হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন সমস্যা, বৈষম্য ও বঞ্চনার কথা শুনে সেগুলো সমাধানে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সব নাগরিকের অধিকার, নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় সরকারের পাশাপাশি বিরোধী দলেরও সাংবিধানিক দায়িত্ব রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে হিন্দু ধর্মাবলম্বী নেতাদের সঙ্গে জামায়াত আমিরের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
গোলাম পরওয়ার বলেন, মতবিনিময়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বী নেতারা দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের নানা ধরনের বৈষম্য, বঞ্চনা, অসুবিধা ও দুঃখ-কষ্টের কথা তুলে ধরেছেন। এসব সমস্যা সমাধানে তারা সহযোগিতা চেয়েছেন। জবাবে জামায়াত আমির তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।
তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে নয়, বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবেও ডা. শফিকুর রহমানের সাংবিধানিক দায়িত্ব রয়েছে। বাংলাদেশের সব ধর্মের মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে কথা বলা সরকারের যেমন দায়িত্ব, তেমনি বিরোধীদলীয় নেতারও কর্তব্য। মতবিনিময়ে তিনি নিজের এই দায়িত্বের বিষয়টি তুলে ধরেছেন এবং এ ক্ষেত্রে তার ভূমিকার কথাও জানিয়েছেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরো বলেন, জামায়াত আমির আশ্বস্ত করেছেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে ভবিষ্যতেও আরও মতবিনিময় করা হবে, তাদের কথা শোনা হবে এবং সমস্যা সমাধানে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তাদের পাশে থাকা হবে। সরকার ও বিরোধী দল ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান, পূজা ও মন্দিরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন সভায় অংশ নেওয়া হিন্দু নেতারা বলে জানান গোলাম পরওয়ার।
ব্রিফিংয়ে সিনিয়র আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী শারদীয় দুর্গোৎসবের আগে সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতাদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য আমন্ত্রণ জানানোর উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এই উদ্যোগ নেওয়ায় সনাতন সমাজের পক্ষ থেকে তারা আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছেন।
সুব্রত চৌধুরী বলেন, এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে যে শুভ সূচনা হয়েছে, তা যেন ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও প্রতিফলিত হয়। দল-মত, ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবাই একসঙ্গে দেশের উন্নয়নে কাজ করতে এবং পারস্পরিক সহমর্মিতার ভিত্তিতে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে চান তারা।
তিনি বলেন, জামায়াত আমির ও বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্য এবং তাঁদের প্রতি দেখানো গ্রহণযোগ্যতায় সনাতন সমাজ সন্তুষ্ট। আগামী দিনে জামায়াতে ইসলামী এসব বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সুব্রত চৌধুরী বলেন, বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতারা বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতা ও ধর্মীয় ব্যক্তিরা মসজিদের খুতবার মাধ্যমেও সম্প্রীতির আহ্বান জানালে দেশে প্রকৃত অর্থে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় হবে।
মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, পূজা উদযাপন ফ্রন্ট, জাতীয় হিন্দু মহাজোট, হিন্দু ধর্ম কল্যাণ ট্রাস্টসহ বিভিন্ন সংগঠন ও সংস্থার নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
