দুর্গাপূজার ছুটি এবং পর্যটন কার্নিভালকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সাগরকন্যা কুয়াকাটায় পর্যটকের ভিড় জমেছে। বিশ্ব ঐতিহ্য ও নয়নাভিরাম সূর্যাস্ত-সূর্যোদয়ের সৈকতজুড়ে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
গতকাল শুক্রবার সকালে পর্যটন কার্নিভালের উদ্বোধন করেন পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এমপি এবং মিজ সুলতানা জেসমিন জুঁই এমপি উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে আবাসিক হোটেল খান প্যালেসে পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান ও কার্নিভালের প্রধান অতিথি মো. সামীমুজ্জামান সংবাদ সম্মেলন করেন।
এদিকে কার্নিভালকে কেন্দ্র করে সৈকত ও আশপাশের এলাকায় শতাধিক ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী পসরা সাজিয়েছেন। ঢাকার গাজীপুর থেকে আসা ঘুড়ি ব্যবসায়ী মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, কুয়াকাটায় পর্যটকদের কাছে ঘুড়ির কদর বেশি থাকায় তিনি বিক্রির জন্য ৫০০ ঘুড়ি নিয়ে এসেছেন। একইভাবে ঢাকার শেওড়াপাড়া থেকে আসা পুষ্প ব্যবসায়ী মো. কবির হোসেনও আশানুরূপ ফুল বিক্রির প্রত্যাশা প্রকাশ করেন।
শুধু ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীই নন, কার্নিভাল ও পূজার টানা ছুটিতে কেনাবেচা বাড়াতে প্রস্তুতি নিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও। কুয়াকাটার রাখাইন মার্কেটের ব্যবসায়ী মো. সুজন মিয়া জানান, বেচাকেনা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে তাদের এলাকার ব্যবসায়ীরা প্রত্যেকে দোকানে নতুন করে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকার অতিরিক্ত মালামাল তুলেছেন। পাশাপাশি শুঁটকিপল্লির ব্যবসায়ী মো. হারুন মিয়াও পর্যটকদের উপস্থিতিতে ভালো বিক্রির আশা ব্যক্ত করেন।
তবে উৎসবের আমেজের মাঝেও আবাসিক হোটেল-মোটেলগুলোর ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঘুরতে আসা অধিকাংশ পর্যটক। তাদের অভিযোগ, কার্নিভাল উপলক্ষে হোটেল ভাড়ায় ৫০ শতাংশ ছাড় (ডিসকাউন্ট) দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তা মেনে চলা হচ্ছে না। উল্টো স্বাভাবিক সময়ে ২ হাজার টাকার কক্ষের ভাড়া হাঁকা হচ্ছে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা। ছাড়ের নামে পর্যটকদের সঙ্গে এ ধরনের প্রতারণা বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
