বিশেষ প্রতিবেদক ঢাকাঃ
রাজধানীর মাতুয়াইলে অবস্থিত ইনস্টিটিউট অব চাইল্ড অ্যান্ড মাদার হেলথ (আইসিএমএইচ) এ চিকিৎসা সেবার আড়ালে গড়ে ওঠা ভয়ংকর নবজাতক পাচার চক্রের তথ্য সামনে এসেছে।
বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ২৪ এর অনুসন্ধানী অনুষ্ঠান সার্চলাইট এর এক স্টিং অপারেশনে উন্মোচিত হয়েছে ৪ লাখ টাকার বিনিময়ে নিষ্পাপ শিশু বেচাকেনার এই নির্মম বাণিজ্যের চিত্র।
আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় পর্যায়ে বিস্তৃত এই মানবপাচার সিন্ডিকেটের মূল কারিগর হিসেবে উঠে এসেছে প্রতিষ্ঠানের সাবেক পরিচালক ও শিশু বিভাগের ভারপ্রাপ্ত প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. মোজিবুর রহমানের নাম।
চিকিৎসার মতো মহান ও স্পর্শকাতর পেশাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকার এই বাণিজ্য চালুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।
সেবার আড়ালে অপরাধের নিরাপদ ঘাঁটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারি এই শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য কেন্দ্রটিকে ডা. মোজিবুর রহমানের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ছত্রছায়ায় শিশু পাচারের ঘাঁটিতে পরিণত করা হয়েছিল।
চিকিৎসক, নার্স ও দালাল চক্রের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘ দিন ধরে নিঃসন্তান দম্পতিদের অসহায়ত্ব ও আবেগ নিয়ে এ বাণিজ্য চালিয়ে আসছিল। একটি চক্রটি প্রতিটি শিশুর দরদাম কষে পণ্যের মতো হস্তান্তর করত।
ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলের মতে, একটি স্বনামধন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে বসে এভাবে নবজাতক পাচারের মতো অপরাধ চালিয়ে যাওয়া শুধু চিকিৎসা ব্যবস্থার নীতি-নৈতিকতার অবক্ষয় নয়, বরং এটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও এক বড় হুমকি।
চাঞ্চল্যকর তথ্যের পরও অধরা মূল হোতা টেলিভিশনে আলোড়ন সৃষ্টিকারী এই অনুসন্ধান সম্প্রচারের পর দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হলেও এখন পর্যন্ত বহাল তবিয়তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন প্রধান অভিযুক্ত অধ্যাপক ডা. মো. মোজিবুর রহমান।
অভিযোগ উঠেছে, একটি প্রভাবশালী মহল প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা করছে। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, এত বড় একটি শিশু পাচার সিন্ডিকেটের সুনির্দিষ্ট তথ্য উঠে আসার পরও মূল আসামিকে গ্রেফতার না করা আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
অবিলম্ব গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি অপরাধ বিশ্লেষক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মতে, এটি কোনো সাধারণ চুরি বা প্রতারণা নয় এটি একটি সুসংগঠিত আন্তর্জাতিক মানবপাচার ও জাতির ভবিষ্যৎ ধ্বংসের ষড়যন্ত্র।
ডা. মোজিবুর রহমান ও তার সহযোগীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি না করলে দেশের অন্যান্য হাসপাতালগুলোতেও শিশু চুরি ও পাচার সিন্ডিকেটগুলো আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে।
ক্ষুব্ধ নাগরিক ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর একদফা দাবি অবিলম্বে ডা. মোজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিতে হবে এবং আন্তর্জাতিক শিশুপাচার নেটওয়ার্কের শিকড় উপড়ে ফেলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
The post মাতুয়াইল আইসিএমএইচে ৪ লাখ টাকায় নবজাতক বিক্রি: নেপথ্যে সাবেক পরিচালক ডা. মোজিবুর! appeared first on দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ.
