কালবেলা · সাধারণ
স্বামীর মাথার খুলি ছিন্নভিন্ন, বিচার চান নিহত ইসমাইলের স্ত্রী
১৫/১০/২০২৬

জুলাই আন্দোলনে গুলিতে স্বামী মো. ইসমাইলের মাথার খুলি ছিন্নভিন্ন হয়ে মগজ বেরিয়ে গিয়েছিল। রক্তে ভেসে গিয়েছিল তার পুরো শরীর। স্বামীর এমন নিথর দেহ দেখে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন স্ত্রী লাকি বেগম। পরে মাথায় ব্যান্ডেজ করে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়ার পথে পুলিশ ও বিজিবির বাধা এবং হেনস্তার শিকার হতে হয় তাদের।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেওয়া জবানবন্দিতে স্বামীকে হারানোর সেই মর্মান্তিক বর্ণনা তুলে ধরেন তিনি।
১৫ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে লাকি বেগমের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
রাজধানীর রামপুরায় ২৮ জনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিজিবি কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলামসহ চার আসামির বিরুদ্ধে তিনি ১৬তম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন।
৩৮ বছর বয়সী লাকি বেগমের গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায়। বর্তমানে তিনি রাজধানীর রামপুরা এলাকায় বসবাস করেন। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে গুলিতে নিহত হন তার স্বামী ইসমাইল।
জবানবন্দিতে লাকি বেগম বলেন, ‘২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেল ৩টার দিকে অটোরিকশা চালানোর জন্য বাসা থেকে বের হন তার স্বামী। মাগরিবের নামাজের সময় ছেলের এক বন্ধু এসে তাদের জানান, ডেলটা কেয়ার হাসপাতালের সামনে গুলিবিদ্ধ হয়ে ইসমাইল মারা গেছেন। খবরটি শুনে তিনি ও তার ছেলে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।’
কিছুক্ষণ পর জ্ঞান ফিরলে দেখেন, এক প্রতিবেশী ভ্যানে করে তার স্বামীর মরদেহ বাসায় নিয়ে এসেছেন।
লাকি বলেন, ‘আমার স্বামীর মাথার খুলি ছিন্নভিন্ন হয়ে মগজ বেরিয়ে গিয়েছিল। মাথায় গুলি লাগায় তার সারা শরীর রক্তাক্ত ছিল।’
তিনি জানান, মরদেহের মাথায় ব্যান্ডেজ করানোর জন্য তারা ইসমাইলকে বেটার লাইফ হাসপাতালে নিয়ে যান। ব্যান্ডেজ না করলে মরদেহ নড়াচড়া করানো যাচ্ছিল না। তবে হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্স না পাওয়ায় স্বামীর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া নিয়ে বিপাকে পড়েন তারা। পরে তার দেবর বাড়ি থেকে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে হাসপাতালে আসেন। এরপর লাকি, তার ছেলে ও নিকটাত্মীয়রা মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন।
লাকি বেগমের অভিযোগ, মরদেহ নিয়ে যাওয়ার পথে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা তাদের বাধা দেন এবং বিভিন্নভাবে হেনস্তা করেন। একপর্যায়ে অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখা হয়। ইসমাইল দুর্ঘটনায় মারা গেছেন-এমন কথা বলার পর তাদের গ্রামে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন তিনি।
সাক্ষী বলেন, ২০ জুলাই গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে তার স্বামীকে দাফন করা হয়। তার অভিযোগ, পুলিশ ও বিজিবির গুলিতেই ইসমাইল নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বিজিবির রেদোয়ান ও রাফাত এবং পুলিশের রাশেদুল ও মশিউর জড়িত ছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন তিনি।
স্বামী হত্যার বর্ণনা দিতে গিয়ে একপর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন লাকি বেগম। তিনি এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ান ও মামুনুর রশিদ। এ সময় প্রসিকিউটর সহিদুল ইসলাম সরদার, মঈনুল করিমসহ অন্য প্রসিকিউটররা উপস্থিত ছিলেন।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗