বিদেশে পাচার করা অর্থ ও সম্পদ উদ্ধারের পাশাপাশি আদালত কর্তৃক অবরুদ্ধ, সংযুক্ত ও বাজেয়াপ্ত সম্পদ থেকে সরকারের প্রাপ্য শুল্ক-কর আদায়ের বিষয়ে সুপারিশ করবে উচ্চপর্যায়ের কমিটি। একই সঙ্গে বিদ্যমান মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা, ২০১৯-এর প্রয়োজনীয় সংশোধনের বিষয়টিও পর্যালোচনা করবে কমিটি।
এ বিষয়ে আগের প্রজ্ঞাপন সংশোধন করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। শনিবার (১৭ অক্টোবর) জারি করা এ প্রজ্ঞাপনে কমিটির সদস্যদের কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। তবে কমিটির কার্যপরিধি আরও বিস্তৃত করা হয়েছে।
এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর জারি করা প্রজ্ঞাপনে বিদেশে পাচার করা যেসব সম্পদ বা ব্যাংক হিসাব আদালত কর্তৃক অবরুদ্ধ বা সংযুক্ত করা হয়েছে, সেগুলো থেকে সরকারের বকেয়া শুল্ক ও কর আদায়ের আইনি পদক্ষেপ নির্ধারণ এবং কার্যকর সুপারিশ দেওয়ার জন্য সাত সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়।
নতুন প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মানিলন্ডারিং-সংক্রান্ত অপরাধের অনুসন্ধান, তদন্ত বা বিচারিক প্রক্রিয়ায় আদালত কর্তৃক অবরুদ্ধ, সংযুক্ত বা বাজেয়াপ্ত সম্পদ থেকে রাষ্ট্রের প্রাপ্য রাজস্ব আদায়ের জন্য করণীয় নির্ধারণ এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে সুপারিশ দেবে কমিটি।
এ ছাড়া বিদ্যমান মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা, ২০১৯-এর প্রয়োজনীয় সংশোধনের বিষয়টি পর্যালোচনা করে সুপারিশ প্রণয়ন করবে। কমিটির কার্যক্রমের অগ্রগতিও জাতীয় সমন্বয় কমিটিকে অবহিত করতে হবে। প্রয়োজনে কমিটি নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের গঠন করা এ কমিটির আহ্বায়ক অ্যাটর্নি জেনারেল। সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) মহাপরিচালক।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (কেন্দ্রীয় ও বাণিজ্যিক ব্যাংক অনুবিভাগ), দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মহাপরিচালক (মানিলন্ডারিং), বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান কর্মকর্তা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেলের (সিআইসি) মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ডিআইজি (অর্গানাইজড ক্রাইম)।
কমিটির মূল লক্ষ্য হলো, বিদেশে পাচার করা অর্থ ও সম্পদ থেকে সরকারের প্রাপ্য রাজস্ব আদায়ের পথে থাকা আইনি জটিলতা চিহ্নিত করা এবং তা নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও সুপারিশ প্রণয়ন করা। নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাজেয়াপ্ত সম্পদকেও এ প্রক্রিয়ার আওতায় আনার সুযোগ রাখা হয়েছে।
