কালবেলা · সাধারণ
ময়লার ভাগাড়ে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী, দেখার জন্য কেউ নেই
২০/১০/২০২৬

ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশের দুই স্থানে ময়লার ভাগাড় বানিয়েছে গৌরনদী পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। প্রতিদিন ভ্যান ও ট্রাকবোঝাই করে ময়লা এনে ফেলা হচ্ছে ভাগাড়ে। ফলে দুর্গন্ধ, মশা-মাছির উপদ্রবে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, গৌরনদী উপজেলার নীলখোলা ব্রিজের ঢালে এবং কসবা হজরত মল্লিক দূত কুমার (র.) মাজারের দক্ষিণ দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশে প্রতিদিন পৌর এলাকার ময়লার স্তূপ জমা করে ভাগাড়ে পরিণত করা হয়েছে।
মহাসড়কের পার্শ্ববর্তী টরকী নীলখোলা এলাকার বাসিন্দা রানা দেওয়ান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে পৌর এলাকার যত ময়লা-আবর্জনা রয়েছে তা এনে আমাদের বাড়ির পার্শ্ববর্তী মহাসড়কের পাশে স্তূপ করা হচ্ছে। পলিথিন আর আবর্জনায় ময়লার ফেলার স্থান ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। দুর্গন্ধে স্থানীয়দের বাসাবাড়িতে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।’
তিনি বলেন, ‘নীলখোলা ব্রিজের উত্তর দিকে মহাসড়কের পাশে দেওয়ান বাড়ি মসজিদ। ওই মসজিদের সামনেই ময়লার ভাগাড় আবার মহাসড়কের দুইপাশেই অসংখ্য ঘরবাড়ি। ময়লার দুর্গন্ধে মসজিদে মুসল্লিদের যেমন নামাজ পড়তে কষ্ট হচ্ছে, তেমনি বসতবাড়িতে থাকা লোকজন অতিষ্ঠ হয়ে পরছে। আমরা ময়লার দুর্গন্ধ থেকে পরিত্রাণ চাই।’
স্থানীয় মিজান সরদার ও সুমন তালুকদার বলেন, এখানে শুধু টরকী এলাকার ময়লা নয়, আশপাশের এলাকার ময়লা এনে ভাগাড়ে ফেলা হচ্ছে। শুধু ময়লা নয়, মানুষের বাসাবাড়িতে কোনো প্রাণী মারা গেলে তাও এনে ফেলা হচ্ছে। ভাগের দুর্গন্ধে মহাসড়কের ওই স্থান দিয়ে চলাচল করা কষ্টসাধ্য। ভাগারের পাশ দিয়ে পথচারীদের নাক চেপে চলাচল করতে হচ্ছে।
তারা আরও বলেন, উন্মুক্ত স্থানে রাখা ময়লায় কিছুদিন পরপরই আগুন ধরে যাচ্ছে। যে কারণে আগুনের ধোঁয়ায় বায়ু দূষণ হচ্ছে। সেই বায়ুতে আশপাশের লোকজন ও পথচারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এ বিষয়ে গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্মআহবায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু বলেন, ‘মহাসড়কের পাশের ভাগাড় পরিবেশ দূষণ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। ময়লা দুর্গন্ধ থেকে জনসাধারণদের রক্ষায় ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের জন্য আমরা পৌর কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানাব।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইব্রাহীম বলেন, ‘ডাম্পিং স্টেশন তৈরির পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে মহাসড়কের পাশে ময়লা ফেলার সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।’
মূল প্রতিবেদনে যান ↗