নতুন দেশে গিয়েও নিজেদের চেনা ছন্দে রয়েছে ভারত। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের রান উৎসবের ধারা বজায় রেখে দক্ষিণ গোলার্ধেও জয় দিয়ে নিজেদের অভিযান শুরু করেছে তারা। ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলে ওভালে অনুষ্ঠিত প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে রান তাড়ায় দারুণ জয় তুলে নেয় ভারতীয় দল। যেখানে নির্ধারিত ওভারে দুই দলের স্কোর দাঁড়ায় যথাক্রমে নিউজিল্যান্ডের ২৩৫ এবং ভারতের ২২৫ রান (নোট: স্কোর উল্টোভাবে বর্ণিত ম্যাচের বিবরণে লক্ষ্য তাড়ায় জয়)। দীর্ঘ সফরের শুরুর দিনেই শ্রেয়াস আইয়ার জেট ল্যাগের ক্লান্তি ভুলে সামনের ম্যাচগুলোতে মনোযোগ দেওয়ার তাগিদ অনুভব করেন। স্বস্তির বিষয় হলো, সফরের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে হ্যাগলে ওভাল মাঠেই অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি।
হাড় কাঁপানো ঠান্ডার আবহাওয়ায় এবং ম্যাচের সময় তাপমাত্রা কুড়ির নিচে নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় শিশির ফ্যাক্টর বড় ভূমিকা রাখতে পারে। স্থানীয় সময় রাত আটটায় শুরু হতে যাওয়া এই ম্যাচের উইকেটের চরিত্র নিয়ে ব্যাটাররা জানিয়েছেন, শুরুতে একটু ধীরগতির মনে হলেও পরবর্তীতে পিচ বেশ সমতল হয়ে ওঠে। প্রথম ওভারগুলোতে নতুন বলের সুইং আদায় করে নিতে মুখিয়ে থাকবেন দুই দলের পেসাররাই। তবে এই ম্যাচে বড় ধাক্কা খেয়েছে ভারতীয় শিবির; ডান পায়ের কুঁচকির হালকা চোটের কারণে দ্বিতীয় ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছেন ইশান কিষাণ। তার পরিবর্তে দলের সঙ্গে ব্যাকআপ হিসেবে যুক্ত হয়েছেন কুমার কুশগ্র। ইশানের অনুপস্থিতিতে ব্যাটিং অর্ডারে আসবে পরিবর্তন। তিলক ভার্মাকে তিন নম্বরে খেলানোর পাশাপাশি মিডল অর্ডার শক্তিশালী করতে একাদশে আসতে পারেন শিভাম দুবে। এছাড়া ১৫ বছর বয়সী বিস্ময় বালক বৈভব সূর্যবংশীকে একাদশে নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন ব্যাটিং কোচ সিতানশু কোটাক।
প্রথম ম্যাচে পরাজয় বরণ করলেও নিউজিল্যান্ড দলের প্রাপ্তির ঝুলি নেহাত ছোট নয়। ঝোড়ো সূচনা, গ্লেন ফিলিপসের দ্রুত গিয়ার পরিবর্তন এবং বেভন জ্যাকবসের আগ্রাসী ক্যামিও মিলে স্বাগতিকরা একটি শক্তপোক্ত সংগ্রহ গড়েছিল। ভারতের উদ্বোধনী ঝড়ের পর দারুণভাবে খেলায় ফিরেছিল কিউই বোলাররা। তবে নামান ধিরের ডেথ ওভারের ঝড়ো ব্যাটিং শেষ পর্যন্ত তাদের জয় কেড়ে নেয়। পাওয়ার প্লে চলাকালীন ভারতের আক্রমণ ঠেকানোর বিকল্প কৌশল নিয়ে গ্লেন ফিলিপস রসিকতা করলেও, ফিল্ডিং এবং বোলিংয়ে উন্নতির সুযোগ যে রয়েছে তা স্বীকার করেছে স্বাগতিক শিবির। ম্যাট হেনরি এবং অ্যাডাম মিলনে নতুন বলে খরুচে প্রমাণিত হলেও, কাইল জেমিসন কিংবা জ্যাকব ডাফির মতো পেসারদের স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করার বিকল্প খোলা রেখেছে নিউজিল্যান্ড। স্পিন বিভাগ সামলানোর দায়িত্ব মিচেল স্যান্টনার এবং মাইকেল ব্রেসওয়েলের ওপরই আস্থা রাখছে তারা।
পরিসংখ্যানের পাতায় ভারত এখন অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে পুরুষদের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে রান তাড়া করে দুইশ ছাড়ানো লক্ষ্য পার করার রেকর্ডে শীর্ষে, তারা এই কীর্তি গড়েছে সাতবার। অন্যদিকে, পুরুষদের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ২১৪ দশমিক ৮৩ স্ট্রাইক রেট নিজের নামের পাশে রেখেছেন তরুণ তুর্কি বৈভব সূর্যবংশী। ব্যাটিং কোচের মতে, অতিরিক্ত হাইপ বা প্রচারণার চেয়ে ধৈর্য ধরে নিজের সময়ের অপেক্ষা করাটা এই তরুণকে আরও পরিপক্ব করে তুলেছে। গ্লেন ফিলিপসও তার সুইচ হিট শট খেলার পেছনের দীর্ঘ অনুশীলনের গল্প শুনিয়েছেন, যা ইঙ্গিত দেয় আসন্ন লড়াইয়ে কোনো দলই সহজে ছাড় দেবে না। সিরিজের এই দ্বিতীয় ম্যাচেও প্রথমটির মতো চার-ছক্কার রোমাঞ্চকর লড়াই দেখার অপেক্ষায় মুখিয়ে আছেন ক্রীড়াপ্রেমীরা।
