গৌরীপুরে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, লটারিতে প্রথম হয়েও বাদ ব্যবসায়ী
গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
- আপডেট সময় : ০৯:৩৮:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। লটারিতে প্রথম হয়েও চূড়ান্ত তালিকায় নাম না থাকার অভিযোগ করেছেন এক ব্যবসায়ী। এ ছাড়া তালিকা বাতিলের দাবিতে জেলা প্রশাসক ও কৃষিমন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন অন্য আবেদনকারী ও স্থানীয় বিএনপি নেতারা।
সোমবার (১২ অক্টোবর) গৌরীপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন পৌর কৃষকদলের সভাপতি ও মুন্সী এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী গোলাম কাজীয়েল হাজাত মুন্সী, যিনি শাহী মুন্সী নামে পরিচিত।
শাহী মুন্সী অভিযোগ করেন, উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় সার ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়া গোপনে সম্পন্ন করা হয়েছে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ডৌহাখলা ইউনিয়নের যাচাই-বাছাই শেষে লটারি অনুষ্ঠিত হয়। ওই লটারিতে তাঁর নাম প্রথম ওঠে বলে দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে তাঁর কাছে ভিডিও ফুটেজও রয়েছে। তবে চূড়ান্ত তালিকায় তাঁর নাম রাখা হয়নি।
শাহী মুন্সীর অভিযোগ, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হাবিবুল ইসলাম খান শহীদ ও ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব আব্দুর রহমান বাবুলের নেতৃত্বাধীন একটি সিন্ডিকেট প্রতিটি ডিলারশিপের জন্য ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা নিয়েছে। অর্থের বিনিময়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।
এদিকে ২ নম্বর গৌরীপুর সদর ইউনিয়নের আবেদনকারী ও মেসার্স আরিফ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. নুরুজ্জামান জেলা প্রশাসক এবং জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে নুরুজ্জামান জানান, সরকারের ‘সার নীতিমালা ২০২৬’ অনুসরণ করে তিনি ডিলারশিপের আবেদন করেছিলেন। প্রায় ১৮ বছর ধরে তিনি খুচরা সার বিক্রেতা হিসেবে ব্যবসা করছেন। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক দল ও প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপে অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীদের আবেদন উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটি থেকে বাতিল করা হচ্ছে।
নুরুজ্জামান নীতিমালার ৩.১১ ধারা উল্লেখ করে বলেন, কোনো জনপ্রতিনিধি ডিলার হতে পারবেন না। একই নীতিমালার ৩.১ ধারা অনুযায়ী আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। সব শর্ত পূরণ করেও তিনি বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।
অন্যদিকে, সার ডিলার নিয়োগের তালিকা বাতিলের দাবিতে রোববার কৃষিমন্ত্রী বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ নেতারা। তাঁদের অভিযোগ, তালিকায় অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হাবিবুল ইসলাম খান শহীদ। তিনি বলেন, প্রকাশিত তালিকায় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসন করা হয়েছে। সার ডিলার নিয়োগের তালিকা সম্পর্কে তাঁদের অবহিত করা হয়নি। তালিকা বাতিলের দাবিতে উপজেলা ও পৌর বিএনপির চার শীর্ষ নেতা যৌথভাবে কৃষিমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফিয়া আমীন পাপ্পা বলেন, ডিলার নিয়োগে অনিয়মের বিষয়ে তিনি অবগত নন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ডিলারের তালিকা করেছে।
ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে ১৪ থেকে ১৫ জন আবেদন করেছেন। তাঁদের মধ্যে একজনকে ডিলার হিসেবে নির্বাচিত করায় অন্য আবেদনকারীরা সংক্ষুব্ধ হয়েছেন। নীতিমালা অনুসরণ করেই ডিলার নির্বাচন করা হয়েছে। কেউ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ অভিযোগ করলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
