আজকাল ওয়েবডেস্ক: নকল লটারির টিকিট দেখিয়ে পুরস্কারের টাকা হাতানোর চেষ্টা। কিন্তু এবার আর শেষরক্ষা হল না। পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ থানা মোড়ের একটি লটারি কাউন্টারে ‘ডিয়ার লটারি’র টিকিট দেখিয়ে পাঁচ হাজার টাকা দাবি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়ল এক যুবক। ধৃতের নাম শুভঙ্কর মজুমদার। সে উত্তর ২৪ পরগনার দক্ষিণ যোগেশগঞ্জ পাড়ার বাসিন্দা। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, এর আগেও একই কায়দায় প্রতারণা করে প্রায় এক লক্ষ টাকা হাতিয়েছিল ওই যুবক। সেই অভিযোগ ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গতকাল খণ্ডঘোষ থানা মোড়ের একটি লটারি কাউন্টারে হাজির হয় শুভঙ্কর। তাঁর হাতে ছিল ‘ডিয়ার লটারি’র একটি টিকিট। ওই টিকিটে পাঁচ হাজার টাকার পুরস্কার উঠেছে বলে দাবি করে সে। এরপর কাউন্টার থেকে পুরস্কারের নগদ টাকা চায়। কিন্তু টিকিটটি পরীক্ষা করতে গিয়েই সন্দেহ হয় লটারি ব্যবসায়ীর। ভাল করে খতিয়ে দেখতেই ধরা পড়ে জালিয়াতি। টিকিটটি আসল নয়, সম্পূর্ণ নকল।
অভিযোগ, আসল টিকিটের সঙ্গে নকল টিকিটের এমন সূক্ষ্ম মিল ছিল যে প্রথম দেখায় তা বোঝা কঠিন। ব্যবসায়ী বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই শুরু হয় বচসা। পরিস্থিতি বুঝে আশপাশের দোকানদারেরাও সেখানে জড়ো হন। শেষ পর্যন্ত স্থানীয়দের চাপে টিকিটটি জাল বলে স্বীকার করে নেয় অভিযুক্ত।
ঘটনায় আরও চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তাঁদের অভিযোগ, চলতি বছরের মার্চ মাসেও একই কায়দায় নকল লটারির টিকিট দেখিয়ে প্রায় এক লক্ষ টাকা হাতিয়ে পালিয়েছিল শুভঙ্কর। সেই ঘটনার পর ফের খণ্ডঘোষে এসে পাঁচ হাজার টাকা হাতানোর চেষ্টা করতে গিয়েই এবার ধরা পড়ে সে।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় খণ্ডঘোষ থানার পুলিশ। প্রথমে আটক করা হয় শুভঙ্করকে। পরে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। উত্তর ২৪ পরগনা থেকে এসে পূর্ব বর্ধমানের এলাকায় এভাবে প্রতারণার অভিযোগ সামনে আসায় এর পিছনে কোনও আন্তঃজেলা চক্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
ধৃতকে সাত দিনের পুলিশি হেফাজতে চেয়ে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়েছে। এই প্রতারণার সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, কোথা থেকে তৈরি হচ্ছে এমন নিখুঁত নকল লটারির টিকিট, কিংবা এর আগে আর কোথাও একই কায়দায় টাকা হাতানো হয়েছে কি না—সেই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ।
