চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের হার নেমে এসেছে ৩.৮৯ শতাংশে। দেশের উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের ইতিহাসে প্রথম প্রান্তিকে এটাই সর্বনিম্ন অগ্রগতি। সাধারণত অর্থবছরের এই সময়ে বাস্তবায়নের হার ৭ শতাংশ ছাড়িয়ে গেলেও এবার তা অর্ধেকের কাছাকাছি নেমেছে। বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে এডিপি বাস্তবায়নের গতি আগের দুই অর্থবছরের তুলনায়ও কমেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে এ হার ছিল ৫.০৯ শতাংশ। তার আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে বাস্তবায়নের হার দাঁড়িয়েছিল ৪.৭৫ শতাংশে। অর্থাৎ, গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার কমেছে ১.২০ শতাংশীয় পয়েন্ট। আর ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় পতন হয়েছে ০.৮৬ শতাংশীয় পয়েন্ট।
অতীতের পরিসংখ্যানেও চলতি অর্থবছরের চিত্রটি স্পষ্ট। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ৭.৫০ শতাংশ। ২০২২-২৩ অর্থবছরের একই সময়ে তা আরও বেশি, ৮.৫৫ শতাংশে পৌঁছেছিল। সেই হিসাবে চার অর্থবছর আগের তুলনায় এবার প্রথম প্রান্তিকে বাস্তবায়নের হার কমেছে ৪.৬৬ শতাংশীয় পয়েন্ট।
সাধারণ পরিস্থিতিতে অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এডিপি’র অন্তত ৭ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উন্নয়ন কার্যক্রমের গতি ধারাবাহিকভাবে কমেছে। ২০২৪ সালে সরকার পতনের পর প্রশাসনিক অস্থিতিশীলতা এবং পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এডিপি বাস্তবায়নে ধীরগতি দেখা যায়। এর ধারাবাহিকতা গত অর্থবছরেও ছিল। এবার নতুন অর্থবছরের শুরুতে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। এডিপি বাস্তবায়নের হার কম থাকার অর্থ হলো, অর্থবছরের নির্ধারিত সময়ের তুলনায় উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ ব্যয় ও কাজের অগ্রগতি পিছিয়ে রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে এ ধারা অব্যাহত থাকলে প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে ব্যয় বৃদ্ধি, সেবা পেতে বিলম্ব এবং উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
