জলবায়ু বিষয়ক লক্ষ্যমাত্রাগুলো বিপর্যয়কর মাত্রায় অতিক্রম করা থেকে বিরত থাকতে হলে, বিশ্বকে আগামী চার বছরের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ প্রায় এক-পঞ্চমাংশ কমাতে হবে এবং এক দশকের মধ্যে তা প্রায় অর্ধেক কমিয়ে আনতে হবে।
জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি)-এর মতে, বৈজ্ঞানিক পরামর্শ অনুযায়ী তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার সুযোগটি হাতছাড়া হয়ে গেলেও, এই লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রমের মাত্রাটিকে সীমিত রাখা এখনও সম্ভব।
তবে জলবায়ু বিষয়ক লক্ষ্যমাত্রা এবং তা অর্জনের জন্য গৃহীত নীতিমালার মধ্যে যে ‘নিঃসরণ ঘাটতি’ রয়েছে, তা নিয়ে করা একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে, দেশগুলো তাদের দীর্ঘমেয়াদী নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যগুলোকে স্বল্পমেয়াদী কার্যকর পদক্ষেপে রূপান্তর করতে ব্যর্থ হচ্ছে। বৃহস্পতিবার দ্য গার্ডিয়ান এ তথ্য জানিয়েছে।
বিশ্বব্যাপী কার্বন নিঃসরণের হার যেন থমকে দাঁড়িয়েছে; ২০২৫ সালে নিঃসরণের মাত্রা আগের বছরের মতোই প্রায় অপরিবর্তিত ছিল। তবে ইউএনইপি-এর বিশ্লেষকরা একে নিঃসরণের সর্বোচ্চ সীমা বা স্থিতাবস্থা হিসেবে অভিহিত করতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। এর কারণ হলো ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অব্যাহত নির্ভরশীলতা।
২০৩০ সালের মধ্যে গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ ১৮ শতাংশ এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ৪৫ শতাংশ কমাতে পারলে, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধিকে প্রাক-শিল্পায়ন যুগের তুলনায় ১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার একটি ভালো সম্ভাবনা তৈরি হবে। এর ফলে গত কয়েক মাসের রেকর্ড তাপপ্রবাহের মতো ঘটনাগুলো ঘন ঘন ঘটতে পারে, তবে পরিস্থিতি যেন আরও ভয়াবহ আকার ধারণ না করে, তা রোধ করা সম্ভব হতে পারে।
ইউএনইপি-এর নির্বাহী পরিচালক ইঙ্গার অ্যান্ডারসেন জানান, সরকারগুলোকে বহু বছর আগেই সতর্ক করা হয়েছিল যে সময় ফুরিয়ে আসছে।
তিনি বলেন, “(আমরা বলতাম) ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে থাকার জন্য যদি আমরা অত্যন্ত কঠোর প্রচেষ্টা চালাই, তবে এখনো সুযোগ রয়েছে। এখন এটি স্পষ্ট যে, সেই কঠোর প্রচেষ্টা চালানো হয়নি। আমরা গড়িমসি করেছি, আর এখন বলছি যে সেই সুযোগের জানালাটি বন্ধ হয়ে গেছে।”
তবুও, তিনি বিভিন্ন দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের লক্ষ্যমাত্রাটিকে—যা প্যারিস জলবায়ু চুক্তির মূল ভিত্তি—অক্ষুণ্ণ রাখে।
তিনি বলেন, “আমরা তাপমাত্রা বৃদ্ধির মাত্রা অতিক্রম করার সময়কালকে যতটা সম্ভব সংক্ষিপ্ত রাখতে পারি। এখনই হাল ছেড়ে দেওয়ার সময় নয়। বরং প্রশ্ন হলো, কীভাবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমরা আবার সঠিক পথে ফিরে আসতে পারি।”
