উৎসবের আবহে বাড়িতে ছিল খুশির মেজাজ। বাচ্চাদের আবদারে ডিনারের মেনুতে হয়েছিল পরিবর্তনও। হই হই করে নুডলস দিয়ে ডিনার সেরেছিলেন পাঁচ জন। কিন্তু সকালেই পাল্টে গেল পুরো ছবিটা। বাড়ি থেকে উদ্ধার হলো দম্পতি-সহ তিন শিশুর নিথর দেহ। উত্তরপ্রদেশের গ্রেটার নয়ডায় এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের রহস্যমৃত্যুতে ধন্দে পুলিশও।
জানা গিয়েছে, মৃতদের নাম মহেশ (৩৭), তাঁর স্ত্রী ললিতা (৩৫) এবং তাঁদের নাবালক তিন সন্তান— লাড্ডু (১১), মিষ্টি (৭) ও সাক্ষাৎ (৩)। শনিবার, ১৭ অক্টোবর সকালে রাবুপুরা এলাকার নগলা শ্রী পদম গ্রামের বাড়ি থেকে পাঁচ জনের দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিক ভাবে দেহে আঘাতের চিহ্ন মেলেনি বলে খবর। তদন্তে খাবারে বিষক্রিয়া বা বিষাক্ত কোনও পদার্থ মেশার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে নুডলস খাওয়ার কারণেই তাঁদের মৃত্যু হয়েছে, এমন কোনও প্রমাণ এখনও মেলেনি। মৃতদেহগুলি পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তে। পাশাপাশি খাবারের নমুনাও ফরেনসিক টেস্টের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় বাসিন্দা ও মৃত মহেশের মায়ের বক্তব্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে পরিবারের সদস্যরা নুডলস খেয়েছিলেন। তার পরে ঘুমোতে যান। শনিবার সকালে দীর্ঘক্ষণ বাড়িতে কোনও সাড়াশব্দ না মেলায় সন্দেহ হয়। পরে বাড়ির ভিতরে গিয়ে পরিবারের পাঁচ সদস্যকে বিছানায় নিথর অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর দেওয়া হয় পুলিশে।
রান্নাঘর থেকে নুডলস ও চায়ের নমুনা সংগ্রহ
ঘটনার খবর পেয়ে রাবুপুরা থানার পুলিশ ও ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। রান্নাঘর থেকে নুডলস, চা তৈরির পাত্র এবং অন্যান্য খাবারের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। খাবারে বিষক্রিয়া, বিষাক্ত পদার্থ খেয়ে ফেলা অথবা অন্য কোনও কারণে এই মৃত্যু কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং ফরেন্সিক পরীক্ষার ফল হাতে পাওয়ার পরেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুর পিছনে কোনও ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তদন্তকারীরা।
