Published on
:
2 min read
এই সময়: ইনস্টাগ্রাম–ফেসবুক সর্বত্র রঙিন ফ্লাইওভারের ছবি ভাইরাল। দুর্গাপুজোর আগে এমন রঙিন ফ্লাইওভার বাহবাও কুড়িয়েছে নেটিজে়নদের কাছে। এ বার উল্টো ছবি! সামান্য বৃষ্টিতে সেই রঙিন পথ দিয়ে যাওয়ার সময়ে স্কিড করে পড়ে যাচ্ছেন একের পর এক মোটরবাইক চালক — সেই দৃশ্য ভাইরাল। তা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে উঠেছে সমালোচনার ঝড়। এই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি ‘এই সময়’। ঠিক কবে তোলা সেই ভিডিয়ো, সেটাও পরিষ্কার নয়। তবে অবশ্যই নতুন রঙ করার পরে তা তোলা হয়েছে। বুধবার রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে সমস্যা খতিয়ে দেখেছেন কেএমডিএ ইঞ্জিনিয়াররা।
সেই ১০ সেকেন্ডের ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, কালো পিচের উপরে হলুদ, সবুজ, নীল — সবমিলিয়ে রামধনু রঙের এই আস্তরণ পড়েছে চিংড়িঘাটা ও গড়িয়াহাট ফ্লাইওভারে। হালকা বৃষ্টির মধ্যে একের পর এক গাড়ি যাচ্ছে চিংড়িঘাটা ফ্লাইওভার দিয়ে। কোনও এক গাড়ির সামনের আসেন থাকা এক ব্যক্তি ভিডিয়োটি তুলেছেন। দেখা যাচ্ছে, গাড়ির বাঁ দিক দিয়ে যাওয়ার সময়ে পর পর মোটরবাইকগুলি পিছলে পড়ে যাচ্ছে। মমতা–তৃণমূল, সিপিএমের তরফে ওই ভিডিয়ো শেয়ার করা হয়েছে।
সমালোচনার ঝড় উঠতেই পুলিশ জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই মোটরবাইক দুর্ঘটনার কথা জানানো হয়েছে কেএমডিএ–কে। পুলিশ কর্তাদের দাবি, বৃষ্টির জন্য, নাকি ফ্লাইওভারে টার্নিং নেওয়ার সময়ে, নাকি পিচ্ছিল রঙের কারণে মোটরবাইক উল্টে পড়ে যাচ্ছে, সে বিষয়ে কেএমডিএ বলতে পারবে। তারা নিশ্চয়ই কোনও ব্যবস্থা নেবে। আপাতত চিংড়িঘাটা ফ্লাইওভারে মোটরবাইক ওঠা বন্ধ রাখা হয়েছে। পুলিশের দাবি, চিংড়িঘাটা ফ্লাইওভারে ‘হার্ড টার্নিং’ রয়েছে। গড়িয়াহাটে নেই। তাই পুলিশের যুক্তি, গড়িয়াহাট ফ্লাইওভারে এমন কোনও দুর্ঘটনা হয়েছে বলে খবর নেই।
এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘না জেনে কিছু বলতে পারব না।’ তবে এই রঙ নিয়ে আগেই সতর্ক করেছিলেন প্রদেশ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়। তিনি নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এবং কলকাতা পৌরসভার কমিশনার স্মিতা পান্ডেকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছিলেন, এই রঙের স্কিড প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, যা চালকদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। দুর্ঘটনার পরে আশুতোষ বলেন, ‘এটা ঘটারই ছিল। এটা একটা অবাস্তব ধারণা। তেল-ভিত্তিক রঙ পিচের রাস্তায় লাগানো যায় না। রাস্তা মেরামত না করে এরা রঙ করতে ব্যস্ত।’
অগ্নিমিত্রা বলেন, ‘এক জন মোটরবাইক নিয়ে পড়ে গেল। সে আরও এক মোটরবাইককে ধাক্কা মারে। কেন পড়ে গিয়েছে আসল কারণ আমরা জানি না। যে রঙ ব্যবহার করা হয়েছে সেটা অ্যান্টি স্কিড। ফলে এমন হওয়ার কথা নয়। আমি শুনলাম, রঙে চোখ ধাঁধিয়ে যাচ্ছে। সেটা আমরা দেখে নিচ্ছি। যদি মানুষের অসুবিধে হয়, তার বিকল্প ব্যবস্থাও হবে। পুজোর আগে শহরকে এ ভাবে সাজানো, রাস্তা রং মানুষ খুব ভালো ভাবেই নিয়েছেন।’
