০৬ কোটি টাকা। এমন কাজটি করেছে মাগুড়া পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি। ভুক্তভোগী গ্রাহক হচ্ছেন মাগুড়ার মোছা. আলেয়া খাতুন। মহিলার ভাগ্য ভালো যে এক সদাশয় সাংবাদিক বিষয়টি টের পেয়ে লিখে দিয়েছিলেন এক কলম সংবাদ। আর এমনি নজর কেড়েছিল দেশের সাধারণ মানুষের। শুরু হলো দেশব্যাপী তোলপাড়। শেষমেষ মাগুড়ার বিদ্যুৎ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) জনাব মো. মহিতুল ইসলাম বিষয়টি টের পেয়ে জড়িত কয়েকজনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন। আর এ বিষয়ে মোছা. আলেয়া বেগমকে ফোনকল দিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগ যে ভালো কাজটি করেছেন আর তা হলো - এই ঘটনার সাথে অবহেলার কারণে ৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছেন। অবশ্য এজন্য ধন্যবাদ পেতে পারেন মাগুড়া বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। এখন বলা যেতে পারে দেশের শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতোটা নাজুক আর অব্যবস্থাপনা হলে এমন তুঘলকি কা- ঘটতে পারে। এমন আলেয়া খাতুন দেশব্যাপী আরও বহু আছেন, যাদের কপালে দুর্ভোগের শেষ নেই। বিদ্যুৎ বিভাগের অভিযোগ কেন্দ্রে গেলে দেখা যায়, গ্রাহক পর্যায়ে মানুষ কত অসহায় হয়ে বেঁচে আছে। প্রতিদিন বিদ্যুৎ আমরা কয় ঘণ্টা পাই - আর মাস শেষে বিল ঠিকই আসে। বরং আরও ভূতুড়ে বিল আসে বহু গ্রাহকের নামে। অভিযোগ নিয়ে গেলে বলা হয় এটা কম্পিউটারের ব্যাপার আমাদের করার কিছুই নেই। গ্রাহককে বলা হয়- ‘এবার দয়া করে পরিশোধ করে ফেলুন, পরের বার ঠিক করে দেব।’ কিন্তু পরের বারও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। দেশজুড়ে গ্যাসের হাহাকার, গ্যাস নাই, চুলা জ্বলে না, যানবাহন চলে না, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি। কোথাও গিয়ে প্রতিকার নাই। বলির পাঠা হয়েছে দেশের মানুষ। সার নিয়ে কেলেঙ্কারি হয়েছে সব দেখেছি নিজের চক্ষে এবং সংবাদপত্রের পাতায়। এটি কি সভ্য দেশের কোনো নমুনা? বিভিন্ন স্থানে দখল, চাঁদাবাজি, হত্যা, খুন, ধর্ষণ চলছে সমানভাবে। চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য কতদূর পৌঁছেছে একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করছি শুধু। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অক্টোবরের প্রথম দিকে ৫জন শিক্ষকের কাছে ‘সর্বহারা’ পরিচয়ে চাঁদা দাবি করেছে একটি গ্রুপ। শুধু তাই নয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চাঁদা না দিলে সবাইকেই হত্যার হুমকিও দেয়া হয়েছে। প্রশাসন কি ব্যবস্থা নিয়েছে বাকিটা আমরা জানতে পারিনি। হত্যার হুমকি দেওয়া এবং চাঁদা চাওয়া ৫ জন শিক্ষক হচ্ছেন- ১. ইংরেজি বিভাগের আব্দুল্লাহ আল্ মামুন, ২. গণিত বিভাগের গৌর চন্দ্র পাল, ৩. সমাজ কল্যাণ বিভাগের জান্নাতুল ফেরদৌস, ৪. নাট্যকলা বিভাগের শাহরিয়ার হোসেন ও ৫. একই বিভাগের কৌশিক সরকার। যারা ফোন করেছেন তারা দাবি করেছেন তাদের সহকর্মীরা বর্তমানে জেলখানায় রয়েছেন তাদেরকে জেল থেকে বের করে আনতে উকিল এবং অন্যান্য খরচ লাগবে। এরা পরিচয় দিয়েছে সিরাজ শিকদারের ছোটভাই হিসেবে। চাঁদা দাবির এক পর্যায়ে নাট্যকলা বিভাগের অধ্যাপক শাহরিয়ার হোসেনের নিকট এই বলে হুমকি দিয়েছেন যে, “জনাব আপনার নিকট শুধু চাঁদা চেয়েছে মাথায় তো আর রিভালবার ধরি নাই। দাদা ফোন করবে টাকা ম্যানেজ করে রাখবেন।” এই সংবাদটি গত ১ অক্টোবর ২০২৬ দৈনিক প্রথম আলোসহ আরও অনেক পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। এটি মাত্র একটি ঘটনা। সারাদেশে আরও কত ঘটনা ঘটছে তা ক’জন আমরা জানি? ক’টি সংবাদইবা পত্রিকার পাতায় আসে। অনেকে আছেন প্রাণভয়ে দাবিকৃত চাঁদাবাজদের সাথে সমন্বয় করে কিছু টাকা তাৎক্ষণিকভাবে দিয়ে জীবন ও প্রতিষ্ঠান বাড়িঘর রক্ষা করেন। তাদের ঘরে কলেজ পড়–য়া উপযুক্ত ছেলেমেয়ে আছে, তাদের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে তাই তারা অসহায়। পুলিশকে জানিয়ে সব সময় শেষ রক্ষা হয় না। পুলিশ র্যাব সংখ্যায় কতজন? তারা প্রতি ঘরে গিয়ে গিয়ে পাহারা দিতে পারবে কি? অনেক সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারা বাহিনীর কিছু সদস্যও এমন ঘৃণিত কাজে জড়িত হয়ে থাকে। সম্প্রতি ঢাকার এক তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীকে আদালত থেকে বের করে এনে জেলখানায় নেওয়ার পথে দায়িত্বরত দারোগা নিজে দায়িত্ব নিয়ে ছেড়ে দিয়েছেন বলে সংবাদপত্রে খবর বেরিয়েছে। এমন ঘটনা এই বলে জানান দেয় যে, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা দুর্বল। ধর্ষণের ঘটনা বলে তো শেষ করা যাবে না। ঘরে বাইরে রাস্তায় বাস এমনকি ট্রেনে পর্যন্ত ধর্ষণের ঘটনা অহরহ ঘটে চলেছে। এসব কিছু প্রমাণ করে দেশে আইনের শাসন কোথায়? পুলিশ যথেষ্ট কষ্ট করে আসামি ধরে কোর্টে দিয়ে কোর্ট ছেড়ে বাইরে আসার সাথে সাথেই জামিন হয়ে যায়। জামিনে এসেই আবার সেই কাজ। হুমকি ধমকি তো আছেই।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স

সুনামকন্ঠ ডেস্ক