টলিউডের লক্ষ্মীমন্ত কন্যেরাগ্রাফিক্স: রাতুল মণ্ডল
Published on
:
3 min read
আজ কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। ঘরে ঘরে ধনদেবীর আরাধনায় মেতেছেন সকলে। প্রচলিত বিশ্বাস, লক্ষ্মী চঞ্চলা—তাঁকে তুষ্ট রাখতে তাই পুজোর আয়োজনে কোনও খামতি রাখতে চান না কেউই। তবে টলিপাড়ার এমন কিছু ‘লক্ষ্মী’ রয়েছেন, যাঁদের পরিচয় শুধু অভিনয়েই সীমাবদ্ধ নয়। পর্দায় নিজেদের অভিনয়গুণে দর্শকের মন জয় করার পাশাপাশি, বাস্তব জীবনেও তাঁরা দক্ষ হাতে সামলাচ্ছেন নিজেদের ব্যবসা। সংসার, অভিনয় আর উদ্যোগপতির দায়িত্ব—সব কিছু সামলে নিজেদের মতো করে সাফল্যের লক্ষ্মীলাভ করেছেন টলিউডের এই অভিনেত্রীরা। কোজাগরীর আবহে রইল টলিপাড়ার সেই ‘লক্ষ্মী’দের গল্প।
রুকমা রায়
ধারাবাহিকের পর্দায় পরিচিত মুখ রুকমা রায়। তবে এই মুহূর্তে অভিনয় থেকে সাময়িক বিরতি নিয়েছেন অভিনেত্রী। আপাতত তাঁর মন জুড়ে নতুন ইনিংস—ব্যবসা। নিজের শাড়ির ব্র্যান্ড তৈরি করেছেন রুকমা। আর অল্প সময়ের মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ব্র্যান্ডের পরিচিতি তৈরি হওয়ায় খুশি অভিনেত্রী। অভিনয়ের পাশাপাশি হঠাৎ ব্যবসার পথে হাঁটার ভাবনা এল কী ভাবে? এই মুহূর্তে বিদেশে ছুটি কাটাচ্ছেন রুকমা। সেখান থেকেই জানালেন, অভিনয়ের পাশাপাশি বরাবরই অন্য কিছু করার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। সেই ভাবনা থেকেই শাড়ির ব্যবসা শুরু করার সিদ্ধান্ত। বাঙালি নারীর সাজে শাড়ির গুরুত্ব বরাবরই আলাদা। সেই ভালোবাসাকেই নিজের উদ্যোগের সঙ্গে জুড়ে নিতে চেয়েছিলেন অভিনেত্রী। তবে নতুন ব্যবসা শুরু করার পর এত অল্প সময়ের মধ্যে যে এমন ভালো সাড়া পাবেন, তা নিজেও ভাবেননি তিনি।
কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর আবহে নিজের ব্যবসার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে গিয়ে রুকমার কথায়, ‘আমি লাকি যে এখনও পর্যন্ত ব্যবসার ক্ষেত্রে মা লক্ষ্মী আমাকে হতাশ করেননি।’ তাঁর বিশ্বাস, মা লক্ষ্মী চঞ্চলা হলেও পরিশ্রমের বিকল্প নেই। মন দিয়ে কাজ করলে সাফল্য এক দিন আসবেই। তাই অভিনয়ের পাশাপাশি নিজের উদ্যোগকেও যত্ন করে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান রুকমা। পর্দার পরিচিত মুখ থেকে উদ্যোগপতি—নতুন এই ভূমিকায় অভিনেত্রীর পথচলা এখন কোন দিকে এগোয়, সেটাই দেখার।
অহনা দত্ত
পর্দার মিশকার সঙ্গে বাস্তবের অহনা দত্তের অবশ্য বিস্তর ফারাক। বাস্তব জীবনে তিনি এখন রীতিমতো সংসারী। সংসার, সন্তান—সব কিছুই সামলাচ্ছেন দক্ষ হাতে। তবে আপাতত অভিনয় থেকে সাময়িক বিরতি নিয়েছেন অভিনেত্রী। আর এই অবসরেই মন দিয়েছেন নতুন উদ্যোগে। নিজের নামেই তৈরি করেছেন পোশাকের ব্র্যান্ড। অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যবসার ময়দানেও নিজের পরিচিতি তৈরি করতে চান অহনা। কিন্তু হঠাৎ ব্যবসার ভাবনা এল কী ভাবে? অভিনেত্রী জানালেন, এই উদ্যোগের নেপথ্যে রয়েছেন তাঁর স্বামী। ব্যবসার যাবতীয় দায়িত্ব মূলত তিনিই সামলান। অহনার ভূমিকা আপাতত ক্যামেরার সামনে এসে লাইভের মাধ্যমে ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করা। এ প্রসঙ্গে অভিনেত্রীর কথায়, ‘এই ব্যবসা পুরোটাই দেখে আমার স্বামী। আমি শুধু ক্যামেরার সামনে লাইভ করি। ওর সাপোর্ট না থাকলে এটা হতো না।’ ব্যবসার দুনিয়ায় অহনার এই নতুন পথচলায় তাঁর স্বামীর সহযোগিতাই অন্যতম ভরসা। তবে উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যেতে নিজের দায়িত্বটুকুও সমান গুরুত্ব দিয়ে পালন করছেন অভিনেত্রী। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর আবহে অহনার বিশ্বাস, দেবী লক্ষ্মীর আরাধনার পাশাপাশি নিজের কাজের প্রতিও নিষ্ঠাবান হওয়া জরুরি। শুধু পুজো করলেই হবে না, সাফল্যের জন্য প্রয়োজন একাগ্রতা, পরিশ্রম এবং নিজের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করা। আপাতত সেই পরিশ্রমকেই পুঁজি করে ব্যবসার ময়দানে নিজের জায়গা তৈরি করতে চান অহনা।
প্রিয়াঙ্কা ভট্টাচার্য
অভিনয়ের জগতে নানা ধরনের চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরেছেন প্রিয়াঙ্কা ভট্টাচার্য। তবে ক্যামেরার সামনে অভিনয়ই তাঁর একমাত্র পরিচয় নয়। গত দেড় বছর ধরে ব্যবসার দুনিয়াতেও নিজের জায়গা তৈরি করছেন অভিনেত্রী। শুধু একটি নয়, ইতিমধ্যেই গড়ে তুলেছেন গয়নার দু’টি সংস্থা। কলকাতা, শিলিগুড়ি-সহ একাধিক জায়গায় খুলেছেন আউটলেটও। অভিনয়ের পাশাপাশি উদ্যোগপতি হিসেবে প্রিয়াঙ্কার এই পথচলার নেপথ্যে অবশ্য রয়েছে পারিবারিক প্রভাব। ব্যবসায়ী পরিবারে বড় হয়েছেন প্রিয়াঙ্কা। ছোট থেকেই বাড়িতে ব্যবসার পরিবেশ দেখেছেন তিনি। ফলে অভিনয়ের পাশাপাশি নিজের ব্যবসা শুরু করার ইচ্ছেটাও ছিল মনে। সেই ভাবনাকে বাস্তবায়িত করতে খুব বেশি দেরি করেননি অভিনেত্রী। ব্যবসার দুনিয়ায় পা রাখার প্রসঙ্গে প্রিয়াঙ্কার কথায়, ‘আমার বাবা ব্যবসায়ী। ছোট থেকে সেই পরিবেশেই মানুষ। তাই এটা ভেবে রেখেছিলাম, যাই করি না কেন, ব্যবসাটা আমি করতে পারব। তাই আর দেরি করিনি।’ তবে অভিনয় এবং ব্যবসা—দুই ক্ষেত্রেই সাফল্যের জন্য নিজের মতো করে কৃতিত্ব দেন দুই দেবীকে। প্রিয়াঙ্কার বিশ্বাস, মা সরস্বতীর আশীর্বাদ ছাড়া যেমন অভিনয় করা সম্ভব নয়, তেমনই মা লক্ষ্মীর কৃপা ছাড়া ব্যবসাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াও কঠিন। তাঁর কথায়, ‘মা সরস্বতীর কৃপা না থাকলে যেমন অভিনয় করতে পারতাম না, তেমনি মা লক্ষ্মীর কৃপা আছে বলেই ব্যবসা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারছি।’ কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর আবহে নিজের ব্যবসার ভবিষ্যৎ নিয়েও আশাবাদী অভিনেত্রী। দেবীর আশীর্বাদে বিশ্বাস রাখলেও তিনি জানেন, শুধু বিশ্বাসের উপরে ভর করে সাফল্য ধরে রাখা যায় না। প্রিয়াঙ্কার কথায়, ‘মা আছেন বলেই কাজ করতে পারছি। জানি মা আমার পাশেই থাকবেন। লক্ষ্মী চঞ্চলা। মাকে ধরে রাখতে গেলে তাই কাজ করেই যেতে হবে।’
