ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারেন গাদি আইজেনকট। ৬৬ বছর বয়সি এই রাজনীতিকের পোশাক প্রায় সব সময়ই সাদামাটা কালো। ইংরেজিতে কথা বলেন ধীরগতিতে। সামরিক বাহিনীর সংস্কৃতিতে গড়ে ওঠা আইজেনকট সাক্ষাৎকারেও নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন বুলেট পয়েন্টের তালিকার মতো করে।
কিছু ভোটারের কাছে তার ব্যক্তিত্বে আকর্ষণের ঘাটতিই হতে পারে সবচেয়ে বড় শক্তি।
গম্ভীর ও প্রচারবিমুখ আইজেনকট অনেক দিক থেকেই নেতানিয়াহুর বিপরীত। ইসরাইলে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করা প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু নিখুঁত মার্কিন উচ্চারণে ইংরেজি বলেন। মার্কিন টেলিভিশন কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিরোনাম হওয়ার মতো বক্তব্য দিতেও তিনি সব সময় প্রস্তুত।
আরও পড়ুন
২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ইসরাইলের সামরিক বাহিনীর প্রধান ছিলেন আইজেনকট। নেতানিয়াহুর বিভাজনমূলক শাসনের পর ইসরাইলিদের ঐক্যবদ্ধ করার অঙ্গীকার করেছেন তিনি। নেতানিয়াহুর শাসনামলে দেশটি অনেক বেশি ডানপন্থার দিকে ঝুঁকেছে।
মোলাদ থিংক ট্যাংকের গবেষক তাল এলোভিটস বলেন, ‘ইসরাইলে এমন একটি বড় ভোটারগোষ্ঠী রয়েছে, যাদের আসন্ন নির্বাচনে প্রধান লক্ষ্য শুধু পরিস্থিতি শান্ত করা।’
আরও পড়ুন
তিনি বলেন, ‘মধ্যবিত্ত শ্রেণি এমন কাউকে খুঁজছে, যাকে দায়িত্বশীল ও নিরস মনে হবে। আমার মনে হয়, আইজেনকটের মধ্যে তারা সেই গুণ দেখতে পান।’
জনমত জরিপে নেতানিয়াহুর সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে রয়েছেন আইজেনকট। গাজায় তিন বছরের যুদ্ধ এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে সহিংসতার কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরাইলের ভাবমর্যাদা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই ভাবমর্যাদা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।
পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালিয়েও দায়মুক্তি পেয়ে আসা ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আইজেনকট। সম্প্রতি এসব বসতি স্থাপনকারী এক মার্কিন সাংবাদিক ও ফ্রান্সের এক মেয়রকে মারধর করে। নেতানিয়াহু সরকারের মদদে সংঘটিত এসব ঘটনাকে তিনি ‘ইহুদি সন্ত্রাস’ বলে নিন্দা জানান।
তবে সামরিক বাহিনীর সাবেক এই প্রধান শান্তিবাদী নন। ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করে তিনি নেতানিয়াহুর চেয়েও ডানপন্থী অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক জীবনের আগের একটি সময়ের বক্তব্যও সামনে এনেছেন।
সে সময় মার্কিন চাপের মুখে নেতানিয়াহু অনিচ্ছাসত্ত্বেও ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধারণার প্রতি কিছুটা সমর্থন জানিয়েছিলেন।
২০০৬ সালে হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর নেতৃত্ব দেন আইজেনকট।
সে সময় তিনি ‘দাহিয়া ডকট্রিন’ নামে পরিচিত একটি সামরিক কৌশল প্রণয়ন করেন। বৈরুতের একটি শহরতলির নামে নামকরণ করা এই কৌশলে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠীটির সদস্যরা বসবাস করেন—এমন এলাকায় বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর ব্যাপক শক্তি প্রয়োগের অঙ্গীকার করা হয়।
গাজায়ও ইসরাইল এই কৌশল প্রয়োগ করেছে। এতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে, যা যুদ্ধাপরাধের শামিল বলে সমালোচকেরা মনে করেন। তবে ইসরাইল এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
শ্রমজীবী পরিবার থেকে উঠে আসা-
গাজায় যুদ্ধ করতে গিয়ে ছেলে গাল ও দুই ভাতিজা নিহত হওয়ার পর আইজেনকট ব্যাপক জনসমর্থন ও সহানুভূতি পেয়েছেন।
শ্রমজীবী পরিবারে বেড়ে ওঠাও তার জনপ্রিয়তার আরেকটি কারণ। তিনি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলে হবেন ইসরাইলের প্রথম সেফার্দি ইহুদি প্রধানমন্ত্রী। সেফার্দি ইহুদিদের সাম্প্রতিক পূর্বপুরুষদের শিকড় মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায়।
নেতানিয়াহু অভিজাত পরিবারে বেড়ে উঠেছেন। তার বাবা যুক্তরাষ্ট্রের একজন বিশিষ্ট অধ্যাপক ছিলেন। অন্যদিকে, আইজেনকট মরক্কোর ইহুদি পরিবারের সন্তান। ইসরাইলের ভৌগোলিক প্রান্তিক অঞ্চলে তার বেড়ে ওঠা। সূত্র: এএফপি
নাঈম/
