হাওড়া শহর ও গ্রামীণ এলাকায় ডেঙ্গির প্রকোপ বাড়তে থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে জেলা প্রশাসনের। জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, গত এক সপ্তাহে হাওড়া পুরসভা এলাকায় ৫১ জন এবং গ্রামীণ হাওড়ায় ৪২ জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে শুক্রবার জেলা স্বাস্থ্য দফতর ও পুরসভার আধিকারিকদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন জেলাশাসক পি দীপাপ প্রিয়া। পুজোর মরসুমে পুরসভা ও পঞ্চায়েত এলাকায় ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা কতটা বেড়েছে, তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। সংক্রমণ বৃদ্ধির হার কমাতে অবিলম্বে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, হাওড়া পুরসভার ৫০টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২০টিতে ডেঙ্গির প্রকোপ বেড়েছে। এর মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা সব চেয়ে বেশি হাওড়া শহরের প্রাণকেন্দ্র হাওড়া ময়দানের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে। এই এলাকাতেই রয়েছে হাওড়া জেলা হাসপাতাল, জেলাশাসকের দফতর, পুরভবন, হাওড়া আদালত-সহ বিভিন্ন প্রশাসনিক দফতর এবং একাধিক স্কুল ও কলেজ। বছরের ৪৩তম সপ্তাহে এই ওয়ার্ডে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৯ বলে স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর। আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির নিরিখে উদ্বেগ বাড়িয়েছে ১৪, ১৫, ২১, ৩৬, ৩৯, ৪০, ৪১, ৪৭ এবং ৫০ নম্বর ওয়ার্ডও।
অন্য দিকে, গ্রামীণ হাওড়ার ডোমজুড় এলাকার বাঁকড়ায় পুজোর মরসুমে ১৯ জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন বলে খবর। এ ছাড়া, সাঁকরাইল, বালি-জগাছা, উলুবেড়িয়া-১ এবং আমতা-১ ব্লকেও ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক বলে জানা গিয়েছে।
জেলা স্বাস্থ্য দফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে এখনও পর্যন্ত গোটা হাওড়া জেলায় ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ৭৪০। এর মধ্যে গ্রামীণ এলাকায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩৭৭ জন এবং শহরাঞ্চলে ৩৬৩ জন। পুজোর মরসুমে সংক্রমণ বৃদ্ধির খবর সামনে আসতেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুক্রবার জেলাশাসকের দফতরে জরুরি বৈঠক করেন প্রশাসনের কর্তারা। হাওড়া পুরসভা এবং গ্রামীণ এলাকার পঞ্চায়েতের আধিকারিকদের সঙ্গে ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমেও আলোচনা হয়।
বৈঠকে শহর ও গ্রামাঞ্চল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার উপরে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, স্বাস্থ্যকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ডেঙ্গি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখার বিষয়েও আলোচনা হয়। এ প্রসঙ্গে হাওড়ার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক কিশলয় দত্ত বলেন, “ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হলেও চিন্তার কোনও কারণ নেই। ডেঙ্গি মোকাবিলায় প্রশাসন সব রকম ব্যবস্থা নিচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় ক্যাম্প করা হচ্ছে। পাশাপাশি, স্বাস্থ্য আধিকারিকদের নিয়ে গঠিত দল বিভিন্ন এলাকায় ঘুরছে। জোর দেওয়া হচ্ছে সচেতনতামূলক প্রচারে।”
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
