কালবেলা · খেলাধুলা
আরেকটি ব্যালন ডি’অর জিততে পারেন লিওনেল মেসি!
১৯/১০/২০২৬

মেসির সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স হয়তো এবারের বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কারের হিসেবে ধরা হচ্ছে না, আর এমএলএসও (MLS) বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ লিগের একটি নয়। তবে আর্জেন্টিনার জার্সিতে দলকে বিশ্বকাপ ফাইনালে তোলার পর ৩৯ বছর বয়সী এই জাদুকর ক্লাব ফুটবলে প্রতিপক্ষদের গুঁড়িয়ে দিচ্ছেন।
এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যম ইয়াহু স্পোর্টস মেসির ব্যালন ডি’অর জয়ের সম্ভাব্যতার বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেছে।
গত শনিবার ইন্টার মায়ামির হয়ে অবিশ্বাস্য দুটি গোল করে নিজের জাদুকরি সামর্থ্যের নতুন স্মারক রাখার পর প্রশ্ন তোলার সময় এসেছে। এই প্রতিযোগীর ভিড়ে মেসির শীর্ষে থাকাটা কি খুব বেশি অন্যায় হবে?
হ্যারি কেইন অবশ্য ফেভারিট হিসেবেই আছেন এবং এ আসনটি তার প্রাপ্য। লামিনে ইয়ামাল জিতেছেন বিশ্বকাপ ও লা লিগা, তিনিও পরবর্তী মর্যাদার দাবিদার। রদ্রি, ফাবিয়ান রুইজ, উসমান দেম্বেলে ও পাউ কুবারসি- প্রত্যেকেই প্রশংসার দাবিদার। আর কিলিয়ান এমবাপ্পেও ক্লাব ও দেশের হয়ে গোল করেছেন প্রচুর।
তবে আপনি যদি মেসির পক্ষে যুক্তি দাঁড় করাতে চান, তবে বেশ শক্ত একটি অবস্থান তৈরি করতে পারবেন।
মেজর লিগ সকারকে (এমএলএস) নিয়ে কটাক্ষ করার প্রবণতা দীর্ঘদিনের, যা দিন দিন আরও অযৌক্তিক হয়ে উঠছে।
ব্যালন ডি’অর বিতর্কে কোনো ঘরোয়া লিগের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলা সস্তা বা অবমূল্যায়নমূলক নয়, কারণ এটি বিশ্বের সেরা পারফরমারকে মূল্যায়নের বিষয়। কোনো খেলোয়াড় যদি বেলজিয়াম বা তুরস্কেও এমন অবিশ্বাস্য পারফর্ম করতেন, তবে আমরা একই কথাই বলতাম।
বাস্তব কথা হলো- মেসি যদি আর্জেন্টিনার নিউয়েলস ওল্ড বয়েজের হয়ে এমন পারফর্ম করতেন, তবে সমর্থকদের একটি অংশ কোনো সমালোচনা ছাড়াই তাকে মাথায় তুলে রাখত। কারণ, আর্জেন্টাইন প্রিমিয়ার লিগ তো যুক্তরাষ্ট্র (কিংবা কানাডার) লিগ নয়।
ভোট দেওয়ার এই বছরটিতে বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স সবসময়ই বড় একটা বিষয়। তার আগে আসুন তার গোলসংখ্যার দিকে চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক।
৩৯ বছর বয়সে এসেও মেসি ইন্টার মায়ামির হয়ে ৩২ ম্যাচে ২৯ গোল এবং ১৫টি অ্যাসিস্ট করেছেন। মাত্র ছয়টি ম্যাচে তিনি গোল বা অ্যাসিস্টের খাতা শূন্য রেখেছেন, যার চারটিই ছিল গত মের আগের ঘটনা।
যে কোনো বয়সেই এটি চোখ কপালে তোলার মতো পরিসংখ্যান। এমএলএসে এক মৌসুমে গোলের রেকর্ডটি ৩৪টির। মেসি তিনটি ম্যাচ মিস করেছেন- একটি মার্চে বিশ্রামের জন্য এবং দুটি বিশ্বকাপের পর। আর মাত্র তিনটি ম্যাচ বাকি থাকতে কার্লোস ভেলার সেই রেকর্ডও এখন হুমকির মুখে।
বিভিন্ন লিগের পারফরম্যান্সের তুলনার কোনো সুনির্দিষ্ট গাণিতিক উপায় নেই। তবে একটু কঠিন মানদণ্ড ধরে যদি আমরা বিবেচনা করি যে, মেসি এর অর্ধেক পারফরম্যান্স নিয়েও পিএসজি, নাপোলি কিংবা বুন্দেসলিগার কোনো ক্লাবে খেলছেন।তাহলে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৫-২০টি গোল এবং ১০টি অ্যাসিস্ট থাকত তার নামের পাশে।
এই পারফরম্যান্সের সঙ্গে যদি একটি অসাধারণ বিশ্বকাপ যুক্ত হতো, যেখানে তিনি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন এবং ব্যক্তিগত কঠিন সময় পার করেছেন- তাহলে কি ভোটাররা তাকে শীর্ষে তোলার কথা ভাবতেন না?
কারণ, স্পেনকে নিয়ে হওয়া ১-০ গোলের ফাইনালের আগ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার প্রথম সাতটি ম্যাচেই গোল বা অ্যাসিস্টে অবদান রেখেছেন মেসি। চার ম্যাচে তিনি পুরো ৯০ মিনিট, তিন ম্যাচে ১২০ মিনিট এবং মাত্র ৩০ মিনিটের এক পরিবর্তী নামায়ও একটি গোল করেছিলেন।
আর্জেন্টিনার হয়ে আটটি গোল ও চারটি অ্যাসিস্টসহ মোট ১২টি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন মেসি। এর বাইরে আর্জেন্টিনা আরও যে সাতটি গোল করেছিল, সেগুলোতে তাঁর কোনো না কোনো ভূমিকা ছিল। প্রথম দুই ম্যাচে দলের করা পাঁচ গোলই তিনি করেছিলেন, যা তাঁকে জর্ডানের বিপক্ষে পরিবর্তী হিসেবে মাঠে নামিয়েছিল এবং সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি গোল করিয়েছিল।
আর্জেন্টিনা যদি বিশ্বকাপ জিতত, তবে তিনি হয়তো কেইন বা ইয়ামালের ঘাড়ের ওপর নিঃশ্বাস ফেলতেন! তবে এই বিতর্কের জন্য এটি কিছুটা বেশিই অনুমাননির্ভর।
ইংল্যান্ডের হয়ে কেইন যদি ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছাতেন, বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে উঠতেন কিংবা দুটির একটিও জিততেন, তবে মেসির এই পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনা থাকত না।
ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে রদ্রি যদি অনেক ম্যাচ মিস না করতেন (যারা প্রিমিয়ার লিগ জিততে পারেনি), কিংবা উসমান দেম্বেলে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার পর ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপ জিততেন, তবে রদ্রি বা দেম্বেলের হাতেই এই পুরস্কার নিশ্চিত থাকত।
অথচ ফাবিয়ান রুইজের চ্যাম্পিয়নস লিগ, লিগ ওয়ান ও বিশ্বকাপের ট্রেবল কিংবা কুবারসি ও ইয়ামালের লা লিগা, বিশ্বকাপ ও চমৎকার তারুণ্যের মিশ্রণ।
লিওনেল মেসি নিশ্চিতভাবেই ব্যালন ডি’অর জিতছেন না। তার ঝুলিতে এর মধ্যেই এমন অনেকগুলো ট্রফি আছে। ভোটাররা হয়তো তার জাদুকরি বিশ্বকাপ বা ব্যক্তিগতভাবে কঠিন গ্রীষ্মের জন্য তাকে বিবেচনা করতে পারতেন, তবে সেটি কোনো অযৌক্তিক পুরস্কার হতো না।
সর্বোপরি, হ্যারি কেইন ট্রফিটি পাওয়ার জন্য প্রয়োজনের চেয়েও বেশি কিছু করেছেন। তবে আবেগের বশে তাকে কেবল ফেভারিট থেকে প্রায়-নিশ্চিত বিজয়ী হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ ক্যারিয়ারের কোনো এক সময়ে তিনি হয়তো আগেই এটি জেতার যোগ্য ছিলেন। ভোটারদের মাঝে মেসির জন্য যে আবেগ কাজ করে, তা তাকে এর আগে আটবার শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছে।
সূত্র: ইয়াহু স্পোর্টস।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗