মাদককারবারীরা বড় সিন্ডিকেট কিংবা অভিনব কৌশল অবলম্বন করলেও তাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি টেকনাফ ও উখিয়া সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালান সম্পর্কে তথ্য দিয়ে বিজিবিকে সহযোগিতা করার জন্য স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানান।
টেকনাফ ও উখিয়ায় পৃথক অভিযানে ৪ লাখ ৬০হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে বিজিবি। এ সময় ৪ জন মাদককারবারীকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি পিকআপ ও একটি মোবাইল ফোন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল ১১ টায় উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) কার্যালয়ের মিডিয়া হলরুমে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম।
বিজিবি জানায়, সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত ৮টা ১০ মিনিটের দিকে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের মৌলভীবাজার থেকে চট্টগ্রামগামী একটি ডাবল কেবিন পিকআপ হোয়াইক্যং চেকপোস্টে পৌঁছালে কর্তব্যরত বিজিবি সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে পিকআপটিতে তল্লাশি চালিয়ে পেছনের সিটের কভারের নিচে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা ১ লাখ ২০হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এসময় পিকআপের চালক মো. সাইফুল ইসলাম (৩১)কে আটক করা হয়। তিনি চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানার গোসাইল ডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা। অভিযানে ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত পিকআপ ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
অন্যদিকে, একই রাত ৯টার দিকে উখিয়ার পালংখালী চৌকির একটি বিশেষ টহল দল সীমান্তবর্তী উলুবুনিয়া মাঝের কাঠি এলাকায় বেড়িবাঁধের ওপর তিন ব্যক্তিকে পোটলা হাতে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেখে। বিজিবি সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করলে তারা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। পরে ধাওয়া করে তিনজনকে আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন- উখিয়ার কাটাখালের রাসেল (২৩), একই এলাকার শাকিল (২২) এবং উখিয়ার ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি-ব্লক-১-এর বাসিন্দা খাইরুল আমিন (২৪)।
পরে তাদের বহন করা পোটলায় তল্লাশি চালিয়ে খাকি রঙের প্যাকেটে মোড়ানো নীল রঙের ৩৪টি কার্টন থেকে ৩লাখ ৪০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
বিজিবি জানায়, পৃথক অভিযানে ৪ লাখ ৬০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। মাদককারবারীরা বড় সিন্ডিকেট কিংবা অভিনব কৌশল অবলম্বন করলেও তাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি টেকনাফ ও উখিয়া সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালান সম্পর্কে তথ্য দিয়ে বিজিবিকে সহযোগিতা করার জন্য স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানান।
