গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছর বয়সি এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে এক মাদ্রাসাশিক্ষককে মারধরের ঘটনা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আলোচনায় উঠে এসেছেন শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি। ওই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর ‘থাপ্পড়ম্যান’ নামে পরিচিতি পেয়েছেন তিনি।
টঙ্গীর ঘটনাটি নিয়ে সরব হয়েছেন শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও। আলোচিত মডেল-অভিনেত্রী নায়লা নাঈম শাহজালাল রুমির একটি ভিডিও শেয়ার করে সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন—“ভাই আপনার জন্য আমার একটা চুমু রইল!”
‘হাওয়া’খ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমনও বিষয়টি নিয়ে সরব প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, “বলাৎকার বন্ধ করো, আরো জোরে থাপ্পড় মারো।” তার এ পোস্টে সহমত পোষণ করে অভিনেতা স্বাধীন খসরু লেখেন, “ঠিক আছে।” নির্মাতা মারিয়া তুষার লেখেন, “ইয়েস।” অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি কমেন্ট বক্সে লাভ ইমোজি পোস্ট করেছেন।
‘ন ডরাই’খ্যাত অভিনেতা নাসির উদ্দিন খান সমকালীন বিষয় নিয়ে নিয়মিত কথা বলে থাকেন। টঙ্গীর ঘটনা নিয়ে নিজ ঢংয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এ অভিনেতার ভাষ্য, “দেশ এগিয়ে যাচ্ছে...। চুমুর শাস্তি শিরশ্ছেদকে সঠিক বলা বান্দারা এখন চুমুকে নির্দোষ বলে, আইন হাতে তুলে নেয়া জনতা এখন আইনের আশ্রয়ের কথা বলে, মব উস্কানি পাব্লিকেরা এখন মবের বিরুদ্ধে।”
হারামের তালিকায় নতুন বিষয় যোগ হতে পারে ধারণা নাসির উদ্দিন খানের। এ অভিনেতা বলেন, “সামনে হারামের তালিকায় নতুন বিষয় যোগ হতে পারে, যেমন: জিম করা। সম্পর্ক বদলে গেল একটি চোয়ারে।” ‘চোয়ার’ শব্দটির অর্থ ব্যাখ্যা করে নাসির উদ্দিন খান বলেন, “চোয়ার’ একটি চাটগাঁইয়া শব্দ, এর অর্থ থাপ্পড় বা চটকানা।”
টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার একটি মাদ্রাসায় প্রথম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে মোসলেম আহম্মদ (৩০) নামে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর শিশুটির স্বজন ও এলাকাবাসী তাকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। গত ২২ অক্টোবর শিশুটির বাবার করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ওই শিক্ষককে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ ও মারধরের একাধিক ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে ২৪ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের একটি ভিডিওতে ওই শিক্ষককে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ‘অন্য রকম সম্পর্ক’ থাকার কথা বলতে শোনা যায়। একপর্যায়ে ‘চুমু’ প্রসঙ্গ আসতেই ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে থাপ্পড় মারতে শুরু করেন শিশুটির স্বজনেরা।
এদিকে, শিশুটির বাবার বিরুদ্ধে মব সৃষ্টি, মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও ১৭ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। এসব অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, “মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাইতে মাদ্রাসায় গিয়েছিলাম, মব সৃষ্টি করতে নয়।”
