বিচ ফুটবল প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী পর্যটন কার্নিভাল। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় ডিসি পার্ক-সংলগ্ন সৈকতের জিরো পয়েন্টে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন।
উৎসবকে কেন্দ্র করে কুয়াকাটায় লক্ষাধিক পর্যটকের সমাগম ঘটেছে।
শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে সৈকত ও আশপাশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর-১ আসনের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুলতানা জেসমিন জুঁই এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামানসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
শুক্রবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিচ ফুটবল প্রতিযোগিতায় মোট চারটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে অংশ নেয় আটটি দল। বিকালে লেম্বুর বনে ঘুড়ি উৎসব ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং রাতে তারকা শিল্পীদের অংশগ্রহণে কনসার্টের আয়োজন করা হয়। শনিবারও দিনভর নানা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।
কার্নিভাল ঘিরে কুয়াকাটার সৈকত, ঝাউবাগান, লেম্বুর বন, গঙ্গামতি ও লাল কাঁকড়ার চরসহ বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকদের উপস্থিতি বেড়েছে। সৈকতে গোসল, খেলাধুলা, ছবি তোলা ও সমুদ্রের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন বিভিন্ন বয়সি পর্যটক। উৎসবের আয়োজন বাড়তি আনন্দ যোগ করেছে তাদের ভ্রমণে।
পর্যটকদের ব্যাপক সমাগমে কুয়াকাটার অধিকাংশ আবাসিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টের কক্ষ আগেই বুকিং হয়ে গেছে। ফলে বুকিং ছাড়া আসা পর্যটকদের কেউ কেউ কক্ষসংকটে পড়ছেন।
এদিকে পর্যটকদের ভিড়কে কেন্দ্র করে কিছু হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং খাবার ও পরিবহণের ক্ষেত্রে বাড়তি দাম নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ৭০০ সদস্য মোতায়েন রয়েছেন।
ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক নাজমুল হাসান যুগান্তরকে জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ, নৌ-পুলিশ, থানা-পুলিশ ও সাদা পোশাকের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এ কার্নিভালে বিচ ফুটবল, বিচ ম্যারাথন, ঘুড়ি উৎসব, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, পুঁথিপাঠ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বাউল গান, ভলিবল, সেলিব্রিটি বিচ ক্রিকেট, ফ্যাশন শো ও আতশবাজি প্রদর্শনীসহ নানা আয়োজন রাখা হয়েছে। উৎসবের মাধ্যমে পর্যটকদের বিনোদনের পাশাপাশি কুয়াকাটার পর্যটন শিল্পের প্রসার এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি সঞ্চারের প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।