পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ডকে নিয়ে আয়োজিত ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছিল স্বাগতিক পাকিস্তান। সেখান থেকে দারুণ ব্যাটিংয়ে দলের হাল ধরেন সালমান আলী আঘা। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে তুলে নেন ক্যারিয়ারের চতুর্থ ওয়ানডে সেঞ্চুরি। তবে শতক ছোঁয়ার পর হেলমেট উঁচিয়ে তার করা ভিন্নধর্মী উদযাপনের দৃশ্যটি ক্রিকেটপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু চলে এসেছে।
টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়কত্ব হারানো আর টেস্ট দল থেকে বাদ পড়ার পর সমালোচকদের কড়া জবাব দিতেই কি ড্রেসিংরুমের দিকে এই উদযাপন? ম্যাচের পর সেই কৌতূহলের অবসান ঘটিয়ে আসল সত্যটি নিজেই খোলসা করেছেন পাকিস্তানি এই অলরাউন্ডার।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছিল পাকিস্তান। দলের কঠিন বিপদের মুখে দাঁড়িয়ে মাত্র ৮২ বলে ক্যারিয়ারের দ্রুততম ওয়ানডে শতক হাঁকান সালমান। সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর ড্রেসিংরুমের দিকে তাকিয়ে বিশেষ হাত নাড়ার অঙ্গভঙ্গি করেন তিনি। অনেকে এটিকে সমালোচকদের প্রতি তোপ হিসেবে ভাবলেও আগা জানিয়েছেন, এটি আদতে ছিল তার ছোট্ট ছেলের জন্য এক ভালোবাসার প্রকাশ।
ম্যাচ শেষে নিজের আবেগের কথা জানাতে গিয়ে ৩২ বছর বয়সী এই ব্যাটার বলেন, ‘কাউকে বার্তা দেওয়ার কিংবা ভুল প্রমাণ করার মতো সময় বা আগ্রহ আমার নেই। আমি ক্রিকেট খেলতে ভালোবাসি, ব্যাট হাতে ক্রিজে থাকতে ভালোবাসি এবং দেশের প্রতিনিধিত্ব করাটা প্রতি মুহূর্তে উপভোগ করি।’
ছেলেকে নিয়ে বলতে গিয়ে আঘা হাসিমুখে বলেন, ‘আমার ছোট্ট ছেলে টিভিতে খেলা দেখার সময় ঠিক এভাবেই হাত নেড়ে আনন্দে মেতে ওঠে। তাই সেঞ্চুরির পর ছেলের মতো করেই উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিই।’
রাওয়ালপিন্ডিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৯০ বলে ১০৭ রানের ইনিংস খেলেন সালমান। তার ইনিংসটি সাজানো ছিল ১০টি চার ও ১টি ছক্কায়। এটি ছিল আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে তার চতুর্থ সেঞ্চুরি। তার এই ইনিংসে চড়েই পাকিস্তান ৩০৫ রানের বড় সংগ্রহ পায়। শেষ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কাকে ৩৭ রানে হারিয়ে সিরিজ শুরু করে স্বাগতিকরা।
সম্প্রতি বেশ কিছু কঠিন পরিস্থিতি পেরিয়ে ফের পাকিস্তানের সবুজের জার্সিতে আলোর মুখ দেখলেন আঘা। সম্প্রতি তার কাছ থেকে টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্ব ফিরিয়ে নেওয়া হয় এবং ইংল্যান্ড সিরিজের পর বাদ দেওয়া হয় টেস্ট স্কোয়াড থেকেও।
তবে ভেঙে না পড়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরে গিয়ে কঠোর পরিশ্রমের জানান দেন তিনি। সম্প্রতি ঘরোয়া ক্রিকেটে ‘প্রেসিডেন্টস ট্রফি’তে অপরাজিত ৩০০ রানের এক অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলে নির্বাচকদের বাধ্য করেন তাকে আবারও ওয়ানডে দলে ফিরিয়ে আনতে।
নিজের এই অর্জনের পর পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেটের মান ও গুরুত্ব তুলে ধরেন সালমান আলী আঘা। জাতীয় দলে সুযোগ পেতে ঘরোয়া টুর্নামেন্টকে সঠিকভাবে মূল্যায়নের জোর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত রান করা বা উইকেট পাওয়া মোটেও সহজ কাজ নয়। যারা সেখানে প্রতিনিয়ত ঘাম ঝরিয়ে পারফর্ম করছেন, তাঁদের যথাযথ সম্মান ও জাতীয় দলে সুযোগ দেওয়া উচিত। আমার মনে হয়, এখন সময় এসেছে আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটকে প্রাপ্য মর্যাদা দেওয়ার।’
সংশ্লিষ্ট সংবাদ: সালমান আলী আঘা
২০ মে ২০২৬
