মুন্সী আবু আহনাফ
কবি ও জমিদার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) নিয়ে বাংলাদেশের বিতর্ক নতুন নয়। তাঁকে কেউ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্রষ্টা হিসেবে দেখেন, কেউ তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান, জমিদারি বা অত্যাচারী জমিদার, ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা এবং বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের রচয়িতা হিসেবে তাঁর অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে তাঁর প্রতিকৃতিতে কালি দেওয়ার ঘটনাও এই বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনেছে। কিন্তু রবীন্দ্রনাথকে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে একটি মৌলিক প্রশ্ন জরুরি; তাঁর সাহিত্যিক কৃতিত্ব, জমিদার হিসেবে ভূমিকা এবং রাজনৈতিক অবস্থান—এসব কি একই মানদণ্ডে বিচার করা সম্ভব? নাকি প্রতিটি বিষয়কে আলাদা করে ঐতিহাসিক তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করতে হবে? কারণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে রবীন্দ্র-মূল্যায়নকে কেন্দ্র করে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে এক ধরনের তীব্র মেরুকরণ ও বিতর্ক লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একশ্রেণির অনুসারী তাঁকে প্রায় দেবতুল্য আসনে বসিয়ে আধুনিক বাঙালির আত্মপরিচয়ের একমাত্র মূর্ত প্রতীক মনে করেন, অন্যদিকে সমালোচকেরা তাঁর জমিদারসুলভ আচরণ, রাজনৈতিক অবস্থান, এবং সাহিত্যকর্মে থাকা সাম্প্রদায়িক পক্ষপাত দুষ্ঠু দৃষ্টিভঙ্গিকে সামনে এনে তাঁকে কাঠগড়ায় দাঁড় করান। এই দুই চরম অবস্থানের আবর্তে দাঁড়িয়ে আজ প্রশ্ন উঠেছে—রবীন্দ্রনাথকে কেন্দ্র করে এ দেশের রাজনীতির এবং সাংস্কৃতিক অসহিষ্ণুতার বিতর্কের শেষ কোথায়? কারণ, রবীন্দ্রনাথের জন্ম ভারতের পশ্চিমবঙ্গে হলেও তাঁর জীবনের একটি বড় অংশ, সাহিত্যচর্চার গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় এবং জমিদারি ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা বর্তমান বাংলাদেশের ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত।
এক. জমিদার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি অত্যাচারী নাকি কল্যাণব্রতী ছিলেন এই প্রশ্ন ইতিহাসের আলোচনায় বারবার এসেছে? রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শুধু কবি, ঔপন্যাসিক ও সাহিত্যিক ছিলেন না; বরং তিনি জমিদার পরিবারের সদস্য এবং জমিদারি সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত একজন ভূস্বামীও ছিলেন। শিলাইদহ, শাহজাদপুর ও পতিসরের সঙ্গে তাঁর জীবন ও কর্মের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। এসব অঞ্চল বর্তমানে বাংলাদেশের অংশ। ঔপনিবেশিক বাংলার জমিদারি ব্যবস্থা ছিল এমন এক অর্থনৈতিক কাঠামো, যেখানে কৃষকের উৎপাদনের একটি অংশ খাজনা হিসেবে জমিদারকে দিতে হতো। এই ব্যবস্থায় কৃষকের ওপর অর্থনৈতিক চাপ, ঋণগ্রস্ততা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের শোষণের নানা সমস্যা ছিল। রবীন্দ্রনাথও এই কাঠামোর বাইরে ছিলেন না। তাই তাঁর জমিদারি কার্যক্রম মূল্যায়নের সময় শুধু তাঁর সাহিত্যিক পরিচয় দিয়ে বিচার করলে চলবে না। রবীন্দ্রনাথের সমালোচকদের একটি বড় অংশ দাবি করেন যে তিনি সামন্তবাদী প্রজাপীড়ক জমিদার ছিলেন। শিলাইদহ, শাহজাদপুর ও পতিসরের জমিদারিতে অতিরিক্ত খাজনা আদায় এবং প্রজাদের ওপর বলপ্রয়োগের বিভিন্ন ঘটনার কথা তাঁরা উল্লেখ করেন। বিশেষ করে, শিলাইদহের জমিদারিতে খাজনা বৃদ্ধি ও ইসমাইল মোল্লার নেতৃত্বে সংঘটিত প্রজা বিদ্রোহের বিষয়টি সমালোচকদের লেখায় বারবার উঠে আসে।
দুই. বঙ্গভঙ্গ ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানের রাজনীতি নিয়েও বিতর্ক রয়েছে বিস্তর? ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ রবীন্দ্রনাথের রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ব্রিটিশ সরকার ১৬ অক্টোবর বঙ্গভঙ্গ কার্যকর করে এবং ঢাকাকে রাজধানী করে পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশ গঠন করে। প্রশাসনিক পুনর্গঠনের পেছনে ব্রিটিশ সরকারের যুক্তি ছিল বৃহৎ বাংলাকে কার্যকরভাবে শাসন করা। বঙ্গভঙ্গকে ঘিরে বাংলার সমাজে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবণতা দেখা যায়। একদিকে, বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলন বাংলার রাজনৈতিক ঐক্য রক্ষার দাবি তোলে। অন্যদিকে, পূর্ববঙ্গের বহু মুসলমান নতুন প্রদেশকে প্রশাসনিক গুরুত্ব, শিক্ষা ও সরকারি চাকরিতে সুযোগ বৃদ্ধির সম্ভাবনা হিসেবে দেখেন।
১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ পূর্ববঙ্গের সাধারণ মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার করলেও কলকাতার অভিজাত সমাজ তা তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করে। কবি ও জমিদার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। তিনি রাখিবন্ধনের মাধ্যমে হিন্দু-মুসলমানের ঐক্যের আহ্বান জানান এবং স্বদেশি আন্দোলনের আবহে একাধিক গান রচনা করেন এবং বঙ্গভঙ্গবিরোধী গড়ে উঠা স্বদেশি আন্দোলনে অর্থ সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ‘বাংলার মাটি, বাংলার জল’ ও ‘আমার সোনার বাংলা’ বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলনে সময়ের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ গান। সমালোচকদের মতে, এই গান এবং পরবর্তীতে ১৯১১ সালে ব্রিটিশ সম্রাট পঞ্চম জর্জের আগমন উপলক্ষে রচিত “জনগণমন অধিনায়ক জয় হে” গানটি মূলত তৎকালীন উচ্চবর্গীয় হিন্দু জাতীয়তাবাদী ও রাজানুগৃহীত রাজনীতির পরিচায়ক। পরবর্তীতে বঙ্গভঙ্গবিরোধী ‘আমার সোনার বাংলা’ এই গানটি স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হিসেবে গৃহীত হওয়ার পর থেকেই ভিন্নমতাবলম্বী ও রক্ষণশীল মহলে এ নিয়ে রাজনৈতিক ও তাত্ত্বিক বিতর্ক ডালপালা মেলেছে বিস্তর। কারণ ‘আমার সোনার বাংলা’ যে সময়ে লেখা হয়েছিল, তখন বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলন চলছিল। ফলে গানটিকে সেই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেখা যায় না। রবীন্দ্রনাথের গানকে রাজনৈতিক দলিল হিসেবে পড়া যায়। কিন্তু গানগুলোর রাজনৈতিক তাৎপর্য নির্ধারণের সময় তাঁর বক্তব্য, তৎকালীন সামাজিক পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের অবস্থান একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। জাতীয় সংগীত পরিবর্তন বা এর আদর্শগত উপযোগিতা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন রাজনৈতিক মঞ্চে যে বিতর্ক তৈরি হয়, তা মূলত বাঙালি মুসলিম মানসের নিজস্ব স্বত্বা এবং সার্বজনীন আধুনিকতার এক মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশ।
তিন. বাংলাদেশের শিক্ষাদীক্ষার ইতিহাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতার অভিযোগে রবীন্দ্রনাথ প্রায়শই সমালোচনার মুখে পড়েন। ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ হওয়ার পর পূর্ববঙ্গের মুসলমানদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির জন্য ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হলে, কলকাতার বাবুদের সাথে রবীন্দ্রনাথও এর বিরোধিতা করে স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়। তবে রবীন্দ্র-গবেষকদের মতে, এই বিরোধিতার পেছনে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার চেয়ে সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণ ও কলকাতার ওপর অতিরিক্ত কেন্দ্রীভূতকরণের আশঙ্কা কাজ করেছিল। তা সত্ত্বেও, পূর্ববঙ্গের পিছিয়ে পড়া মুসলিম জনগোষ্ঠীর মনস্তত্ত্বে এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতের সৃষ্টি করেছিল, যা আজও রাজনৈতিক বক্তৃতায় বারবার ফিরে আসে।
চার. ২০২৬ সালের অক্টোবরে ঢাকার সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতি মুছে ফেলার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়। দৈনিক সংগ্রামের ১১ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং শাহবাগ থানায় মামলা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ঘটনাস্থলে এক নারী প্রতিকৃতিতে কালি লাগাচ্ছিলেন; সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদ করার কথা বলেন। একটি পক্ষ যখন রবীন্দ্রনাথকে বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলন ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করে, তখন অন্য পক্ষ তাঁকে সম্পূর্ণ ভিনদেশী, অত্যাচারী জমিদার, বঙ্গভঙ্গ বিরোধী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধী বা স্বার্থান্বেষী সংস্কৃতির প্রতীক হিসেবে চিত্রিত করার অভিযোগ চালায়।
পাঁচ. রবীন্দ্রনাথের রচনায় মুসলিম চরিত্র ও ইসলামি সংস্কৃতির উপস্থিতি নিয়ে সমালোচনা করা যায়। তাঁর সাহিত্যকর্মে মুসলমানদের জীবন, সমাজ ও সংস্কৃতি তুলনামূলকভাবে কতটা স্থান পেয়েছে—এটি একটি গ্রহণযোগ্য গবেষণার প্রশ্ন। কোনো সাহিত্যিকের সীমাবদ্ধতা বা নির্দিষ্ট রচনার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সমালোচনা করা অস্বাভাবিক নয়। রবীন্দ্রনাথের কিছু ছোটগল্প, উপন্যাস ও প্রবন্ধের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক দোষে দুষ্ট ও ইসলাম-বিদ্বেষী সাহিত্য রচনার অভিযোগ আনা হয়। তাঁর ‘রীতিমত নভেল’, ‘সমস্যাপূরণ’, ‘দুরাশা’ কিংবা শিবাজী উৎসব নিয়ে লেখা কবিতায় মুসলিম চরিত্র বা মোঘলদের উপস্থাপনা নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক রয়েছে। সমালোচকদের মতে, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রবর্তিত হিন্দু জাতীয়তাবাদী চেতনার কিছুটা প্রভাব রবীন্দ্রমানসেও পড়েছিল। বিশেষ করে, প্যান-ইসলামিজম বা শাসনব্যবস্থায় মুসলিম কর্তৃত্ব নিয়ে তাঁর কিছু পত্রে বিরূপ মন্তব্য প্রকাশ পেয়েছিল।
ছয়. বঙ্গভঙ্গ বিরোধী উগ্রবাদীদের অর্থ সহায়তা ও রাজনৈতিক অবস্থানের নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক দলিল রয়েছে। ঠাকুর পরিবারের পারিবারিক ঐতিহ্য এবং রবীন্দ্রনাথের নিজের রাজনৈতিক দর্শনে ব্রিটিশ রাজশক্তি ও জমিদারির স্বার্থ রক্ষা একটি বড় বিষয় ছিল। ব্রিটিশ শাসনের স্থায়িত্ব ও শৃঙ্খলার প্রতি তাঁর যে আস্থা ছিল, তা সাম্রাজ্যবাদবিরোধী রাজনীতির সাথে সাংঘর্ষিক বলে মনে করতেন সমালোচকরা। তবে বঙ্গভঙ্গ বিরোধী উগ্রবাদীদের সরাসরি অর্থ সহায়তা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যিক অবদান অস্বীকার না করেও তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান, জমিদারি এবং তৎকালীন সামাজিক বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায়। একইভাবে, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোও প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করা জরুরি। কারণ তিনি জমিদার ছিলেন—তাই জমিদারি ব্যবস্থার সমালোচনা তাঁর ক্ষেত্রেও প্রাসঙ্গিক। তিনি বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন—তাই তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান ও পূর্ববঙ্গের মানুষের স্বার্থের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা প্রয়োজন। কিন্তু তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরোধিতা করেছিলেন, ইসলামবিদ্বেষী ছিলেন কিংবা বঙ্গভঙ্গ বিরোধী বিপ্লবীদের অর্থ দিতেন—এ ধরনের নির্দিষ্ট অভিযোগ নিয়েও আরও গবেষণার দাবি রাখে।
পরিশেষে, আজ বাংলাদেশে রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে রাজনীতির বা বিতর্কের শেষ কোথায় হবে—তার উত্তর লুকিয়ে রয়েছে আমাদের আত্মোপলব্ধির মধ্যে। তাঁকে দেবদূত বানিয়ে অন্ধ পূজা করা কিংবা রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য সম্পূর্ণ বর্জন করা—দুটোই সমানভাবে ক্ষতিকর। রবীন্দ্রনাথকে তাঁর সমস্ত ত্রুটি, তার রাজনৈতিক অবস্থান ও জমিদার এবং সাহিত্যিক হিসেবে পাঠ করতে হবে। রবীন্দ্রনাথের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে আলোচনা, তাঁর সাহিত্য নিয়ে সমালোচনা, জাতীয় সংগীতের ইতিহাস নিয়ে বিতর্ক কিংবা জমিদারি ব্যবস্থার সমালোচনা—সবই জনপরিসরে হতে পারে। কিন্তু সমালোচনার শক্তি নির্ভর করে তথ্য, যুক্তি ও প্রমাণের ওপর; কোনো ভাবে উগ্র আচরণের ওপর নয়। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিসরে রবীন্দ্রনাথের পাশাপাশি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, জসীমউদ্দীন, ফররুখ আহমেদ, আল মাহমুদ, জীবনানন্দ দাশ, শামসুর রাহমান ও অন্যান্য কবি-লেখকের অবদানও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হওয়া উচিত। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নিয়ে বিতর্ক মানেই কাউকে মুছে ফেলা নয়; বরং ইতিহাসের বিভিন্ন স্তরকে আরও ভালোভাবে বোঝার সুযোগ। ইতিহাসের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার অর্থ কাউকে অন্ধভাবে পূজা করা নয়, আবার রাজনৈতিক বিরোধের কারণে তাঁকে অন্ধভাবে প্রত্যাখ্যান করাও নয়। রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে বাংলাদেশের বিতর্কের সবচেয়ে ফলপ্রসূ পথ হলো-তাঁর রচনা পড়া, মূল নথি যাচাই করা, পূর্ববঙ্গের মানুষের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া এবং প্রতিষ্ঠিত তথ্য ও রাজনৈতিক ব্যাখ্যার মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রাখা।
লেখক : সাংবাদিক।
