নিউইয়র্কে মায়ের বিরুদ্ধে শিশুকন্যাকে হত্যার অভিযোগ
চ্যানেল আই অনলাইনপ্রকাশ:
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পাঁচ বছর বয়সী ভারতীয় বংশোদ্ভূত শিশুকন্যা ফাবিয়ানা কাবেলোকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার মায়ের বিরুদ্ধে। মেয়ের শেষকৃত্যের খরচ জোগাতে ১৮ হাজার ডলার সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছেন তার বাবা কুলদীপ সিং।
বুধবার (২১ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানায়।
গত ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের কুইন্সের রিচমন্ড হিল এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে ফাবিয়ানাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, ৩২ বছর বয়সী মা ফ্রান্সিস কাবেলো জরুরি নম্বর ৯১১-এ ফোন করে বলেন, ‘আমি আমার মেয়েকে হত্যা করেছি।’
পুলিশ সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌছে শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় পায়। তার নাক দিয়ে রক্ত ঝরছিল। পরে তাকে জামাইকা হাসপাতাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। কী ঘটেছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বৃহস্পতিবার ফ্রান্সিস কাবেলোকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিপল সাময়িকীর হাতে আসা অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ময়নাতদন্তে শিশুটির মুখে আচড় এবং চোখ, হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসে ক্ষুদ্র রক্তক্ষরণের চিহ্ন পাওয়া গেছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, এসব লক্ষণ শ্বাসরোধের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
মেয়ের শেষকৃত্যের খরচ মেটাতে কুলদীপ সিং অনুদান সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছেন। গোফান্ডমিতে দেওয়া আবেদনে তিনি লেখেন, মেয়েকে তিনি খুব ভালোবাসতেন। তাকে হারিয়ে মনে হচ্ছে, নিজের পুরো পৃথিবীটাই হারিয়েছেন।
উবার চালক হিসেবে কাজ করা কুলদীপ জানান, শেষকৃত্য ও কবরস্থানের খরচের জন্য অগ্রিম অর্থ দিতে হবে। কিন্তু শোকের মধ্যে এসব ব্যয় বহন করা তার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। মেয়ের যথাযথ শেষকৃত্য সম্পন্ন করাই তার এই উদ্যোগের লক্ষ্য।
নিউইয়র্ক পোস্ট-এর প্রতিবেদনে ফ্রান্সিসের বাবা ফ্র্যাঙ্কলিন কাবেলোর বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, তার মেয়ের মানসিক সমস্যা ছিল এবং সে অস্বাভাবিক আচরণ করছিল। তার দাবি, ফ্রান্সিস ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল। তবে শিশুটির ক্ষতি করতে পারে, এমনটা তিনি কখনো ভাবেননি। ফ্রান্সিসের দাবি ছিল, চিকিৎসকই তাকে ওষুধ বন্ধ করার অনুমতি দিয়েছিলেন।
ফাবিয়ানার চাচা পুনরাজ সিং তাকে হাসিখুশি ও স্নেহশীল শিশু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি আগে একই ভবনের নিচতলায় থাকতেন। ফাবিয়ানা প্রায়ই তার কাছে যেত। তিনি শিশুটির পছন্দের খাবার ভাজা মাছ, ডালপুরি, রুটি ও তরকারি রান্না করে দিতেন।
পুনরাজ জানান, ফাবিয়ানা তার প্রপিতামহীকে হাঁটতে সাহায্য করত। একবার চিকিৎসকের কাছে গিয়ে সে কয়েকজন নার্সকে জড়িয়ে ধরেছিল বলেও স্মরণ করেন তিনি।
নিউইয়র্ক টাইমসকে পুনরাজ বলেন, ফাবিয়ানা ছিল পরিবারের আনন্দের উৎস। এত সুন্দর একটি শিশুকে কেউ হারাতে চাইবে না।
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…
