লক্ষ্মীপুরে সারের ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও একতরফা সুপারিশের অভিযোগ উঠেছে। নীতিমালা লঙ্ঘন করে একই পরিবারে একাধিক ডিলারশিপ প্রদান, পশুখাদ্য বিক্রেতাকে সারের ডিলার বানোনো এবং দলীয় প্রভাব খাটিয়ে রাজনৈতিক কর্মীকে ডিলার সুপারিশের অভিযোগে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অনিয়মের প্রতিবাদ জানিয়ে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার সার ব্যবসায়ী হামিদুর রহমান ও ইয়াছিনুর রহমান জেলা প্রশাসক ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে পৃথক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পৌরসভায় ‘ইফাজ এগ্রো’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে সারের ডিলার হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে। অথচ প্রতিষ্ঠানটি মূলত হাঁস-মুরগি, মাছ ও গরুর খাদ্য বিক্রির সঙ্গে যুক্ত, যা সারের ডিলার নিয়োগ নীতিমালার পরিপন্থি। এ ছাড়া ইফাজ এগ্রোর স্বত্বাধিকারী জাকির হোসেনের ভাই (ইকবাল ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী ইকবাল হোসেন) আগেই বিএডিসি সার ডিলার ও খুচরা আইডি কার্ডধারী হিসেবে কর্মরত আছেন। নীতিমালায় একই পরিবারে একাধিক ডিলারশিপ দেওয়ার সুযোগ না থাকলেও এ ক্ষেত্রে তা উপেক্ষা করা হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, ইফাজ এগ্রোর অনুকূলে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী আবেদনকারী না থাকার অজুহাতে একতরফাভাবে ও বিধিমালাবহির্ভূতভাবে তাকে সুপারিশ করা হয়। তা ছাড়া ডিলারশিপ পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ২৫ মেট্রিক টন সার ধারণক্ষমতার গোডাউনও প্রতিষ্ঠানটির নেই। এসব কারণে ইফাজ এগ্রোর নিয়োগ বাতিল করে পুনরায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে।
লক্ষ্মীপুর শহরের ব্যবসায়ী আবদুর রহমান বলেন, ‘ইফাজ এগ্রোকে সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূতভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। বাজারে আরও ২০ থেকে ২৫ জন যোগ্য ব্যবসায়ী থাকলেও তারা নিয়োগের বিষয়ে কিছুই জানতে পারেননি। আমরা এই অবৈধ নিয়োগ স্থগিত করে পুনর্নিয়োগ ও তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।’
অন্যদিকে, চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নে সারের ডিলার হিসেবে সুপারিশ পেয়েছেন ‘মেসার্স বাহার এন্টারপ্রাইজ’-এর স্বত্বাধিকারী বাহার উদ্দিন। তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার একাধিক অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে তার ছবি প্রকাশিত হওয়ার পর স্থানীয় প্রকৃত ব্যবসায়ীরা তার ডিলারশিপ বাতিলেরও দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইফাজ এগ্রোর স্বত্বাধিকারী জাকির হোসেন বলেন, ‘সরকার বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে, আমি আবেদন করেছি। অন্য কেউ আবেদন না করলে সেটা আমার দোষ নয়। আমার পশুখাদ্য ও সারের দোকান সম্পূর্ণ আলাদা। আর আমার ভাই বিএডিসির ডিলার, কৃষি সম্প্রসারণের নয়। যারা অভিযোগ করেছে, তারা হিংসাত্মক মনোভাব থেকে এসব করছে।’
এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ জহির আহমেদ জানান, ‘ডিলার এখনো চূড়ান্ত নিয়োগ পাননি, কেবল সুপারিশ করা হয়েছে। উপজেলা পর্যায় থেকে বাছাই হয়ে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এই সুপারিশ এসেছে। এখানে আমাদের স্থানীয়ভাবে কিছু করার নেই, তাই এখন অভিযোগ দিয়েও লাভ হবে না।’
