Published on
:
2 min read
প্রত্যুষ চক্রবর্তী, আউশগ্রাম
একই আসনে পাশাপাশি পূজিত হন দেবী দুর্গা ও দেবী কালী। গত প্রায় ৭৫ বছর ধরে এই অনন্য ঐতিহ্য বহন করে চলেছে পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রাম-২ ব্লকের ঘোঘাতলা গ্রামের মাজি পরিবার। শারদোৎসবের সময়ে মন্দিরের বাইরে পৃথক দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করিয়ে আরাধনা করা হলেও মন্দিরের ভিতরে দুর্গা ও কালীকে পাশাপাশি রেখে পরিবারের নিজস্ব রীতিতে তাঁদের ‘শ্যামারূপা’ হিসেবে পুজো করা হয়।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, আগে কাঁকসার জঙ্গলমহলে শ্যামারূপা মন্দিরে নবমীর বলিদানের জন্য মাজি বাড়ি থেকে চালকুমড়ো পাঠানো হতো। প্রায় সাড়ে সাত দশক আগে সময়মতো পৌঁছতে না-পারায় বলিদানের নিয়ম ভাঙায় অপমানিত বোধ করেন পরিবারের পূর্বপুরুষ সুধীর মাজি। বাড়ি ফিরে তিনি একটি পাথরখণ্ডের সামনে চালকুমড়ো নিবেদন করেন এবং সেখান থেকেই এই পুজোর সূচনা। বর্তমান সেবাইত সঞ্জয় মাজি নিজের স্মৃতিকথা তুলে ধরে বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই আমি শ্যামারূপার পুজো করে আসছি। তবে আগে আমাদের বাড়িতে শুধুমাত্র ঘট প্রতিষ্ঠা করে পুজো হতো, কোনও প্রতিমা ছিল না। ছোটবেলায় গ্রামের অন্য পাড়ায় প্রতিমাপুজো হতে দেখে খুব কষ্ট হতো। সেই ভাবনা থেকেই একদিন নিজেই প্রতিমা তৈরি করতে শুরু করি। কোনও পেশাদার মৃৎশিল্পীর কাছে কাজ শিখিনি, মনে মনে মায়ের রূপ কল্পনা করেই প্রতিমা গড়েছিলাম।’ তিনি আরও জানান, মন্দিরের ভিতরের জোড়া প্রতিমা প্রতি তিন বছর অন্তর বিসর্জন দেওয়া হয়।
এই পুজোর আচার-অনুষ্ঠানেও রয়েছে নানা বৈচিত্র। বোধনের দিনে ইঁদুরের গর্তের মাটি দিয়ে ঘট প্রতিষ্ঠা করা হয়। চতুর্থীতে শুশুনি, কলমি, পালং সমেত সাত রকমের শাক দিয়ে বিশেষ ভোগ নিবেদন করা হয়। পুজোয় ভক্তদের দেওয়া জামাকাপড় ও গয়না তারা নিজেরা না রেখে গ্রামের দরিদ্র মেয়েদের বিয়ের সময়ে উপহার হিসেবে তুলে দেয় মাজির পরিবার। এ ছাড়া দশমীর বদলে একাদশীর দিন সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন গ্রামের বধূরা।
