Published on
:
2 min read
চোরবাগান সর্বজনীনের দুর্গাপ্রতিমার মুখ ঘুরিয়ে দেওয়ার কারণেই বিপর্যয়? শনিবার দুর্ঘটনার পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকটা এমনই ইঙ্গিত দিলেন পুজো কমিটির প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সরাসরি কিছু বললেন না। তাঁর কথায়, ‘আমাদের ঠাকুর খুব জাগ্রত।’
প্রথম সপ্তমীর সন্ধ্যাতেই ভয়াবহ বিপর্যয়ের সাক্ষী থেকেছে চোরবাগান। পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের। কী ভাবে এমন ঘটনা ঘটল, সেই নিয়ে কাটাছেঁড়া চলছে। তার মধ্যেই পুরী থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেছেন জয়ন্ত।
গত ১৫ বছর তিনি চোরবাগানের পুজো কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এ বারে পুজোর আগে সরে যেতে হয়। তবে সেই নিয়ে কোনও আক্ষেপ নেই তাঁর। জয়ন্তর কথায়, ‘আমাদের পাড়ার একটা নিয়ম আছে। মায়ের মুখকে কখনও অন্য দিকে ঘোরানো যাবে না, সে তিনি যত বড় শিল্পীই হোন না কেন।’
চার বছর দুর্গা প্রতিমার মুখ অন্য দিকে ঘোরানো হয়েছিল। প্রতিবারেই কোনও না কোনও অঘটন ঘটে বলে দাবি তাঁর। জয়ন্ত বলেন, ‘২০২৩-এ আমাদের পুজোর খুঁটি অন্য দিকে সরানো হয়েছিল, আমার বাবা মারা যান। ২০২৪-এ মলমাসে খুঁটিপুজো করেছিলাম। আমার একটি প্রিয় কুকুর মারা যায়। তার পরেই মায়ের মৃত্যু হয়।’ ২০২০-তে করোনার সময়েও ঠাকুর সরানোয় একই রকমের বিপর্যয় ঘটেছিল বলে জানালেন তিনি।
এ বারে যখন পুজোর তোড়জোড় চলছে, তিনি বন্ধুদের সাবধান করেছিলেন, ঠাকুর যেন সরানো না হয়। কিন্তু কেউ তাঁর কথা শোনেনি বলেই দাবি জয়ন্তর। আক্ষেপের সঙ্গে বললেন, ‘এ বছর যখন ঠাকুর সরাল, সবাইকে বারণ করেছিলাম। আমাদের পাড়ার ঠাকুর খুব জাগ্রত।’ তবে ঠাকুর সরানোর জন্যই পদপিষ্টের ঘটনা ঘটেছে এমন দাবি তিনি করেননি। জয়ন্ত শুধু বলেন, ‘হয়তো এটা কাকতালীয়। আমি বলব না, এটার জন্যই হয়েছে।’
পুলিশ ও চোরবাগান সর্বজনীন সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় ঝেঁপে বৃষ্টি হচ্ছিল। রাস্তায় ছিল তীব্র যানজট। সেই সময়ে আচমকাই হুড়োহুড়ি শুরু হয়। বৃষ্টি থেকে বাঁচতে অনেকেই মণ্ডপের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। তখন পদপিষ্টের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে সূত্র মারফত জানা গিয়েছে।
ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত ২৫ জন। মৃতদের পরিবারপিছু একজনকে সরকারি চাকরি ও ২৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করেছেন তিনি। পাশাপাশি আহতদের ৫ লক্ষ টাকা করে দিচ্ছে রাজ্য সরকার। পদপিষ্টের ঘটনায় পুজো উদ্যোক্তা, ভলান্টিয়ার-সহ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
