জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) খেলতে ঢাকা থেকে রাজশাহী যাওয়ার পথে বিপাকে পড়েন রাজশাহী বিভাগের ক্রিকেটাররা। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কাভার্ডভ্যানে বহন করা ৫৪টি লাগেজের মধ্যে আটটি উধাও হয়ে যায়। নিখোঁজ লাগেজগুলোতে ছিল দামি আইফোন, নগদ তিন লাখ টাকা, মার্কিন ডলার, পাসপোর্ট, ম্যাসাজ বেল্টসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ অধিকাংশ মালামাল উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় কাভার্ডভ্যান চালক সজীব হোসেনকে আটক করা হয়েছে।
ঘটনাটি সামনে আসার পর ক্রিকেটারদের মালামাল পরিবহনের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এতগুলো লাগেজের মধ্যে নির্দিষ্ট আটটি কীভাবে নিখোঁজ হলো, যাত্রাপথে সেগুলোর অবস্থান সম্পর্কে কারা দায়িত্বে ছিলেন এবং কখন মালামাল হারানোর বিষয়টি ঘটেছে-এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়!
জাতীয় ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচ শেষে ঢাকা থেকে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা হয়েছিল দলটি। বুধবার সকালে রাজশাহীতে পৌঁছে হোটেলে লাগেজ নামানোর সময় ক্রিকেটাররা দেখতে পান, মোট ৫৪টি লাগেজের মধ্যে আটটি নেই! এরপর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।
নিখোঁজ লাগেজগুলোতে শুধু পোশাক বা ব্যক্তিগত ব্যবহার্য জিনিসপত্রই ছিল না, ছিল অর্থ, গুরুত্বপূর্ণ নথি ও দামি ক্রীড়াসামগ্রীও। ফলে ঘটনাটি ক্রিকেটারদের জন্য আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করে!
খোয়া যাওয়া লাগেজগুলোর মধ্যে ক্রিকেটার এসএম মেহেরাব হোসেনের লাগেজে ছিল একটি আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স, ৩০০ মার্কিন ডলার, নগদ তিন লাখ টাকা, পাসপোর্ট, পারফিউম ও জামাকাপড়।
ক্রিকেটার আব্দুল কাদেরের লাগেজে ছিল প্রায় ৬০ হাজার টাকা মূল্যের বিশেষ ম্যাসাজ বেল্ট ও পোশাক। মোহর শেখ অন্তরের লাগেজে ছিল দামি জেবিএল স্পিকার। ক্রিকেটার মো. ওয়ালিদসহ অন্যদের লাগেজেও ছিল প্রয়োজনীয় পোশাক ও ক্রীড়াসামগ্রী।
তবে সব নিখোঁজ সামগ্রীর মোট আর্থিক মূল্য কত, উদ্ধার হওয়া মালামালের পূর্ণাঙ্গ তালিকা কী এবং কোন কোন জিনিস এখনো বাকি রয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর নাটোর ও রাজশাহী জেলা পুলিশ যৌথ অভিযান চালায়। বিসিবির এক কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খোয়া যাওয়া মালামালের সিংহভাগ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় কাভার্ডভ্যান চালক সজীব হোসেনকে আটক করা হয়েছে। বাকি মালামাল উদ্ধারে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
বিসিবির এক কর্মকর্তা বলেন, 'বিসিবি ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছে। নাটোর ও রাজশাহী জেলা পুলিশ যৌথ সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ইতোমধ্যেই খোয়া যাওয়া মালামালের সিংহভাগ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। আটক চালক সজীবকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করে বাকি মালামাল উদ্ধারে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।'
চালককে আটকের মধ্য দিয়ে তদন্তে অগ্রগতি এলেও কীভাবে লাগেজগুলো উধাও হয়েছিল, তা এখনো পরিষ্কার নয়। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না, মালামাল কোথায় রাখা হয়েছিল এবং উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর বাইরে আর কিছু নিখোঁজ রয়েছে কি না, সেসব বিষয়ও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
একটি কাভার্ডভ্যানে ৫৪টি লাগেজ পরিবহনের সময় সেগুলোর হিসাব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কার ছিল, তা জানা জরুরি। লাগেজ হস্তান্তরের সময় তালিকা যাচাই করা হয়েছিল কি না, যাত্রাপথে গাড়ি কোথাও থেমেছিল কি না এবং মালামাল পরিবহনে নজরদারির ব্যবস্থা ছিল কি না-এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেলে ঘটনার প্রকৃতি আরও পরিষ্কার হবে।
তবে এসব বিষয়ে এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে নিরাপত্তাব্যবস্থায় অবহেলা ছিল কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলার সুযোগ নেই। তদন্তে ঘটনার সময়রেখা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা পরিষ্কার হওয়াই এখন গুরুত্বপূর্ণ।
আগামী ১৮ অক্টোবর রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে চট্টগ্রাম বিভাগের বিপক্ষে মাঠে নামবে রাজশাহী বিভাগ। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে খোয়া যাওয়া মালামালের অধিকাংশ উদ্ধার হওয়ায় দলের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
তবে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ নিষ্পত্তি এখনো বাকি। নিখোঁজ সব মালামাল উদ্ধার, ঘটনার কারণ নির্ধারণ এবং ভবিষ্যতে ক্রিকেটারদের মালামাল পরিবহনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো এখন গুরুত্ব পাচ্ছে। দ্রুত উদ্ধার অভিযান স্বস্তি দিলেও, কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল-তার স্পষ্ট উত্তর পাওয়া জরুরি!
