পাহাড়ের বুক চিরে আঁকাবাঁকা পথ, মেঘের লুকোচুরি আর ঝরনার কলতান—প্রকৃতির এমন অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে পর্যটকদের অন্যতম পছন্দের গন্তব্য পার্বত্য জেলা বান্দরবান। এবার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা ও প্রবারণা উৎসব উপলক্ষে টানা ছুটি ঘিরে এবারও পর্যটকদের আগমনে মুখর হয়ে উঠতে যাচ্ছে পাহাড়ি এই জনপদ। এরই মধ্যে জেলার হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে।
বান্দরবানের নীলাচল, মেঘলা পর্যটনকেন্দ্র ও শৈলপ্রপাতের মতো জনপ্রিয় গন্তব্যের পাশাপাশি দেবতাখুম, নাফাখুম ও আমিয়াখুমের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও পর্যটকদের আকর্ষণ করে। পাহাড়ের মনোরম পরিবেশে কিছুটা সময় কাটাতে এবং প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে প্রতিবছরই এসব স্থানে ভিড় করেন ভ্রমণপিপাসুরা। এবারের টানা ছুটিতে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করছেন হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট ব্যবসায়ীরা।
পাহাড়ি পথের বাঁকে বাঁকে পর্যটকদের গন্তব্যে পৌঁছে দিতে প্রস্তুত চাঁদের গাড়িও। জেলার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে যাতায়াতের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৪ শতাধিক জিপ। পর্যটকের চাপ বাড়লে যেন পরিবহনসেবায় বিঘ্ন না ঘটে, সে জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন চালকরা। দীর্ঘ ছুটিতে পর্যটকের আগমন বাড়লে পরিবহন খাতে কর্মচাঞ্চল্য ফেরার পাশাপাশি আগের ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বান্দরবান জিপ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির লাইনম্যান কামাল গণমাধ্যকে বলেন, পর্যটকদের সেবা দেয়ার জন্য ইতিমধ্যে আমরা চালক ভাইদের নিয়ে প্রস্তুত আছি। পর্যটকদের যাতায়াতের জন্য ৪ শতাধিক জিপ গাড়ি প্রস্তুত করা হয়েছে। আশা করি ছুটিতে বান্দরবান পার্বত্য জেলার প্রত্যেকটি বিনোদনকেন্দ্রে পর্যটকের সমাগম ঘটবে।
পর্যটকদের পদচারণা বাড়লে শুধু হোটেল কিংবা পরিবহন খাতেই নয়, বাড়বে রেস্তোরাঁ, খাবারের দোকান, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও পর্যটননির্ভর নানা পেশার মানুষের ব্যস্ততা। পর্যটকের আনাগোনায় স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। তবে পর্যটকের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আবাসনসংকটের আশঙ্কাও রয়েছে। তাই শেষ মুহূর্তের ভোগান্তি এড়াতে আগেভাগেই হোটেল কিংবা রিসোর্টের কক্ষ বুকিং করে আসার পরামর্শ দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
এ ছাড়াও ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আগাম বুকিং হয়েছে প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ। ছুটি যত ঘনিয়ে আসবে, বুকিং তত বাড়বে বলে প্রত্যাশা তাদের।
হোটেল গ্র্যান্ড ভ্যালির ব্যবস্থাপক সুমন বাসসকে বলেন, পূজা ও প্রবারণা উৎসবের টানা ছুটিতে পর্যটকদের বরণে তাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ইতোমধ্যে তাদের হোটেলের প্রায় ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়েছে। টানা ছুটি থাকায় এবার পর্যটকের ভালো সমাগম হবে বলে আশা করছেন তারা।
বান্দরবান হোটেল-মোটেল অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, পর্যটকদের বরণ করার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি আমরা। ব্যাপক সারা পাচ্ছি। ইতিমধ্যে হোটেল রিসোর্টগুলোতে ৭০-৮০ ভাগ বুকিং হয়ে গেছে। বান্দরবানে কক্ষ সংকটের অবস্থা পরিলক্ষিত করছি।
পর্যটকদের আগমন নির্বিঘ্ন করতে নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাড়তি সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বান্দরবানের পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার।
তিনি আরো জানান, নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় রেখে আমরা সমস্ত স্টেকহোল্ডারদের সাথে আলোচনা করেছি। প্রত্যেকটা স্পটে ভ্রমণটা যাতে নির্বিঘ্নে হয় সেটার উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।
