হাওড়া জেলা সংশোধনাগারে রহস্যমৃত্যু বন্দির! পরিবারের অভিযোগ যুবককে খাবারের সঙ্গে বিষাক্ত জাতীয় কিছু খাইয়ে খুন করা হয়েছে। আরও অভিযোগ, যুবক অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে ওই অবস্থাতেই ফেলে রেখেছিল জেল কর্তৃপক্ষ। ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছেন পরিবারের সদস্যরা। জেলা প্রশাসনের তরফে পরিবারের অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম প্রসেনজিৎ ঘোষ। লিলুয়ার মীর পাড়ার বাসিন্দা। ৫ আগস্ট লিলুয়ার বার্মা কলোনিতে মদ ও জুয়ার ঠেকে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয় প্রসেনজিৎকে। বিচারক জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। মৃতের মায় মা সুধা দেবীর দাবি, সপ্তাহ খানেক আগে যখন জেলে তিনি তাঁর ছেলের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছেন। তখনই ছেলে তাঁকে জানায় তাঁর শরীর খারাপ। হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। প্রসেনজিতের ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তি করানোর জন্য তাদের আইনজীবী মারফত জেল কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদনও করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জেল কর্তৃপক্ষ আবেদনে সাড়া দেওয়ার আগেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন প্রসেনজিৎ। সুধাদেবী অভিযোগ করেছেন, খাবারের সঙ্গে তাঁর ছেলেকে বিষাক্ত কিছু খাওয়ানো হয়েছে। অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসা না করে ফেলে রাখারও অভিযোগ করেছেন তিনি।
তিনি বলেন, “গত সপ্তাহের শুক্রবার ছেলের সঙ্গে জেলে শেষ দেখা হয়। শনিবার বিকেলে আমাকে জেল থেকে ফোন করে জানানো হয় ও খুব অসুস্থ। হাওড়া জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারপর থেকেই ধীরে ধীরে ছেলের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। ওকে আইসিইউতে দেওয়া হয়। তারপর মৃত্যু। চিকিৎসকরা জানায় নেশা করে আমার ছেলের লিভার খুব খারাপ হয়ে গিয়েছিল। সে কারণেই মৃত্যু। ছেলে অতিরিক্ত নেশা কিছু করতো না। আমার মনে হয় আমার ছেলেকে জেলের ভিতর বিষাক্ত কিছু খাওয়ানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, সেই খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার পরও ছেলের সময়মতো চিকিৎসা করানো হয়নি। এর জন্য জেল কর্তৃপক্ষই দায়ী।” অভিযোগ খতিয়ে দেখে দোষ থাকলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
