এসএসসি-২০২৬ পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য চলতি বছর বিশেষ সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা আয়োজনের দাবি জানিয়েছে ‘এসএসসি-২০২৬ শিক্ষার্থী অধিকার আন্দোলন বাংলাদেশ’। এই পরীক্ষা আয়োজন সম্ভব না হলে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি এবং পরবর্তী বছর কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ঢাকা রির্পোটার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীদের পক্ষে ঢাকা বোর্ড থেকে পরীক্ষার্থী আল-আমিন ইসলাম তামিম লিখিত বক্তব্যে বলেন, “এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার কারণে অনেক শিক্ষার্থী হতাশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। এতে আমাদের মধ্যে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশোনা শুরু করা এবং ভবিষ্যৎ শিক্ষার পরিকল্পনা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতা রক্ষায় সরকারকে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।”
সংগঠনটির পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে চলতি বছর বিশেষ সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা আয়োজন, পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবণ্টনসহ প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রকাশ, পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা ও দ্রুত ফল প্রকাশ এবং উত্তীর্ণদের একই শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ব্যবস্থা করা।
এছাড়া চলতি বছর বিশেষ পরীক্ষা আয়োজন সম্ভব না হলে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা এবং পরবর্তী বছর কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিশেষ পরীক্ষার সিলেবাস, প্রশ্নপদ্ধতি, মূল্যায়ন পদ্ধতি ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণের যোগ্যতা সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশনা প্রকাশ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সময় দিয়ে পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ এবং দ্রুত ফল প্রকাশের ব্যবস্থা করতে হবে। এতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা একই শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ পাবে।
সংগঠনটির বক্তব্য, একটি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া মানেই কোনো শিক্ষার্থীর মেধা ও সম্ভাবনা শেষ হয়ে যাওয়া নয়। শিক্ষার্থীদের ঘাটতি পূরণ এবং নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। এজন্য শিক্ষার্থীদের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে মানবিক ও শিক্ষাবান্ধব সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোর প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, তাদের আন্দোলন সংঘাত বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য নয়; বরং শিক্ষার্থীদের ন্যায্য সুযোগ ও শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতা রক্ষার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। এ বিষয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকদের সহযোগিতাও চাওয়া হয়।
