আজকাল ওয়েবডেস্ক: শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের জন্য নয়, বরং ভাঙচুর, অসদাচরণ এবং উপাচার্যকে হেনস্থার অভিযোগে কয়েকজন ছাত্রের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হয়েছে। শনিবার প্রকাশিত বিবৃতিতে এমনটাই জানাল সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (এসআরএফটিআই) কর্তৃপক্ষ।
প্রতিষ্ঠানের দাবি, আন্দোলনের সময় উপাচার্যের দপ্তরে ভাঙচুর চালানো হয়। জানলার কাচ ভাঙা, আসবাবপত্র নষ্ট করা এবং জল ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার পাইপলাইন কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার ছবি রয়েছে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, এক ছাত্র উপাচার্যের সঙ্গে শারীরিকভাবে দুর্ব্যবহার করেন। অন্য কয়েকজন তাঁকে ঘেরাও করে ভয় দেখান এবং গালিগালাজ করেন। এই অভিযোগগুলির ভিত্তিতেই কয়েকজন ছাত্রকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং কয়েকজনকে শোকজ নোটিস দেওয়া হয়েছে। তদন্তের পর ডিনস কাউন্সিল শাস্তিমূলক পদক্ষেপের সুপারিশ করে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠান।
এদিকে, ফিল্ম এবং ইলেকট্রনিক অ্যান্ড ডিজিটাল মিডিয়া বিভাগের পঠনপাঠন আগামী ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের ক্যাম্পাস ও হস্টেল খালি করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। তবে নির্দেশের পরেও কিছু ছাত্র ক্যাম্পাসে রয়েছেন বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।
এসআরএফটিআই জানিয়েছে, ছাত্রছাত্রীদের নিজেদের মতামত প্রকাশ করা, অভিযোগ জানানো এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করার অধিকার রয়েছে। কিন্তু আন্দোলনের নামে ভাঙচুর বা শারীরিক হেনস্থার অভিযোগ উঠলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কর্তৃপক্ষের দাবি, আন্দোলনে ছাত্রসমাজের একটি অংশ যুক্ত। তাই কয়েকজনের কাজের জন্য গোটা ছাত্রসমাজকে দায়ী করা উচিত নয়।
প্রতিষ্ঠানের তরফে ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক এবং সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, যাচাই না করা তথ্যের ভিত্তিতে কোনও সিদ্ধান্তে না পৌঁছতে। ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক পঠনপাঠন ফিরিয়ে আনা এবং সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখাই তাদের লক্ষ্য বলে জানিয়েছে এসআরএফটিআই।
