নাচো আর ইফিয়ংকে বাদ দিয়ে ইন্ডিয়ান সুপার লিগের জন্য রেজিস্ট্রেশন করিয়ে নিল ইস্টবেঙ্গল। তারমানে এই নয় যে ইফিয়ংকে একেবারেই বাদ দিয়ে দিলেন হাবাস। আবার স্প্যানিশ ডিফেন্ডার নাচোকে সরকারিভাবে বাতিল না বললেও, হাবাস ক্লাব কর্তাদের নাচোকে কেন্দ্র করে তাঁর অপছন্দ জানিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু তারপরও এখনই নাচোর সঙ্গেও চুক্তি বিচ্ছিন্ন করছেন না লাল-হলুদ কর্তারা। এর পিছনে কারণ রয়েছে। পাসপোর্ট নিয়ে সমস্যা মিটলেও ভিসার জন্য ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্ট থেকে এখনও সবুজ সঙ্কেত পাননি ইফিয়ং। সেই মুহূর্তে লাল-হলুদ কর্তারা মনে করছিলেন হয়তো খুব তাড়াতাড়ি ভিসা পেয়ে কলকাতায় চলে আসবেন নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার।
কিন্তু আদপে দেখা গেল, কবে আসতে পারবেন নিশ্চিত করে কিছুই বলা যাচ্ছে না। এই অবস্থায় ইফিয়ংয়ের জন্য আইএসএলের বিদেশি রেজিস্ট্রেশনের একটি জায়গা খালি রাখতে চাননি হাবাস। চাইলে ইকোনোমিডিসকে এখনই রেজিস্ট্রেশন না করিয়ে ইফিয়ংয়ের আসার জন্য অপেক্ষা করতে পারতেন তিনি। কিন্তু ইকোনিমিডিসকে নিয়েই এই মুহূর্তে ৬ জন বিদেশি ফুটবলার নথিভুক্ত করিয়ে নেওয়া হয়েছে আইএসএলের জন্য। তার মধ্যে আবার শিল্ডের মাঝে স্প্যানিশ ডিফেন্ডার নাচো কলকাতায় চলে এসেছেন চোট কাটিয়ে ওঠার জন্য রিহ্যাব করতে। কিন্তু তাঁকেও আপাতত ৬ জন বিদেশির তালিকায় রেজিস্ট্রেশন করানোর জন্য ভাবা হয়নি।
কিন্তু কেন এরকম সিদ্ধান্ত নিলেন হাবাস? ইফিয়ং, নাচো কাউকে বাদও দিচ্ছেন না। আবার রেজিস্ট্রেশনের জন্যও আপাতত তাঁদের নাম ভাবা হচ্ছে না। প্রথমত ইকোনোমিডিসের পারফরম্যান্স কাউকেই এখনও পর্যন্ত সেভাবে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। শিল্ড ছেড়ে হাবাস আপাতত তাকিয়ে রয়েছেন প্রথমে মঙ্গলবারের এএফসির ম্যাচে। তারপর আইএসএলে। যে কারণে, সুযোগ থাকলেও শিল্ড ফাইনালে আনোয়ারকে খেলিয়ে কোনও রকম ঝুঁকি নিতে চাননি ইস্টবেঙ্গল কোচ। তাঁর মনে হয়েছিল, পর পর তিনটে হাই প্রোফাইল আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার পর শিল্ড ফাইনালে আনোয়ারকে খেলালে, চোটের কবলে যেতে পারতেন। আর তাতে এএফসি এবং আইএসএলে মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যেত ইস্টবেঙ্গলের। শিল্ড হারানোয় মারাত্মক ভেঙে পড়েননি ইস্টবেঙ্গল কোচ। বরং শিল্ডের ভুলভ্রান্তি থেকে শিক্ষা নিয়ে আইএসএলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ক্লাবের মতো তিনিও জানেন, একটা সময় এএফসির কোথাও না কোথাও গিয়ে থামতে হবে। কিন্তু তার আগে চেষ্টা চলবে, যতটা উপরে ক্লাবকে নিয়ে যাওয়া যায়। তার বাইরে হাবাসের মূল লক্ষ্য আইএসএল। কিন্তু তার আগে হাবাসের নজরে শুধুই ইরাকের আল-শোর্তা।
রবিবার রাজারহাটের সেন্টার অফ এক্সেলেন্সের মাঠে প্র্যাকটিসের সময় টানা ৫০ মিনিট ধরে ফুটবলারদের শুধুই সেট-পিস অনুশীলন করালেন তিনি। কারণ, আল-শোর্তার ম্যাচের ক্লিপিংস দেখে হাবাসের মনে হয়েছে, সেট-পিসে খুবই দক্ষ ইরাকের দলটি। তাই শুধু নিজেরাই গোল করার জন্য নয়। ইরাকের দলটির সেট-পিস আটকানোর জন্যও ফুটবলারদের টানা অনুশীলন করালেন ইস্টবেঙ্গল কোচ। আগেরদিন, শনিবার অবশ্য ফুটবলারদের নিয়ে ম্যাচ সিচ্যুয়েশন প্র্যাকটিস করিয়েছেন। এদিন ম্যাচের ধারেকাছেও যাননি হাবাস। তবে সোমবার ঠিক করেছেন, এসিএল ২-এর ম্যাচের আগে স্টেডিয়ামের মূল মাঠেই ফুটবলারদের অনুশীলন করাবেন।
