সাংবাদিক সম্মেলনে কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ। ছবি: এই সময়
Published on
:
2 min read
বিসর্জনের সময়ে মাতৃপ্রতিমা ছোঁবেন একমাত্র সনাতনীরাই। দশমীর সকালে বাজেকদমতলা ঘাট পরিদর্শনে গিয়ে জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার সে প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হয়েছিল কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দকে। কলকাতার নগরপাল জানান, পুজো কমিটির বিসর্জনের যে প্রক্রিয়া, তাতে পুলিশের কোনও ভূমিকা নেই। পুলিশ শুধু আইনশৃঙ্খলার দিকই দেখে। তবে মুখ্যমন্ত্রী যে নির্দেশ দিয়েছেন, তা মেনেই যে পুজো কমিটিগুলিকে চলতে বলা হয়েছে, তা-ও পরিষ্কার জানান অজয় নন্দ।
কী বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী?
গত বুধবার, ২১ অক্টোবর দশমীর সকালে বাজেকদমতলা ঘাটে প্রতিমা নিরঞ্জনের প্রস্তুতি দেখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, ‘আমি সিপিকে বলে গেলাম, যাঁরা মাকে নিয়ে যাবেন সেই সমস্ত লোকজনের নাম, পরিচয়ও আইডেনটিফাই করে দিতে হবে। যাঁরা সনাতন ধর্ম মানেন, তাঁরাই প্রতিমায় হাত দেবেন। এটার মধ্যে কোনও সাম্প্রদায়িকতা নেই।’
এক নজরে
গত বুধবার দশমীর সকালে বাজেকদমতলা ঘাট পরিদর্শনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নির্দেশ দেন যে, প্রতিমা বিসর্জনের সময় শুধু সনাতনীরাই প্রতিমা ছুঁতে পারবেন।
শুক্রবার এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ জানান, প্রতিমা বিসর্জনের সার্বিক প্রক্রিয়ায় পুলিশের কোনও ভূমিকা নেই, পুলিশ কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করে।
নগরপাল পরিষ্কার জানান যে, মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া নির্দেশ মেনেই কাজ করার জন্য পুজো কমিটিগুলিকে বলা হয়েছে এবং তারা সেই অনুযায়ীই সবটা পরিচালনা করছে।
পুলিশ কমিশনারের মতে, প্রতিমা বিসর্জন দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব নিয়ম ও সনাতন পদ্ধতি মেনেই হয়ে আসছে এবং ঘাটের কুলিদের সঙ্গে কথা বলেই পুজো কমিটিগুলি তা সম্পন্ন করে।
প্রতিমা বিসর্জন এ ভাবেই হয়ে আসছে
এ দিন পুলিশ কমিশনার জানান, প্রতিমা বিসর্জন এ ভাবেই হয়ে আসছে। এ ভাবেই হয়। তবে পুলিশ এ বিষয়টা দেখে না। ঘাটে যে কুলিরা থাকেন, পুজো কমিটির লোকেরা তাঁদের সঙ্গে কথা বলে নেন। সেই মতোই প্রতিমা নিয়ে যাওয়া হয়।
সনাতনী প্রসঙ্গে যা বললেন সিপি
অজয় নন্দ বলেন, ‘যা নির্দেশ এসেছে সেই মতো পুজো কমিটিকে বলা হয়েছে। সেই ভাবেই চলছে। পুজো কমিটি সবটা দেখছে।’ এর পরেই প্রশ্ন করা হয়, কে সনাতনী আর কে সনাতনী নন, তা কী ভাবে বুঝবেন? প্রশ্নের উত্তরে পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘এটা তো আমি বলতে পারছি না। আমরা পুজো কমিটিকে বলেছি, বিধি মেনে সবটা করতে। আর সনাতন পদ্ধতি ছাড়া কোনও পুজো হয় বলে আমার জানা নেই। এটাই তো পুজোর বিধি।’