Published on
:
2 min read
এই সময়, হিলি: মাঝে শুধু একটা কাঁটাতারের বেড়া। এ পারে দক্ষিণ দিনাজপুরের হিলির ধলপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের পূর্ব গোবিন্দপুর গ্রাম। ও পারে বাংলাদেশের বাসুপাড়া। কাঁটাতার দু’দেশকে ভাগ করেছে ঠিকই, কিন্তু ভাগ করতে পারেনি দুর্গাপুজোর আবেগ। হিলি থানার পূর্ব গোবিন্দপুর গ্রামের দুর্গাপুজো তাই শুধু পুজো নয়, একটা মিলনমেলা। দুই বাংলার বন্ধুত্বের, সম্প্রীতির প্রতীকও বটে। ওপার থেকেও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষরা এপারে এসে একসঙ্গে ভোগ রান্না করতেন।
এখন ছবিটা বদলেছে। দু’বছর ধরে দু’দেশের সম্পর্কের টানাপড়েন আর সীমান্তের কড়াকড়িতে অবাধ যাতায়াত বন্ধ। কিন্তু টানটা রয়ে গেছে আগের মতোই। ও পারের বাসিন্দারা এখনও পুজোর সময়ে ঢাকের বাদ্যি শুনে নিজের গাছের ফল, ফুল, আনাজ পাঠিয়ে দেন এ পারে, মায়ের ভোগের জন্য। কেউ আসতে না পারলে কাঁটাতারের ওপার থেকেই হাতজোড় করে মাকে প্রণাম করে যান। এই পুজোর বয়স কম নয়। ১৯৫৩-য় শুরু করেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা শ্রীনাথ মণ্ডল। তখন একেবারে জিরো পয়েন্টে, অস্থায়ী মন্দিরে পুজো হতো। পরে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নির্দেশে মণ্ডপ সরিয়ে আনা হয় ভারতীয় ভূখণ্ডের ২০ মিটার ভিতরে। সেই থেকেই চাঁদা তুলে পুজো চালিয়ে আসছেন গ্রামের মানুষ। চোখ ধাঁধানো আলো নেই। আছে শুধু ঐতিহ্য। পুজোর ক’দিন বিএসএফও খানিকটা নরম হয় মানবতার খাতিরে। নির্দিষ্ট সময় মেনে যাতায়াতের সুযোগ মেলে। আগে কীর্তন, যাত্রা, নাটক হতো। এখন যাত্রা বন্ধ, কিন্তু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। প্রতিমা তৈরি হয় এ পারেই, স্থানীয় মৃৎশিল্পীর হাতে।
পুজো কমিটির সম্পাদক অতুলচন্দ্র মণ্ডল বলেন, ‘সরকারি নিয়ম মেনেই পুজো হয়। পুজোর সময়ে বিএসএফের নজরদারি বাড়ে। আমাদের সময় মেনে চলতে হয়। তবে এই ক’টা দিন একটু ছাড় পাওয়া যায়।’ বাংলাদেশের বাসুপাড়া গ্রামের তসিরউদ্দিন মণ্ডল ও মইনুদ্দিন মণ্ডল বললেন, ‘আগে আমরা সবাই মিলে যেতাম। এখন একসঙ্গে যেতে পারি না। তবে পুজোর সময়ে দু’এক জন যাই। বেশিক্ষণ থাকতে পারি না।’
