বাংলাদেশে রবীন্দ্রনাথের দেওয়ালচিত্রে কালি লাগানোর ঘটনায় নিন্দার ঝড় দেশজুড়ে। ওই ঘটনায় সরব হন পদ্মাপাড়ের সুশীল সমাজ। অবশেষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধ কড়া ব্যবস্থা নিল তারেক রহমান সরকার। আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল ৪ জনকে। এবার তাঁদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা রুজু হল। অভিযোগ উঠছে, জামাত শিবিরের প্ররোচনাতেই রবীন্দ্রনাথের মুখে কালি দেওয়া হয়েছে।
শনিবার দুপুরে ঢাকার সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেওয়ালে আঁকা রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালি দিয়ে মুছে ফেলার চেষ্টা করেন এক মহিলা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন এএনএম আয়াস নামে এক যুবনেতা। তিনি বাংলাদেশের সামাজিক এবং রাজনৈতিক সংগঠন রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব। বাংলাদেশের রাজনীতিতে হাসিনা-বিরোধী নেতা হিসেবেও পরিচিতি রয়েছে তাঁর।
শাহবাগ থানার এসআই আব্দুল খালেক জানিয়েছিলেন, ঘটনাস্থল থেকে এক মহিলা-সহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে তাঁরা পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। এই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হতেই নিন্দার ঝড় ওঠে। মহিলার দাবি, রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিপক্ষে ছিলেন। সে কারণেই তিনি কালি লেপে দিয়েছেন। যদিও মহিলার সেই দাবি একেবারেই ভুয়ো এবং ভিত্তিহীন। গোটা ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনাও ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকা পুলিশের রমনা বিভাগের ডেপুটি কমিশনার জাহিদুল ইসলাম বলেন, “রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে ওই চারজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।”
ঢাকার সেগুনবাগিচায় চলতি মাসেই ফুটপাথ দখলমুক্ত করেন স্থানীয় পুর কর্তৃপক্ষ। এরপর ওই ফুটপাথ লাগোয়া দেওয়ালে রবীন্দ্রনাথ, কাজী নজরুল ইসলাম, সত্যজিৎ রায়-সহ বিভিন্ন মনীষীর প্রতিকৃতি আঁকা হয়। শনিবার সেই দেওয়ালে রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতিতে কালি লাগান ধৃতেরা। কী কারণে তিনি ছবিটি মুছে ফেলার চেষ্টা করছিলেন, তা প্রাথমিক ভাবে স্পষ্ট নয়। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। এদিকে অভিযোগ উঠছে, প্রতারক উজ্জ্বল ওরফে এএনএম আয়াস পেছনে রয়েছেন জামাতের আমিরের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির। উল্লেখ্য, এই ঘটনায় জামাত শিবির মন্তব্য করে, ‘‘বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হোক চাননি।” জামাতের এই বক্তব্যের প্রতিবাদ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খানের পালটা মন্তব্য, ‘‘তারা তো বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াক, সেটাই চায়নি।”
