যৌন সংবেদনশীলতায় কেবল মস্তিষ্ক নয়, সক্রিয় ভূমিকা রাখছে মেরুদণ্ডও
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->যৌন উদ্দীপনা ও শারীরিক অনুভূতি নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘদিন ধরে কেবল মস্তিষ্কের ভূমিকা প্রধান বলে মনে করা হলেও সাম্প্রতিক গবেষণায় জানা গেছে, মেরুদণ্ডেরও অত্যন্ত সক্রিয় ও স্বশাসিত ভূমিকা রাখে।
এতদিন সবাই কমবেশি জেনে এসেছে যৌন উদ্দীপনা, আকর্ষণ এবং শারীরিক আকাঙ্ক্ষার মতো বিষয়গুলোতে মস্তিষ্কেরই একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ। কামোত্তেজনা বা যৌনতার মূল চালিকাশক্তি আমাদের মস্তিষ্ক। অন্যদিকে মেরুদণ্ড কেবল মস্তিষ্কের নির্দেশ পালনকারী একটি নিষ্ক্রিয় মাধ্যম মাত্র।
তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও নিউরোসায়েন্সের সাম্প্রতিক এক যুগান্তকারী গবেষণা এই পুরনো ধারণা ও টপ-ডাইন থিওরির মোর ঘুরিয়ে দিয়েছে। পর্তুগালের বিশ্ববিখ্যাত চাম্পালিমদ ফাউন্ডেশন এর এক দল গবেষক প্রমাণ করেছেন যে, আমাদের মেরুদণ্ড কেবল মস্তিষ্কের বার্তাবাহক নয় বরং এটি সরাসরি মানুষের যৌন উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ, স্পর্শের অনুভূতি প্রসেসিং এবং যৌনতার পুরো ছন্দ বজায় রাখতে অত্যন্ত সক্রিয় ও স্বাধীন ভূমিকা পালন করে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞানীরা দেখতে চেয়েছিলেন যৌন মিলনের সময় শরীরের কোন স্নায়বিক সার্কিটগুলো সক্রিয় ভূমিকা রাখে। এক্ষেত্রে তারা পুরুষ ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা চালান। কারণ স্তন্যপায়ী প্রাণীদের যৌন আচরণের সিকোয়েন্স মানুষের সঙ্গে অনেকটাই সামঞ্জস্যপূর্ণ।
অনুসন্ধানে গবেষকরা মেরুদণ্ডের নিচের অংশে একগুচ্ছ বিশেষ নিউরনের সন্ধান পান যেগুলোকে বলা হয় গ্যালানিন-এক্সপ্রেসিং নিউরন বা গ্যাল প্লাস নিউরন। বিজ্ঞানীরা দেখান এই গ্যাল প্লাস নিউরনগুলো সরাসরি পুরুষাঙ্গের গোড়ায় থাকা বিশেষ পেশি বাল্বোস্পঞ্জিওসাস পেশী (বিএসএম) এর মোটর নিউরনের সঙ্গে যুক্ত যা বীর্য বা শুক্রাণু নিঃসরণের জন্য সরাসরি দায়ী। প্যাচ-ক্ল্যাম্প ইলেক্ট্রোফিজিওলজি প্রযুক্তির মাধ্যমে তারা এটাও প্রমাণ করেন যে এই নিউরনগুলো গ্লুটামেট নামক নিউরোট্রান্সমিটার ব্যবহার করে সরাসরি যৌন পেশিকে সংকুচিত করে।
গবেষণাটির সবচেয়ে চমকপ্রদ আবিষ্কার হলো গ্যাল প্লাস নিউরনগুলো কেবল বীর্যপাতের সুইচ হিসেবে কাজ করে না বরং পুরো যৌন মিলনের সময় উত্তেজনা কেমন হবে, স্পর্শের অনুভূতি কেমন হবে এবং পুরো প্রক্রিয়ার টাইমিং কেমন হবে তাও নির্ধারণ করে। বিজ্ঞানীরা মিলনের সময় মেরুদণ্ডের ৩ টি বড় ভূমিকা স্পষ্ট করেছেন।
১) গবেষকরা গবেষণাগারে অবশ করা বা মস্তিষ্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করা ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা করে দেখান মস্তিষ্কের সিগন্যাল ছাড়াই কেবল যৌনাঙ্গে হালকা স্পর্শ দিলে মেরুদণ্ডের গ্যাল প্লাস নিউরনগুলো নিজে থেকেই সক্রিয় হয়ে ওঠে অর্থাৎ স্পর্শের তীব্রতা পরিমাপ করার ক্ষমতা মেরুদণ্ডের নিজস্ব স্নায়ু সার্কিটের রয়েছে।
২) আবার বিজ্ঞানীরা কৃত্রিমভাবে এই গ্যাল প্লাস নিউরনগুলোকে নিষ্ক্রিয় করে দেখেন পুরুষ ইঁদুরগুলোর যৌন আচরণে বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছিল। তাদের বীর্যপাতে অস্বাভাবিক দেরি হচ্ছিল এবং মিলনের স্বাভাবিক রিদম বা টাইমিং নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল।
৩) যৌন মিলনের পর শরীরের যে সাময়িক শিথিলতা বা ক্লান্তি আসে তাকে রিফ্র্যাক্টরি পিরিয়ড বলা হয়। বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন রিফ্র্যাক্টরি পিরিয়ড নিয়ন্ত্রণেও মেরুদণ্ডের এই নিউরনগুলো সরাসরি অংশ নেয়। একবার বীর্যপাত ঘটে যাওয়ার পর এই নিউরনগুলো সাময়িকভাবে আর কোনো উদ্দীপনায় সাড়া দেয় না যা শরীরকে বিশ্রামের সংকেত দেয়।
তাহলে মিলনে মস্তিষ্কের কোনো ভূমিকা নেই?
অবশ্যই আছে কিন্তু বিজ্ঞানীরা এক্ষেত্রে মস্তিষ্ক এবং মেরুদণ্ডের কার্যক্রমকে বর্ণনা করেছেন একটি যৌথ কার্যক্রম বা পার্টনারশিপ হিসেবে। সাধারণত মিলনের শুরুতে মস্তিষ্ক থেকে আসা কিছু সংকেত মেরুদণ্ডের সার্কিটকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত চেপে বা শান্ত করে রাখে যতক্ষণ না শরীর চূড়ান্ত উত্তেজনার সীমায় পৌঁছায়। যখনই যৌনাঙ্গের স্পর্শ এবং অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায় তখন মেরুদণ্ডের এই নিউরনগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে।
বিজ্ঞানীরা বলেন, যৌন মিলনের সময় পয়েন্ট অফ নো রির্টান এর সংকেত অর্থাৎ যে মুহূর্তের পর বীর্যপাত অনিবার্য তার সংকেত হয়তো মস্তিষ্ক থেকে আসে না বরং প্রোস্টেট, যৌনাঙ্গ ও মেরুদণ্ডের মধ্যকার একটি অভ্যন্তরীণ কার্যকলাপের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।
এই আবিষ্কার শুধু তাত্ত্বিক বিজ্ঞানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না এটি মানব স্বাস্থ্য, বিশেষ করে পুরুষদের যৌন চিকিৎসার ক্ষেত্রে এক বিশাল সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে।
বিশ্বজুড়ে অসংখ্য মানুষ প্রি-ম্যাচিউর ইজ্যাকিউলেশন বা বিভিন্ন ধরণের যৌন অক্ষমতার সমস্যায় ভুগে থাকেন। এতদিন ধরে এই ধরণের সমস্যার চিকিৎসায় মূলত মানসিক স্বাস্থ্য, অবসাদ বা মস্তিষ্কের হরমোনের ওপর জোর দেওয়া হতো। কিন্তু এখন যেহেতু জানা গেছে যে মেরুদণ্ডের এই গ্যাল প্লাস নিউরন সার্কিটটি যৌনতার টাইমিং এবং উত্তেজনা নিখুঁতভাবে নিয়ন্ত্রণ করে তাই ভবিষ্যতে এই নির্দিষ্ট স্পাইনাল নিউরনগুলোকে লক্ষ্য করে আরও কার্যকরী, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন এবং সুনির্দিষ্ট ওষুধ বা থেরাপি আবিষ্কার করা সম্ভব হবে। তাছাড়াও মেরুদণ্ডে আঘাতপ্রাপ্ত রোগীদের যৌন অনুভূতি ও প্রজনন ক্ষমতা ফিরিয়ে আনার চিকিৎসায়ও এই আবিষ্কার নতুন দিকনির্দেশনা দেবে।
মানব শরীর সৃষ্টির অন্যতম বিস্ময়ের একটি। গবেষকদের এই নতুন আবিষ্কার আবারও মনে করিয়ে দেয় মানবদেহ কতটা জটিল ও নিখুঁত রহস্যে ঘেরা। প্রতিনিয়ত যেন এর বিস্ময় বেড়েই চলেছে।
খাদিজা রুমি/
আরও পড়ুন
ধূমপান ত্যাগে সহায়ক হতে পারে ‘ম্যাজিক মাশরুম’: চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন সম্ভাবনা
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৮ পিএম
আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->নিকোটিন অত্যন্ত তীব্র আসক্তি সৃষ্টিকারী একটি উপাদান। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সাইকেডেলিক ড্রাগ মানুষের বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গি এবং জীবনবোধে এমন এক গভীর পরিবর্তন আনতে পারে, যা তাদের দীর্ঘদিনের ধূমপানের অভ্যাস পরিহার করতে সরাসরি সহায়তা করে।
তামাক ত্যাগ করা বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন আসক্তিগুলোর একটি। এতে বিদ্যমান নিকোটিন কোকেন এবং হেরোইনের মতোই মারাত্মক আসক্তি তৈরি করে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে তার চেয়েও বেশি। সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রায় ৭০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপায়ী ধূমপান ত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তবে যারা চেষ্টা করেন, তাদের মধ্যে প্রতি ১০ জনের মধ্যে একজনেরও কম ব্যক্তি এক বছরের মধ্যে চূড়ান্ত সাফল্য লাভ করেন।
তবে সাইকেডেলিক ড্রাগের মাধ্যমে ধূমপান পরিহারের পথ সুগম হতে পারে এমন গবেষণালব্ধ প্রমাণ ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে। ২০১৭ সালের এক সমীক্ষায় ৭৮১ জন অংশগ্রহণকারী জানান, এলএসডি, ম্যাজিক মাশরুম বা অন্য কোনো সাইকেডেলিক পদার্থের প্রভাবে তারা ধূমপান উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে অথবা পুরোপুরি ত্যাগ করতে সক্ষম হয়েছেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞানীদের মতে, এই পদ্ধতির সফলতা মূলত একটি মনস্তাত্ত্বিক ও দার্শনিক উপলব্ধির ওপর প্রতিষ্ঠিত। যারা নিকোটিনের অভ্যাস ত্যাগ করতে পেরেছিলেন, তাদের প্রায় সবাই একটি অভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করেছেন। তারা হঠাৎ অনুভব করেন যে তাদের জীবনের মৌলিক মূল্যবোধ ও অগ্রাধিকার বদলে গেছে। বিশেষ করে, ধূমপান যে তাদের জীবনে কোনো ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে না, তা তারা গভীরভাবে অনুধাবন করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যা ও আচরণগত বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এবং উক্ত গবেষণার প্রধান লেখক ম্যাথিউ জনসন বলেন, ‘অভিজ্ঞতাটির ব্যাপকতা ধূমপান ছাড়ার আগে বিদ্যমান দুর্লঙ্ঘ্য মানসিক প্রতিবন্ধকতাকে ছাপিয়ে গিয়েছিল।’
সিলোসাইবিন কীভাবে মস্তিষ্কে কাজ করে?
সাইকেডেলিক যৌগ সিলোসাইবিন মূলত মানুষের মস্তিষ্কের কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র এবং স্নায়বিক সংযোগ বা 'নিউরোপ্লাস্টিসিটি'-এর ওপর গভীর ও ইতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে। দীর্ঘমেয়াদি আসক্তিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মস্তিষ্কে বছরের পর বছর ধরে নির্দিষ্ট কিছু আচরণগত প্যাটার্ন বা অভ্যস্ততার পথ স্থায়ী রূপ নেয়, যার ফলে চাইলেও ওই চক্র থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
সিলোসাইবিন মস্তিষ্কে সুপ্ত ও শক্ত হয়ে যাওয়া কাঠামোগুলোকে এক ধরনের ‘রিসেট’ বা পুনর্গঠন করার অনন্য সুযোগ তৈরি করে। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় এবং লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের মতো বিশ্বখ্যাত চিকিৎসা গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে দেখা গেছে, অভিজ্ঞ সাইকোথেরাপিস্টদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত মনোচিকিৎসার পাশাপাশি নিয়ন্ত্রিত ও নিরাপদ মাত্রায় সিলোসাইবিন প্রয়োগ করলে রোগীদের ধূমপানের প্রতি তীব্র মানসিক তাড়না ও আসক্তি নাটকীয়ভাবে হ্রাস পায়।
আসক্তি নিরাময়ে সাইকেডেলিকসের ইতিহাস
আসক্তি উপশমে সাইকেডেলিক উপাদানের ব্যবহার বহু পুরোনো। ১৯৫০-এর দশকে মদ্যপানের চিকিৎসায় এলএসডি ব্যবহার করা হতো। এ ছাড়া এমডিএমএ অ্যালকোহল আসক্তি কমাতে এবং মধ্য আফ্রিকার ‘ইবোগা’ গুল্ম থেকে প্রাপ্ত ‘ইবোগেইন’ নামক উপাদান অপিওয়েড প্রত্যাহারজনিত শারীরিক যন্ত্রণা কমিয়ে আসক্তি কাটাতে ভূমিকা রাখে।
অধ্যাপক জনসন ২০০৬ সাল থেকে ধূমপান ত্যাগে সিলোসাইবিনের ব্যবহার নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। বাস্তবসম্মত প্রমাণের সুবিধার্থে তিনি ধূমপানকে বেছে নেন। কারণ শ্বাস ও প্রস্রাব পরীক্ষার মাধ্যমে নিকোটিনের জৈবিক উপস্থিতি খুব সহজেই ও নির্ভুলভাবে পরিমাপ করা যায়।
২০১৪ সালে প্রকাশিত তার প্রথমদিকের এক পাইলট গবেষণায় দেখা যায়, ১৫ জন দীর্ঘমেয়াদি ধূমপায়ীর মধ্যে যারা ১৫ সপ্তাহব্যাপী সিলোসাইবিন সহায়তামূলক কগনিটিভ বিহেভিওরাল থেরাপিতে অংশ নিয়েছিলেন, তাদের ৮০ শতাংশই ছয় মাস পর ধূমপান থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ছিলেন। যেখানে প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতিতে এই সাফল্যের হার সাধারণত মাত্র ৩৫ শতাংশ।
প্রচলিত চিকিৎসার তুলনায় কার্যকারিতা ও মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন
প্রচলিত পদ্ধতিতে ধূমপান ত্যাগের চেষ্টার ক্ষেত্রে দেখা যায়, প্রথম কিছুদিন সফলতা মিললেও পরবর্তী সময়ে পুনরায় ধূমপান শুরু করার হার অত্যন্ত বেশি। এর মূল কারণ হলো- প্রচলিত চিকিৎসাব্যবস্থা কেবল শারীরিক নিকোটিনের ঘাটতি মেটানোর চেষ্টা করে, কিন্তু মনের গভীরে গেঁথে থাকা মানসিক নির্ভরতাকে দূর করতে পারে না।
পক্ষান্তরে, সিলোসাইবিন থেরাপি গ্রহণকারী ব্যক্তিদের ওপর পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, এর প্রভাবে রোগীরা ধূমপানের আসল মনস্তাত্ত্বিক কারণগুলো গভীরভাবে উপলব্ধি করতে সক্ষম হন। এটি কেবল সাময়িক শারীরিক আসক্তি কমায় না, বরং ব্যক্তির মানসিক দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়ে ধূমপানের প্রতি তীব্র অনীহা তৈরি করে। দীর্ঘমেয়াদে ধূমপানমুক্ত জীবনযাপনে সহায়তা করে।
চিকিৎসকদের সতর্কতা ও নিয়ন্ত্রিত প্রয়োগের আবশ্যকতা
গবেষক ও চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে সতর্ক করে জানিয়েছেন, ম্যাজিক মাশরুম বা সিলোসাইবিন কোনোভাবেই সাধারণ ঘরোয়া উপায় বা বিনোদনমূলক উদ্দেশে সেবনযোগ্য কোনো উপাদান নয়। চিকিৎসকের কঠোর পর্যবেক্ষণ, নির্দিষ্ট ক্লিনিক্যাল প্রোটোকল এবং নিরাপদ পরিবেশ ছাড়া এর যত্রতত্র ব্যবহার অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। বিশেষ করে যাদের অতীতের কোনো গুরুতর মানসিক অসুস্থতা বা সাইকোটিক ব্যাধির ইতিহাস রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে সিলোসাইবিন মারাত্মক প্রতিকূল মানসিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। তাই এটি সম্পূর্ণভাবে গবেষণাগার ও বিশেষায়িত চিকিৎসালয়ের সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা বাধ্যতামূলক।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে এর ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও তাৎপর্য
আধুনিক মনোরোগ বিদ্যা এবং আসক্তি নিরাময় গবেষণায় সিলোসাইবিনের ব্যবহার এক বিপ্লব ঘটাতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। দীর্ঘমেয়াদি নিকোটিন আসক্তি ছাড়াও অ্যালকোহল ও অন্যান্য ক্ষতিকর মাদকাসক্তি নিরাময়েও এই পদ্ধতির কার্যকারিতা নিয়ে নিবিড় গবেষণা চলছে। গবেষণার চূড়ান্ত সফলতা, আইনি অনুমোদন এবং চিকিৎসাগত প্রমিতকরণ সম্পন্ন হলে এটি বিশ্বজুড়ে ধূমপানজনিত বিভিন্ন প্রাণঘাতী রোগ এবং অকালমৃত্যুর হার হ্রাসে একটি যুগান্তকারী ও মাইলফলক হিসেবে পরিগণিত হবে।সূত্র: বিবিসি
খাদিজা রুমি/
আরও পড়ুন
অহেতুক মন খারাপ ও শূন্যতা: কারণ শরীরের ভেতরের হরমোন ও মেকানিজম
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->কোনো দৃশ্যমান সমস্যা বা ঝামেলা না থাকা সত্ত্বেও হঠাৎ মন খারাপ হওয়া কিংবা খালি খালি অনুভূতির নেপথ্যে মানসিক কারণের পাশাপাশি শরীরের ভেতরের রাসায়নিক মেকানিজম ও হরমোনের পরিবর্তন বড় ভূমিকা পালন করে।
জীবন চলার পথে আমাদের নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। তাই সময়ে মন খারাপ থাকাটা স্বাভাবিক। কিন্তু যদি এমন হয়, কোনো সমস্যা নেই, কোনো ঝামেলা নেই তারপরও আপনার মন খারাপ বা কিছু না হারিয়েও আপনার মন খালি খালি লাগছে, তাহলে কেমন অনুভূত হয়? আমরা মনে করি আমাদের মন খারাপ হওয়ার প্রধান কারণ প্রতিদিন ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা, কিন্তু এর পেছনে শরীরের ভেতরের মেকানিজম আর হরমোন অনেক বড় ভূমিকা পালন করে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় মনের এই বিষণ্ণতা বা আনন্দহীনতার এই অবস্থাকে অ্যানহেডোনিয়া বলা হয়। যা মূলত ডিপ্রেশনের একটি অন্যতম প্রধান লক্ষণ। আমাদের মনের ভালো থাকা বা খারাপ থাকা মূলত ব্রেইনের জটিল রাসায়নিক ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে।
আরও পড়ুন
মানুষের ব্রেইনে বিলিয়ন বিলিয়ন নিউরন রয়েছে, যা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে বিশেষ কিছু রাসায়নিক উপাদানের মাধ্যমে, যাদের বলা হয় নিউরোট্রান্সমিটার।
আমাদের মেজাজ বা মুড নিয়ন্ত্রণের জন্য মূলত তিনটি হরমোন বা নিউরোট্রান্সমিটার প্রধান ভূমিকা পালন করে, সেগুলো হলো সেরোটোনিন, ডোপামিন এবং নরএপিনেফ্রিন। জীবনের সবকিছু বাইরে থেকে নিখুঁত মনে হলেও যদি কোনো কারণে ব্রেইনের এ এই হরমোনগুলোর ক্ষরণ হঠাৎ কমে যায়, তবে কোনো বাহ্যিক কারণ ছাড়াই আমাদের মন খারাপ হয়। ব্রেইনের এই রাসায়নিক পরিবর্তনের পাশাপাশি আমাদের শরীরের ভেতরের হরমোন গ্রন্থিগুলোর ভূমিকাও অপরিসীম।
মানবদেহের থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোনের সামান্য তারতম্য বা হাইপোথাইরয়েডিজম এর কারণে মানুষের মনে ক্লান্তি, অবসাদ এবং তীব্র মন খারাপের অনুভূতি তৈরি হয়। আবার একই সঙ্গে পুষ্টিবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে শরীরে ভিটামিন ডি এবং ভিটামিন বি১২ এর ঘাটতি সরাসরি আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে ভিটামিন ডি সেরোটোনিন তৈরিতে উদ্দীপনা যোগায়, তাই এর অভাব হলে মানুষের মন-মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়।
আবার হুট করেই আপনার বুকে অন্যরকম ব্যাথা শুরু হলো, আপনি মনে করলেন আপনার হয়তোবা হার্টের কোনো সমস্যা হয়েছে। তাই দেরি না করে ডাক্তারের কাছে যান। সেখানে গিয়ে ডাক্তার আপনাকে বিষণ্নতা আর খাবার হজমের, গ্যাস্ট্রিকের বা দুশ্চিন্তা কমানোর ঔষধ খেতে দিল, তখনতো আপনার মনে প্রশ্ন আসতেই পারে, অনেক টেনশনে থাকলে না হয় বুকে ব্যাথা হয় কিন্ত এর সঙ্গে খাবার হজমের কি সম্পর্ক? আর তাছাড়া আমি তো কোনো বিষয় নিয়ে দুশ্চিন্তাও করছি না তাহলে আমায় এই ঔষধগুলো খেতে দিল কেন?
এর মূল কারণ হলো নন-কার্ডিয়াক চেস্ট পেইন। মানুষের শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ সেরোটোনিন হরমোন উৎপন্ন হয় অন্ত্রে। তাই আমাদের খাদ্যাভ্যাসের সামান্য গড়মিল, কোষ্ঠকাঠিন্য বা পেটের ভেতরের মাইক্রোবায়োমের ভারসাম্যহীনতা সরাসরি ভেগাস স্নায়ুর মাধ্যমে ব্রেইনে সংকেত পাঠিয়ে মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটাতে পারে। পেট আর ব্রেইনের এই পারস্পরিক সম্পর্ককে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় গাট-ব্রেইন অ্যাক্সিস বলা হয়।
মানুষের ব্রেইনের প্রায় ৬০ শতাংশই চর্বি বা ফ্যাট দিয়ে তৈরি, যার একটি বিশাল অংশ জুড়ে আছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড, যার মধ্যে অন্যতম ডোকোসাহেক্সায়োনিক এসিড (ডিএইচএ)। যখন আমাদের শরীরে এই উপাদানের ঘাটতি দেখা দেয়, তখন মস্তিষ্কের কোষগুলোর চারপাশের সেল মেমব্রেন স্বাভাবিক নমনীয়তা হারিয়ে ফেলে, ফলে নিউরনগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান এবং স্নায়বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা মন্থর হয়।
মডার্ন নিউরোসাইন্স প্রমাণ করেছে যে, এই ফ্যাটি অ্যাসিডের অভাব সরাসরি সেরোটোনিন এবং ডোপামিনের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। ফলে ওমেগা-৩ এর অভাবে কোষের স্তরে এক ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়, যা কোনো কারণ ছাড়াই বিষণ্ণতা, একাকীত্ব বা মনের ভেতর এক গভীর খালি খালি অনুভূতির সৃষ্টি করে। আর শরীরে বা ব্রেইনে মৃদু মাত্রার দীর্ঘস্থায়ী ক্রনিক ইনফ্লেমেশন থাকলে তা সরাসরি বিষণ্ণতার সৃষ্টি করে।
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি হিসেবে এই প্রদাহ সৃষ্টিকারী উপাদানগুলোকে বাধা দেয় এবং স্নায়ুকোষের সুরক্ষা নিশ্চিত করে। একই সাথে এটি ব্রেইন-ড্রাইভড নিউরোট্রফিক ফ্যাক্টর (বিডিএনএফ) প্রোটিন এর উৎপাদন বাড়িয়ে দেয় যা ব্রেইনের নতুন কোষ তৈরি করতে এবং পুরনো কোষগুলোকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
এর বাইরে আমাদের অজান্তেই শরীরে কাজ করে দীর্ঘস্থায়ী মৃদু মানসিক চাপ। দৈনন্দিন জীবনে ঘটে যাওয়া ছোটখাটো বিষয় নিয়মিত আমাদের অবচেতন মনে জমা হতে থাকলে শরীর ক্রমাগত কোর্টিসল নামক একটি স্ট্রেস হরমোন নিঃসৃত করে। আর এই কর্টিসল হরমোনের দীর্ঘমেয়াদী উপস্থিতি মস্তিষ্কের স্মৃতি ও আবেগ নিয়ন্ত্রণকারী অংশ হিপোক্যাম্পাস এবং প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স এর কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়। যার ফলে মানুষ বাহ্যিকভাবে সুখী পরিবেশের মধ্যে থাকলেও ভেতর থেকে এক ধরণের শূন্যতা অনুভব করে।
চিকিৎসকেরা আরেকটি বিষয়কে বেশ গুরুত্ব দেন, যা হলো সিজনাল অ্যাফেক্টিভ ডিসঅর্ডার। পর্যাপ্ত সূর্যালোকের অভাবে শরীরে মেলাটোনিন হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়, যা আমাদের ঘুমের চক্র বা বায়োলজিকেল ক্লক কে ব্যাহত করে মন খারাপের দিকে ঠেলে দেয়।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, অনেক সময় মানুষ যখন তার দীর্ঘদিনের কোনো অবদমিত আবেগ বা সাবকন্শ্যাস ইমোশনাল ব্যাগিজ সচেতনভাবে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে, মস্তিষ্ক তখন ডিফেন্স মেকানিজম হিসেবে সাময়িকভাবে আবেগহীন বা খালি খালি অনুভূতি তৈরি করে।
তাই জীবনে সবকিছু ঠিক থাকার পরও মন খারাপ হলে একে অলসতা বা মনের ভুল ভেবে উড়িয়ে দেওয়া বৈজ্ঞানিক ভুল। এটি পুরোপুরি একটি জৈবিক ও স্নায়বিক প্রক্রিয়া, যা নিয়মিত সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম, ভোরের আলোতে হাঁটাচলা এবং প্রয়োজনে একজন সাইকোলজিস্টের পরামর্শের মাধ্যমে সহজেই নিরাময় করা সম্ভব।
খাদিজা রুমি/
আরও পড়ুন
নাকের পলিপ: কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৪ পিএম
ছবি এআই
-->নাকের পলিপ হলো নাক ও সাইনাসের ভেতরের নরম আবরণে তৈরি হওয়া মাংসল বৃদ্ধি। এগুলো সাধারণত নাকের দুই ছিদ্রতেই একসঙ্গে দেখা যায়। তবে এক নাকের ছিদ্রতেও হতে পারে। শুরুতে পলিপ ছোট ও টিয়ারড্রপের মতো হলেও বড় হলে খোসা ছাড়ানো আঙুরের মতো দেখায়। রং হতে পারে হালকা গোলাপি, হলদে বা ধূসর।
গবেষণায় দেখা গেছে, সাধারণ মানুষের প্রায় ৪০ শতাংশ জীবনের কোনো না কোনো সময়ে নাকের পলিপে আক্রান্ত হতে পারেন। নারীদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যে এর হার বেশি। সাধারণত ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সে এ সমস্যা বেশি দেখা যায়, তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে ঝুঁকিও বাড়ে।
নাকের পলিপের লক্ষণ
আরও পড়ুন
নাকের ভেতরে ছোট পলিপ থাকলে অনেক সময় কোনো উপসর্গই দেখা যায় না। কিন্তু পলিপ বড় হতে শুরু করলে দেখা দিতে পারে–
• নাক বন্ধ থাকা বা শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া
• নাক দিয়ে পানি পড়া
• মাথাব্যথা
• স্বাদ ও গন্ধ কমে যাওয়া বা না পাওয়া
• নাক দিয়ে রক্ত পড়া
• গলার পেছনে সর্দি জমে থাকা
• মুখ ও সাইনাসে চাপ বা ভারী ভাব
• নাক ডাকা
পলিপ খুব বড় হলে নাক ও সাইনাস পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এর ফলে হাঁপানির রোগীদের হাঁপানির মাত্রা বেড়ে যেতে পারে, বারবার সাইনাসের সংক্রমণ হতে পারে, এমনকি ঘুমের সময় শ্বাস বন্ধ হওয়ার সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
কেন নাকের পলিপ হয়
চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘদিনের নাক ও সাইনাসের প্রদাহ থেকেই মূলত নাকের পলিপ তৈরি হয়। তবে কেন কারও ক্ষেত্রে প্রদাহ থেকে পলিপ হয় আর কারও ক্ষেত্রে হয় না–তা এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। এর পাশাপাশি কিছু ঝুঁকিপূর্ণ কারণ রয়েছে। যেমন–
• হাঁপানি
• অ্যালার্জিজনিত সর্দি বা হে ফিভার
• বারবার সাইনাস সংক্রমণ
• সিস্টিক ফাইব্রোসিস
• কিছু ব্যথানাশক ওষুধে (এনএসএআইডি) অতিসংবেদনশীলতা
• পারিবারিক বা জেনেটিক কারণ
রোগ নির্ণয়
নাকের পলিপ শনাক্ত করতে চিকিৎসক প্রথমে শারীরিক পরীক্ষা করেন। বিশেষ একটি সরু ক্যামেরাযুক্ত যন্ত্র দিয়ে নাকের ভেতর দেখা হয়। পাশাপাশি রোগীর অ্যালার্জি, হাঁপানি বা সাইনাস সমস্যার ইতিহাস জানা হয়। প্রয়োজনে পলিপের আকার ও অবস্থান নির্ণয়ের জন্য সিটি স্ক্যান বা এমআরআই করা হতে পারে। অনেক সময় অ্যালার্জি পরীক্ষা করার পরামর্শও দেওয়া হয়, যাতে প্রদাহের কারণ চিহ্নিত করা যায়।
নাকের পলিপের চিকিৎসা
নাকের পলিপের চিকিৎসা নির্ভর করে রোগের মাত্রার ওপর। সাধারণত ওষুধ ও অস্ত্রোপচার–এই দুই পদ্ধতিতে চিকিৎসা করা হয়। সাধারণত ওষুধে কাজ না হলে বা পলিপ খুব বড় হলে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হতে পারে। আধুনিক চিকিৎসায় নাকের ভেতর দিয়েই এন্ডোস্কোপিক পদ্ধতিতে পলিপ অপসারণ করা হয়। এতে বাইরে কোনো কাটা দাগ থাকে না এবং রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে অস্ত্রোপচারের পরও কিছু ক্ষেত্রে পলিপ আবার ফিরে আসতে পারে।
কীভাবে ঝুঁকি কমাবেন
নাকের পলিপ পুরোপুরি প্রতিরোধ সব সময় সম্ভব নয়। তবে কিছু অভ্যাস ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। যেমন–
• চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ গ্রহণ
• ধুলোবালি, ধোঁয়া ও অ্যালার্জির কারণ এড়িয়ে চলা
• ঘরে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার
• নিয়মিত নাক পরিষ্কারের জন্য স্যালাইন স্প্রে বা রিন্স ব্যবহার
• ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা
আরও পড়ুন
জানুন দিনে কয়টি ডিম খাওয়া উচিত
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৬ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->সহজে তৈরি করা যায়, সাশ্রয়ী এবং প্রয়োজনীয় নানা পুষ্টিগুণে ভরপুর হওয়ায় সকালের নাস্তায় ডিম বেশ জনপ্রিয়। ডিম সেদ্ধ, স্ক্র্যাম্বলড কিংবা ওমলেট বানিয়ে খাওয়া যায়। এতে থাকা উচ্চমানের প্রোটিন পেশি গঠন ও ক্ষয়রোধে সাহায্য করে। পাশাপাশি এর ভিটামিন ও মিনারেল মস্তিষ্কের কার্যকারিতা, চোখের স্বাস্থ্য এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখে। যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন বা খাদ্যতালিকায় প্রোটিনের পরিমাণ বাড়াতে চান, তাদের জন্য ডিম দারুণ এক বিকল্প। তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে প্রতিদিন নিরাপদে কয়টি ডিম খাওয়া সম্ভব?
ডিম পুষ্টিকর হলেও এতে থাকা কোলেস্টেরলের কারণে অনেকেই এটি নিয়মিত খেতে দ্বিধাবোধ করেন। কেউ শুধু ডিমের সাদা অংশ বেছে নেন, আবার কেউ পুরো ডিমই খান। প্রতিদিন ডিম খাওয়ার সঠিক পরিমাণ নির্ভর করে ব্যক্তির সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রম, কোলেস্টেরলের মাত্রা এবং বিদ্যমান স্বাস্থ্যগত অবস্থার ওপর। ডিম কীভাবে শরীরে প্রভাব ফেলে তা জানা থাকলে নিজের জন্য সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করা সহজ হয়।
দিনে কয়টি ডিম খাওয়া যায়?
বেশিরভাগ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে প্রতিদিন একটি করে আস্ত ডিম খাওয়া নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর। তবে খাদ্যাভ্যাস, স্বাস্থ্যগত অবস্থা এবং পুষ্টির চাহিদার ওপর ভিত্তি করে কেউ কেউ এর চেয়ে বেশিও খেতে পারেন। নির্দিষ্ট কোনো একক সীমা সবার জন্য প্রযোজ্য নয়।
আরও পড়ুন
ডিমের কুসুমে ডায়েটারি কোলেস্টেরল থাকে। তবে খাবারের এই কোলেস্টেরল সবার রক্তে সমানভাবে প্রভাব ফেলে না। মূলত খাদ্যাভ্যাসে থাকা স্যাচুরেটেড ও ট্রান্স ফ্যাট রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএল বাড়ানোর জন্য বেশি দায়ী। তাই কেবল ডিমের সংখ্যার দিকে নজর না দিয়ে, ডিমের সঙ্গে কী খাওয়া হচ্ছে সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। প্রচুর মাখন, পনির বা প্রসেসড মিটের সঙ্গে রান্না করা ডিমের চেয়ে হোল-গ্রেন টোস্ট ও শাকসবজির সাথে সেদ্ধ ডিম খেলে বেশি পুষ্টি পাওয়া যায়।
ডিম খাওয়ার স্বাস্থ্য উপকারিতা
উচ্চমানের প্রোটিন সরবরাহ করে: ডিমে নয়টি প্রয়োজনীয় অ্যামিনো এসিডই রয়েছে, যা এটিকে একটি সম্পূর্ণ প্রোটিন উৎসে পরিণত করেছে। প্রোটিন পেশি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং দীর্ঘসময় পেট ভরিয়ে রাখতে ভূমিকা রাখে।
মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য রক্ষা করে: ডিমের কুসুমে রয়েছে কোলিন, যা মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যকারিতা, স্মৃতিশক্তি এবং স্নায়ুতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। গর্ভকালীন সময়ে ভ্রূণের মস্তিষ্কের বিকাশে এটি বিশেষ ভূমিকা রাখে।
চোখের যত্ন নেয়: ডিমে লিউটিন ও জিয়াক্সানথিন নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা রেটিনায় জমা হয়ে চোখকে সুরক্ষিত রাখে এবং বয়সের সাথে দৃষ্টিশক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে।
জরুরি ভিটামিনের জোগান দেয়: এতে ভিটামিন বি১২, ভিটামিন ডি, ভিটামিন এ-সহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে, যা শক্তি সঞ্চয়, হাড়ের গঠন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও শরীরের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় সহায়তা করে।
অতিরিক্ত ডিম খেলে কি কোলেস্টেরল বাড়ে?
ডিমের কুসুমে কোলেস্টেরল থাকায় হৃদরোগের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, ডিম খাওয়া এবং হৃদরোগের সম্পর্কের বিষয়টি বেশ জটিল। বেশিরভাগ সুস্থ মানুষের জন্য পরিমিত পরিমাণে ডিম খাওয়া পুরোপুরি নিরাপদ। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে খাদ্যের কোলেস্টেরল রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি বাড়িয়ে দিতে পারে। যাদের রক্তে এলডিএল কোলেস্টেরল বেশি, বংশগত কোলেস্টেরলের সমস্যা রয়েছে বা হৃদরোগের ঝুঁকি রয়েছে, তাঁদের ডিম খাওয়ার বিষয়ে সতর্ক হওয়া উচিত।
ডিমের সাদা অংশ কি পুরো ডিমের চেয়ে বেশি স্বাস্থ্যকর?
ডিমের সাদা অংশ প্রোটিনের একটি চমৎকার উৎস এবং এতে চর্বি বা কোলেস্টেরল প্রায় নেই বললেই চলে। তাই যারা ক্যালরি বা ফ্যাট কমিয়ে প্রোটিন বাড়াতে চান, তাঁদের জন্য এটি বেশ কার্যকর। তবে কুসুম বাদ দিলে কোলিন, ভিটামিন ডি এবং লিউটিনের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান থেকেও বঞ্চিত হতে হয়। শুধু সাদা অংশের চেয়ে আস্ত ডিম অনেক বেশি পুষ্টি সরবরাহ করে। আপনি যদি সুস্থ থাকেন এবং নির্দিষ্ট কোনো স্বাস্থ্যগত বিধিনিষেধ না থাকে, তবে ডিমের কুসুম এড়িয়ে চলার প্রয়োজন নেই।
কাদের প্রতিদিন ডিম খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা উচিত?
উচ্চ কোলেস্টেরল বা ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তি: যাদের এলডিএল কোলেস্টেরল বেশি, বংশগত রক্তসংক্রান্ত ব্যাধি বা হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি রয়েছে, তাঁদের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যতালিকা নির্ধারণ করা উচিত।
অ্যালার্জি আক্রান্ত ব্যক্তি: ডিম বা ডিমযুক্ত খাবারে যাদের অ্যালার্জি রয়েছে, সামান্য পরিমাণ খেলেও তাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া হতে পারে, তাই তা এড়িয়ে চলা আবশ্যক।
গর্ভবতী নারী: গর্ভবতী ও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ব্যাক্টেরিয়া বা খাবারের মাধ্যমে সংক্রমণ এড়াতে সবসময় ডিম ভালোভাবে সেদ্ধ বা রান্না করে খাওয়া উচিত।
সংক্ষেপে, বেশিরভাগ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য প্রতিদিন একটি আস্ত ডিম খাওয়া একটি ভালো অভ্যাস। তবে নির্দিষ্ট কোন সংখ্যার চেয়ে নিজের সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস, কোলেস্টেরলের মাত্রা এবং শারীরিক অবস্থাকে প্রাধান্য দেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
তামান্না রুপা/
