Published on
:
2 min read
পশুর থেকে মানুষের দেহে ভাইরাসের সংক্রমণ নতুন কিছু নয়। তবে এ বার ইউরোপে এক বিরল ও নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘শামোন্ডা ভাইরাস’। মূলত গবাদি পশুর শরীরে দেখা দেওয়া এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ফ্রান্সে প্রথম কোনও মানুষের মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে। মৃত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে জটিল রোগে (কোমর্বিডিটি) ভুগছিলেন এবং তাঁর অনাক্রম্যতা বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অত্যন্ত দুর্বল ছিল। অক্টোবরের শুরুতেই তাঁর মৃত্যু হয়। ওই রোগীর মস্তিষ্কের জটিলতার জন্য এই ভাইরাসটিকেই দায়ী করা হচ্ছে। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে ইউরোপীয় স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো।
শামোন্ডা ভাইরাস আসলে কী?
শামোন্ডা হলো একটি RNA ভাইরাস, যা মূলত ‘বাইটিং মিজেস’ বা কামড়াতে পারে এমন এক ধরনের অতি ক্ষুদ্র উড়ন্ত পোকামাকড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। এটি Orthobunyavirus এবং Peribunyaviridae গোত্রের অন্তর্গত। ১৯৬৫ সালে নাইজেরিয়ার গবাদি পশুর শরীরে প্রথম এই ভাইরাসের সন্ধান মেলে। এতদিন পর্যন্ত আফ্রিকা ও এশিয়ার কিছু অংশে গবাদি পশু (গরু, ছাগল, ভেড়া, ঘোড়া) এই ভাইরাসের দ্বারা আক্রান্ত হলেও, ২০২৬ সালের আগে কোনও মানুষের শরীরে এটি শনাক্ত হয়নি।
কী ভাবে মানুষের শরীরে ছড়ালো এই ভাইরাস?
ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজ়েশন ফর অ্যানিম্যাল হেলথ-এর তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি ইউরোপের খামারগুলোতে গবাদি পশুর মধ্যে এটি ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেন, ইতালি, বেলজিয়াম-সহ অন্তত ডজনখানেক দেশে পশুর শরীরে এর উপস্থিতি মেলে। ফরাসি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের অনুমান, পূর্ব ফ্রান্সে থৈাকার সময়ে আক্রান্ত পোকার কামড় থেকেই ওই রোগী সংক্রমিত হয়েছিলেন। তবে সাধারণ মানুষের জন্য এই ভাইরাস থেকে এখনই মহামারীর আশঙ্কা এখনও তৈরি হয়নি বলে জানানো হয়েছে।
শামোন্ডা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ
পশুদের ক্ষেত্রে এই ভাইরাসের লক্ষণগুলো বেশ স্পষ্ট। যেমন:
প্রচণ্ড জ্বর, ডায়েরিয়া ও অতিরিক্ত দুর্বলতা।
খাবারে অরুচি ও অলসতা।
গাভীদের দুধ উৎপাদনের পরিমাণ হঠাৎ মারাত্মক ভাবে কমে যাওয়া।
গর্ভবতী পশুর ক্ষেত্রে গর্ভপাত বা বিকলাঙ্গ বাছুরের জন্ম হওয়া।
কোনও কোনও ক্ষেত্রে ঘোড়ার মধ্যেও স্নায়বিক সমস্যা দেখা গেছে।
সাধারণ মানুষের কি ভয় পাওয়ার কারণ আছে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ ও সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে এই ভাইরাসের মারাত্মক রূপ নেওয়ার ঝুঁকি কম। ফ্রান্সের যে রোগীর মৃত্যু হয়েছে, তিনি আগে থেকেই গুরুতর অসুস্থ ছিলেন। ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজ়িজ় প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল (ECDC) এবং ফরাসি স্বাস্থ্য দফতর যৌথ ভাবে এই ভাইরাসের গতিবিধির উপর নজর রাখছে, যাতে এটি নতুন কোনো রূপ না নিতে পারে।