কুলদেবতা শ্যামরঘুবরের পালকি চড়ে বর্ণময় নগর পরিক্রমা।Ei Samay
Published on
:
1 min read
এই সময়, পুরুলিয়া: বিজয়া মানেই ঘট বিসর্জনের পর সিঁদুর খেলা। ঢাকের বোলে ঠাকুর থাকবে কতক্ষণ...
পুরুলিয়ার পঞ্চকোটে বিজয়া মানেই এক অন্য ঐতিহ্য— কুলদেবতা শ্যামরঘুবরের পালকি চড়ে বর্ণময় নগর পরিক্রমা। শতাব্দী প্রাচীন এই রাজবংশের পুজোয় প্রথমে রাজবংশের উত্তরপুরুষ ও পরে প্রজাদের কাঁধে চড়ে নগর পরিক্রমা করেন শ্যামরঘুবর। জিতাষ্টমীর পরের দিন আর্দ্রা নক্ষত্রের কৃষ্ণানবমী থেকে মহানবমী পর্যন্ত টানা ১৬ দিন ধরে চলা এই ঐতিহাসিক ‘ষোড়শ কল্পের পুজো’ শ্রীরামচন্দ্রের অকালবোধন ও রাবণ বধের পৌরাণিক রীতি মেনেই সম্পন্ন হয়।
বিজয়ার গোধূলি বেলায় কুলদেবতার এই নগর পরিক্রমা বা ‘বিজয়া যাত্রা’ প্রসঙ্গে সিপাহী বিদ্রোহের অন্যতম মূল চক্রী নীলমণি সিংহদেওয়ের প্রপৌত্র তথা রাজবংশের উত্তরপুরুষ সোমেশ্বরলাল সিংহদেও জানান, পঞ্চকোটের আসল রাজা হলেন কুলদেবতা শ্যামরঘুবর এবং রাজা হলেন তাঁর প্রতিনিধি। ইতিহাস গবেষকদের মতে, এই বংশের হাত ধরেই শিখরভূমে দুর্গাপুজোর প্রচলন হয়েছিল।
দেবীবাড়িতে ১৬ দিন পুজোর পরে বিসর্জনের দিন প্রতিমা পুকুরঘাটের বেদিতে আনার পাশাপাশি কুলদেবতা শ্যামরঘুবরকে পালকিতে চাপিয়ে সেখানে নিয়ে আসা হতো, যেখানে অতীতে তীরন্দাজি প্রতিযোগিতায় সফল বিজয়ীকে রাজা স্বয়ং পুরস্কৃত করতেন। মধ্যপ্রদেশের ধারানগর থেকে আগত এই রাজবংশ প্রথমে গড়পঞ্চকোট পাহাড়ের কঙ্কালী দেবীর পুজো করলেও, পরবর্তীতে কন্নড় ব্রাহ্মণ রঙ্গনাথ ভট্টকে গুরু হিসেবে নিয়ে আসার পর থেকেই শ্যামরঘুবর এই বংশের কুলদেবতা হয়ে ওঠেন এবং প্রয়াত সাংসদ বাসুদেব আচার্যও ছিলেন এই বংশেরই উত্তরসূরী।
