পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে এসআইআর করার দাবি তুললেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শমীক বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের আরও একবার এসআইআর প্রয়োজন। কারণ, আগেরবার এসআইআর প্রক্রিয়া মসৃণভাবে সম্পন্ন হয়নি।” তাঁর এই দাবির সপক্ষে ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, আগের বার বহু মানুষের নথি কেড়ে নিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল, আধিকারিকদের আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছিল। আগে এসআইআর প্রক্রিয়া মসৃণভাবে না হওয়ার জন্য আগের তৃণমূল সরকারের অপশাসনকেই দায়ী করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি।
দশমীর পরই সারা দেশ জুড়ে এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের অপপ্রচারের পাল্টা জবাব দিতে মাঠে নামছে বিজেপি।
একই সঙ্গে তাঁর দাবি, জ্ঞানেশ কুমারকে ভোট চোর না-বলে নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরির জন্য তাঁকে পুরস্কৃত করা উচিত। যদিও তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য নতুন করে এসআইআরের বিরোধিতা করেছে। এদিকে, জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে দিল্লিতে আন্দোলন করছে বিরোধী দলগুলি। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় কারচুপি করা হয়েছে আর তার মূল ষড়যন্ত্রী দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার- এই অভিযোগে সরব বিরোধী শিবির। কংগ্রেস-বামেরা পথে নেমেছে।
পুজোর পরই তার পালটা কর্মসূচি নিচ্ছে বিজেপিও। দশমীর পরই সারা দেশ জুড়ে এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের অপপ্রচারের পাল্টা জবাব দিতে মাঠে নামছে বিজেপি। যদিও এই বিষয়ে একপ্রস্ত বৈঠকও হওয়ার কথা রয়েছে দিল্লিতে। যেখানে দলের সমস্ত রাজ্যের সভাপতিদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। সেই বৈঠকেই মূলত বিরোধীদের ঠেকাতে রণকৌশল ঠিক করা হবে বলে জানা গিয়েছে। তবে জানা গিয়েছে, ব্লক, মণ্ডলস্তর থেকে শুরু করে রাজ্যের প্রতিটি জেলায় মিছিল এবং সভা করবে বিজেপি। সেখান থেকেই এসআইআর নিয়ে বিরোধীরা যে মিথ্যাচার করছে তার জবাব তথ্যসহ তুলে ধরবে দল, অন্তত এমনই জানিয়েছেন রাজ্য বিজেপির এক নেতা। এসআইআর ইস্যুতে বিরোধীদের পাল্টা কর্মসূচি কলকাতাতেও বড় করে করা হবে। শহরে একটি কেন্দ্রীয় মিছিল করার পরিকল্পনা রয়েছে গেরুয়া শিবিরের। সেই পরিস্থিতিতেই আগের তৃণমূল সরকারকে কাঠগড়ায় তুলেই শমীক নতুন করে এসআইআরের দাবি তুলেছেন। যা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
